এমসি কলেজের ৯০ ব্যাচের বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী

এমসি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হোক …. সাবেক অধ্যাপক হাসান ওয়ায়েজ

SYLHET MC COLLEGE 90 BATCH PIC 8-1-16সিলেট এমসি কলেজের এইচএসসি ব্যাচ ১৯৯০ এর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। এমসি কলেজের শহীদ মিনার থেকে সকাল ৮টায় র‌্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হয় পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠান। পরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ হাসানুজ্জামান শ্যামলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শুরু হয় নগরীর রোজভিউ হোটেলে। ১৯৯০ ব্যাচের চমন আফরোজ চৌধুরী ও আহমদ জিননুন দারার পরিচালনায় প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমসি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক হাসান ওয়ায়েজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এমসি কলেজের ১৯৯০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় আমি আপ্লুত। ৯০ ব্যাচের প্রত্যেক শিক্ষার্থী আজ নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। এটা দেখে আমি গর্ব বোধ করি।
তিনি ১৯৯০ সালের কথা স্মরণ করে বলেন, ওই সময় আমার শিক্ষার্থীরা যেরকম সুশৃঙ্খল আর নিয়মানুবর্তী ছিল, আজও তাদেরকে একইরকম দেখতে পাচ্ছি। আমার শিক্ষার্থীরা, আমার সন্তানরা মানুষের মতো মানুষ হয়েছে, এটা অনেক বড় গর্বের বিষয়।
তিনি বলেন, এমসি কলেজ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপীঠ। এ বিদ্যাপীঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি। আমি একজন সাবেক অধ্যক্ষ হিসেবে এমসি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ব্রজেন্দ কুমার দাস, অধ্যাপক পরিমল দেব, অধ্যাপক শ্রীনিবাস দে, অধ্যাপক নিরঞ্জন চন্দ্র পাল, অধ্যাপক তপন কান্তি ধর, অধ্যাপরক নজরুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক সুফিয়া খানম, অধ্যাপক সুধাংশ শেখর তালুকদার, অধ্যাপক আহমদ হোসেন, অধ্যাপক নিতাই চন্দ্র চন্দ, অধ্যাপক হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি। প্রথম পর্বে তাদেরকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে কোরআন তেলওয়াত করেন সাব্বির আহমদ, গীতা পাঠ করেন দুলন কুমার তরফদার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এমসি কলেজের এইচএসসি ব্যাচ ১৯৯০ এর মুখপাত্র আমিরুল হোসেন খান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা জজ কোর্টের এডিশনাল পিপি এডভোকেট শামসুল ইসলাম, প্রবাসী ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হাবিব, শেখ লুৎফুর রহমান লিটন, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সহযোগি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ মঈন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ডা. মো. নূরুল হুদা নাঈম, সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. লুৎফুর রহমান, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. মো. মঈন উদ্দীন, শাহরিয়ার চৌধুরী, মোস্তফা কামাল খান, ডা. জুবায়ের আহমদ সুফী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ১৯৯০ ব্যাচের প্রয়াত শামসুল হক সর্দার, হাফিজুর রহমান ও সুহেল আহমদসহ এমসি কলেজের প্রয়াত সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযুদ্ধে এমসি কলেজের শহীদ ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানের এ পর্বে ১৯৯০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের লেখা নিয়ে ‘জারুলতলা’ নামক সংকলনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দিয়ে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল স্মৃতিচারণ, ভবিষ্যত করণীয় সম্পর্কে আলোচনা, ১৯৯০ ব্যাচের সেরা মুখ নির্বাচন, র‌্যাফেল ড্র। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close