আরিফের ভাগ্যে আবারও জেল

m1নুরুল হক শিপু :: টানা ১৫ মাস কারাভোগ করার পর ১৫ দিনের জন্য ছিলেন মুক্ত। ঠিক ১৫ দিনের মাথায় ফের কারাগার জুটল তাঁর ভাগ্যে। তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।  সোমবার সকালে তাঁর জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নামঞ্জুর করেছেন সিলেট দ্রুত বিচার আদালত। জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় ফের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে তাঁকে। সোমবার সকাল ১১ টায় আরিফুল হক তাঁর আইনজীবীদের নিয়ে জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানান আদালতের কাছে। দুপুরে ১টায় আদালন তাঁর আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
সিলেট দ্রুত বিচার আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর জানান, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী এএসএম কিবরিয়া হত্যা মামলায় আরিফুল হককে ১৫ দিনের জামিন দেন হাইকোর্ট। তাঁর মৃত্যু শয্যাশায়ী মাকে দেখতে জামিন দেওয়া হয়। সেই জামিনের মেয়াদ বাড়াতে আবেদন জানালে আদালত তাঁর আবেদন নামঞ্জুর করেন। আরিফ নিজের অসুস্থতা এবং তাঁর মায়ের অসুস্থতার বিষয়টি জানিয়ে আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মকবুল আহসান আরিফুল হক চৌধুরীর জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নামঞ্জুর করেন। জামিনের মেয়াদ বর্ধিত না হওয়ায় ফের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে আরিফকে।
১৫ মাস কারাভোগের পর ১৫ দিনের জামিন পেয়ে আরিফুল হক ছুটে আসেন নিজ শহরে মায়ের বুকে। মাকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কান্না করেন তিনি। চিকিৎসাধীন মাকে জড়িয়ে ধরে আরিফ বলেছিলেন, ‘মা আমি মুক্তি পেয়েছি। ভালো আছি। কোনো চিন্তা করো না। তুমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হও।’
গত ২৮ মার্চ সোমবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে নিজের অসুস্থ আরিফ ছুটে আসেন অসুস্থ মায়ের বুকে। গতকাল সোমবার আরিফুল হকের ১৫ দিনের জামিনের শেষ দিন ছিল। তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের জন্য আবেদন করেন। আদালতে প্রায় ১ ঘন্টা বসেই সময় কাটান তিনি। ১ টার দিকে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয় আরিফকে ফের যেতে হবে কারাগারে। এ সময় তাঁর চেহারা মলিন হয়ে পড়ে।
এর আগে আরিফুল হক চৌধুরীর নিজের ও মায়ের অসুস্থতার পরিপ্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে বিস্ফোরক মামলায় জামিন লাভ করেন। হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আতাবুল্লাহ তাঁর ১৫ দিনের জামিন মঞ্জুর করেন। এরও আগে গত ২২ মার্চ হাইকোর্ট থেকে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় ১৫ দিনের জামিন পেয়েছিলেন তিনি। তবে বিস্ফোরক মামলা থাকার কারণে আরিফ মুক্তি পাননি।
১৫ দিনের জন্য মুক্তি পেয়ে আরিফ তাঁর অসুস্থ মাকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদেন। মুক্তি পেয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘মা আমি মুক্তি পেয়েছি। ভালো আছি। কোনো চিন্তা করো না। তুমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হও।’
এ সময় আবেগাপ্লুত ছিলেন মা ও ছেলে। তখন চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি নেতাকর্মী ও উপস্থিত স্বজনেরা। এরপর আরিফুল হক চৌধুরী মা আমিনা খাতুনের পা ছুঁয়ে সালাম করেছিলেন। এ সময় তাঁর চোখ দিয়ে ঝরছিল অশ্রু। ছেলেকে কাছে পেয়ে আমেনা খাতুনও যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছিলেন।
আরিফুল হক চৌধুরী নিজে নিজে হাঁটতে পারেন না। অন্যের সহযোগিতা নিয়ে হাঁটতে হয় তাঁকে। দীর্ঘ ১৫ মাস পর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ডাক্তারি পরীক্ষার পর তিনি সিলেটে এসে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। এখান থেকে আবার তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকা চলে যান। গত বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) পুনরায় কিবরিয়া হত্যা মামলায় হাজিরা দিতে সিলেটের আসেন। এরপর চিকিৎসা নিতে ফের ঢাকায় চলে যান। গতকাল আবার তিনি সরাসরি হাসপাতাল থেকে ডাক্তারের ছাড়পত্র নিয়ে সিলেট এসেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর কিবরিয়া হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের তৎকালীন মেয়র জি কে গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের নাম যোগ করে কিবরিয়া হত্যা মামলার সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। পর দিন আরিফসহ অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করেন আরিফ। এর পর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close