অটোরিক্সায় ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি চরমে : যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন

চুক্তিতে চলে ৬২ ভাগ, বকশিস দাবী করে ৮১ ভাগ : পছন্দের গন্তব্যে যায় না ৭৩ ভাগ, মিটার বিহীন চলে ৩৮ ভাগ

Jatri Kollan Somitiঢাকা, ৩১ জানুয়ারী ২০১৬, শনিবার ॥ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের যাত্রী সাধারণের বাহন হিসেবে পরিচিত দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসে নামমাত্র খরচে পরিচালিত সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় মালিক, চালক, সরকার মিলে যাত্রী স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে এক লাফে যাত্রী ভাড়া ৬০ ভাগ বাড়িয়েও এই সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবী করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। আজ ৩১ জানুয়ারী শনিবার দেশের গণমাধ্যমে প্রেরিত এক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ করা হয়। মালিক-চালকদের মনঃপূত ভাড়া কার্যকরের পর “কেমন চলছে অটোরিক্সা?” এই শিরোনামে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপকমিটির সদস্যরা গত ২০ থেকে ২৮ জানুয়ারী সপ্তাহ ব্যাপী রাজধানীর ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে ১০৯৩টি অটোরিক্সায় যাত্রী সেবার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এই সময়ে ১১৬০ জন অটোরিক্সা যাত্রীর সাথে কথা বলে এ প্রতিবেদন তৈরী করা হয়।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত অটোরিক্সার ৬২ ভাগ চুক্তিতে চলাচল করে। মিটারে চলাচলকারী অটোরিক্সার ৮১ শতাংশ ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বকশিস দাবী করে। যাত্রীদের চাহিদার গন্তব্যে যেতে রাজি হয় না ৭৩ ভাগ অটোরিক্সা। এছাড়াও পর্যবেক্ষণকালে প্রাইভেট অটোরিক্সা ভাড়ায় যাত্রী বহন এবং ঢাকা জেলার অটোরিক্সা বেআইনীভাবে ঢাকা মহানগর এলাকায় প্রবেশ করে ৩৮ শতাংশ গাড়ী মিটার বিহীনভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে। পর্যবেক্ষণকালে ঢাকা মহানগরীর সদরঘাট, গুলিস্তান, প্রেসক্লাব, পল্টন, কাকরাইল, দৈনিক বাংলা, মতিঝিল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, খিলগাঁও চৌরাস্তা, ফকিরাপুল, ফার্মগেইট, মালিবাগ, মিরপুর-১০, ধানমন্ডি, এলিফেন্টরোড, শাহবাগ, বিমানবন্দর, মহাখালী এলাকা ঘুরে উপরোক্ত চিত্র দেখা গেছে। এসকল অনিয়ম প্রতিরোধে পর্যবেক্ষণকালীন সময়ে সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত উক্ত এলাকায় বিআরটিএ বা অন্যকোন সংস্থার কোন তৎপরতা চোখে পড়েনি। পর্যবেক্ষণকালে যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, রাত ৯ টার পর এবং সকাল ৮ টার আগে কোন অটোরিক্সা মিটারে চলে না।

এর আগে গত ১ নভেম্বর ২০১৫ইং সিএনজি চালিত অটোরিক্সার বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির সদস্যরা ঢাকা মহানগরীতে গত ১ ও ২ নভেম্বর ২০১৫ দুই দিন ধরে পল্টন, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, গুলিস্তান, মতিঝিল, ফার্মগেট, মহাখালী, মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর রেল ষ্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা পর্যবেক্ষণ করে। এসব এলাকায় প্রায় ২২৫টি অটোরিক্সা চালক ও ২৪৭ জন যাত্রীর সাথে কথা বলে। এতে ১৯৮টি সিএনজি অটোরিক্সা মিটারে চলাচল করছে বলে চালক-যাত্রী প্রতিনিধিদল জানিয়েছে। বাকি ২৭টি অটোরিক্সার ১০টিতে কোন মিটার পাওয়া যায় নি। ১৭টি অটোরিক্সা চালক বা যাত্রীর ইচ্ছায় চুক্তিতে চলাচল করতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য যে, ১ নভেম্বর ২০১৫ জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার দিন নতুন বর্ধিত ভাড়া কার্যকর করায় ঐ দিন মিটার জটিলতা সহ নানা কারণে অর্ধেকেরও বেশি অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ থাকায় পরীক্ষার্থীসহ নগরীর যাত্রী সাধারণ চরম ভোগান্তিতে পড়ে যা যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। এছাড়াও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মিটার চালু করে চলাচল করলেও অধিকাংশ অটোরিক্সা গোপনে চুক্তিতে চলাচল করছে। সরকার নির্ধারিত বর্ধিত দৈনিক জমা ৯০০ টাকা হলেও সিংহভাগ অটোরিক্সার মালিকরা ইচ্ছে মত জমা আদায় করছে বলে চালকরা জানিয়েছে। ৯২ শতাংশ যাত্রীর অভিযোগ অটোরিক্সা চালকরা এখনো যাত্রীদের পছন্দের গন্তব্যে যেতে রাজি হয় না।
পর্যবেক্ষণকালে প্রতীয়মান হয় যে, যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় এই বাহনের সংখ্যা কম। ফলে চালকদের ইচ্ছার কাছে যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাই কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি ভাড়া দিয়েও গোপন চুক্তিতে যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছে যাত্রীরা। অতিরিক্ত দৈনিক জমা ও আনুসঙ্গিক খরচের পুরোটাই যাত্রীদের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগে জানান।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close