সুনামগঞ্জে মুকুট যুগের অবসান!

mukut copyঅহী আলম রেজা :: সুনামগঞ্জে মুকুটহীন সম্রাট নুরুল হুদা মুকুট যুগের অবসান হয়েছে। এক সময়ের দাপুটে নেতা এখন ক্ষমতা থেকে যোজন যোজন দূরে। সম্মেলনের আনন্দ ছাপিয়ে সুনামগঞ্জ শহরে এখন সুনসান নীরবতা। বিরোধী বলয় উচ্ছসিত হলেও মুকুট বলয় বিস্মিত। হতাশায় ভেঙ্গে পড়েছেন হাজার হাজার কর্মী- সমর্থক। তারা বলছেন দলের জন্য সারাজীবন কাজ করলেও শেষ বয়সে শূণ্য হাতে ফিরতে হলো। এটা মেনে নেয়া খুবই কষ্টের।
বার বার উদ্যোগ গ্রহনের পর গতকাল অনুষ্টিকত হয় সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন। সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও দুই বলয়ের বিভক্তিও স্পষ্ট হয়ে যায়।  একদিকে সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট, সুনামগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র, জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব বখত জগলুল।
অন্যদিকে মাঠে ছিলেন সুনামগঞ্জ- ৩ আসনের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এম এ মান্নান, সুনামগঞ্জ- ৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শাহানা রব্বানী, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমন।
দলীয় ১৯ বছর পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভারমুক্ত হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী থাকলেও ছিটকে পড়েন নুরুল হুদা মুকুট। এ পদে আসেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমন।
সুনামগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে নুরুল হুদা মুকুট একটি আলোচিত নাম। দলের জন্য যেমন ছিলেন নিবেদিত তেমনি দল, দলীয় নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা সমালোচনার জন্মদিয়েছেন। দলের দুর্দিনে যেমন রাজপথে ছিলেন তেমনি হাওর, জলমহাল, বালুমহালে ছিল একছত্র আধিপত্য। প্রশাসনেও ছিল দাপট।
১৯৯৭ সালের ১৯ মার্চ সম্মেলনের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর পর সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও ১৯ বছরেও তা সম্ভব হয়নি। সম্মেলনের মাধ্যমে পদের পরিবর্তন হওয়ার কথা থাকলেও সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগ যেন নিয়তির হাতেই ছেড়ে দিয়েছিল এ পরিবর্তনের দায়িত্ব। নিয়তি সে দায়িত্ব পালনও করছে। সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুটো পদই এখন তাই চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। কমিটি গঠনের এক বছরের মাথায় সভাপতি আবদুজ জহুর মৃত্যুবরণ করলে দায়িত্ব পান মতিউর রহমান। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান সুনামগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র আইয়ুব বখত জগলুল। তবে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থী দেওয়ান সামসুল আবেদীনের পক্ষে কাজ না করায় শাস্তি হিসেবে পদ হারান জগলুল। দায়িত্ব পান সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট। সেই থেকে অদ্যাবধি ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ। দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়ায় জেলায় নিজেদের ঘরও গোছাতে পারেনি আওয়ামী লীগ। জেলার ১৪টি সাংগঠনিক ইউনিটের ৭টিতেই কমিটি নেই। যে ৭ টিতে কমিটি আছে সেগুলো নিয়েও বিরোধ আছে। সম্মেলনের অভাবে বিভক্তি-কোন্দলও ছড়িয়েছে দলের মাঝে। তবে, সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হওয়ার পর থেকেই নেতাকর্মীদের মাঝে চাঙ্গাভাব ফিরে আসে। সেই সঙ্গে অবশ্য বিভেদের রেখাটাও স্পষ্ট হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষিত নতুন নেতৃত্ব বিভক্তি সামলিয়ে সামনের দিকে পথ চলতে পারবে নাকি পুরনো কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে এটাই এখন দেখার বিষয়। তবে, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন- সুনামগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে নুরুল হুদা মুকুট ফ্যাক্টর। তাকে বাদ দিলে দলের ক্ষতি হবে।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close