লঙ্কানদের গুড়িয়ে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়

Sakib Al Hasanস্পোর্টস ডেস্কঃ আগের চারবারে হয়নি। এ নিয়ে হতাশা ছিল বেশ। টি২০ ক্রিকেট বলেই নাকি অগোছালো টিম বাংলাদেশ। তবে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে রোববার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে নতুন ইতিহাসই গড়ল মাশরাফি এন্ড ব্রিগেড।
প্রথমে ব্যাট হাতে সাব্বির রহমানের টর্নেডো ইনিংস। সঙ্গে শেষ মুহূর্তে রিয়াদের খণ্ড ঝড়। পরে বল হাতে সাকিব, মুস্তাফিজ, মাশরাফিদের এক সঙ্গে জ্বলে উঠা। সব মিলিয়ে দারুণ এক মুহূর্তের সাক্ষী মিরপুরে আসা দর্শকরা। সঙ্গে গোটা বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গতবারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে ২৩ রানে হারিয়েছে মাশরাফি বাহিনী।
এই জয়ে ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন জোরালো করল টাইগার শিবির। সেই সঙ্গে টি২০ ক্রিকেটে এই প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কাকে হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করল স্বাগতিক শিবির। টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে সাত উইকেটে ১৪৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। জবাবে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১২৪ রান।
লক্ষ্য তাড়া করতে নামা শ্রীলঙ্কা শুরু থেকেই ধুঁকছিল। সেই ধুকধুকানি আরো বেড়ে যেতে যদি সৌম্য সরকার বদান্যতার পরিচয় না দিতেন! প্রথম ওভার বল করতে আসেন তাসকিন। প্রথম বলে রান দেননি। দ্বিতীয় বলে দিনেশ চান্দিমাল ক্যাচ দেন প্রথম স্লিপে থাকা সৌম্যের হাতে। কিন্তু তা লুফে নিতে পারেননি সৌম্য। বেঁচে যান চান্দিমাল। এর খেসারত কিভাবে দিতে হয় বাংলাদেশকে কে জানে।
তবে এর কিছুক্ষণ পরই প্রথম ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন সৌম্য। তৃতীয় ওভারে প্রথম বল করতে আসেন সাকিব আল হাসান। তার করা প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে দেন দিলশান। লং অনে এবার আর ক্যাচ লুফে নিতে ভুল করেননি সৌম্য। ক্যাচটি ছিল দুর্দান্তই। শ্রীলঙ্কার প্রথম উইকেটের পতন।
আগের ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক মাহমুদউল্লাহও ধারাবাহিক ছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ব্যাট হাতে অপরাজিত ২৩ রানের পাশাপাশি লঙ্কান শিবিরে বল হাতেও আঘাত হানেন তিনি। তুলে নিয়েছেন ক্রমশই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা দিনেশ চান্দিমালকে। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে নতুন করে জীবন পাওয়া শ্রীলঙ্কার ওপেনার করেছেন ৩৭ বলে চারটি বাউন্ডারিতে ৩৭ রান।
সাকিবের দ্বিতীয় শিকার ২১ বলে ২৬ রান করা সিহান জয়সুরিয়া। ১৩তম ওভারের শেষ বলে মাশরাফির বলে থিসারা পেরেরার ক্যাচ ফেলে দেন তাসকিন। রেহাই হয়নি পেরেরার। পরের ওভারেই কাটার মুস্তাফিজের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন লঙ্কান এই অলরাউন্ডার।
তাসকিন ক্যাচ মিস না করলে মাশরাফি উইকেট পেতে পারতেন ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারেই। তাতে কী? নিয়ন্ত্রিত বোলিং করায় ফল তো পাবেনই। হ্যাঁ, টাইগার দলপতি সফলতার মুখ দেখলেন নিজের করা তৃতীয় ওভারে। মাশরাফির শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরলেন মিলিন্দা সিরিবর্ধনে। সাব্বিরের তালুবন্দী হওয়ার আগে ৪ বলে ৩ রান করেন লঙ্কান এই ব্যাটসম্যান।
উইকেট দখলের মিছিলে বাদ যাবেন কেন আল-আমিন হোসেন। ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে সাকিবের তালুবন্দী করান তিনি। ২০ বলে ১২ রানের ধৈর্য্যশীল ইনিংস খেলেন মালিঙ্গার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পাওয়া লঙ্কান অধিনায়ক।
এর আগে এশিয়া কাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শূন্য রানেই বিদায় নেন বাংলাদেশ ওপেনার মোহাম্মদ মিথুন। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের এলবিডব্লিউর শিকার হন তিনি। মিথুনের রান শূন্য, দলীয় স্কোরও তাই। দ্বিতীয় ওভারেই বিদায় নেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার। তিনি কুলাসেকারার শিকার। তিন বল খেলে সৌম্যের রানও শূন্য। দলীয় স্কোর তখন দুই রান।
দলের এমন পরিস্থিতিতেও ব্যাট হাতে ঝড়োগতিতে আগাতে থাকেন সাব্বির রহমান রুম্মান। তার সঙ্গে ছিলেন তখন মুশফিক। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই বাজেভাবে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক। নিজের বলে নিজেই মুশফিককে রানআউট করেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। নয় বলে মাত্র চার রান সংগ্রহ তখন মুশফিকের। দলীয় স্কোর ২৬।
এরপর সাকিবকে সঙ্গে করে রানের চাকা দ্রুত ঘুড়াতে থাকেন সাব্বির রহমান। টি-২০ ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি সাব্বির তুলে নেন ৩৮ বলে। তারপরও সাব্বিরের ব্যাট চলছিল ঝড়ের গতিতে। একসময় মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের হয়ে তামিমের করা টি-২০ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৮৮ রানের রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলবেন সাব্বির। তবে হয়নি। ৫৪ বলে ৮০ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন সাব্বির। চামিরার বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে জয়াসুরিয়ার হাতে তালুবন্দী হন সাব্বির। তার দুর্দান্ত ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও তিনটি ছক্কার মার। বাংলাদেশের টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে সাব্বিরের ইনিংস চতুর্থ সর্বোচ্চ। তার উপরে আছে নাজিমুদ্দিন (৮১), সাকিব (৮৪) ও তামিম (৮৮)।
শেষের দিকে দ্রুত রান তুলতে সহায়তা করেছেন আবারো রিয়াদ। তবে এদিন ধীর গতিতে হলেও রানের দেখা পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। ৩৪ বলে ৩২ রান করেন তিনি। তবে ১২ বলে অপরাজিত ২৩ রান করে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হন অধিনায়ক মাশরাফি (দুই বলে দুই রান)। শ্রীলঙ্কার হয়ে চার ওভারে ৩০ রান দিয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নিয়েছেন দুশমন্ত চামিরা। অধিনায়ক ম্যাথুস ও কুলাসেকারা নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close