নগরীর রিকশা লেন নিয়ে পুলিশ-সিটি করপোরেশন দন্দ

Sylhet Footpathসুরমা টাইমস ডেস্কঃ গত ২৫ জুন সিলেট চেম্বারে এক মতবিনিময় সভায় সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান বলেছিলেন, ‘নগরীতে রিকশার লেন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এখন লেনের শিকল পর্যন্ত বেদখল হয়ে গেছে। বিভাগীয় আইন শৃংখলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে-রমজানের আগেই এই শিকল তুলে ফেলবে সিটি কর্পোরেশন।’
১৪ রমজান পেরোতে চলছে। এখনো তুলে ফেলা হয় নি নগরীর কয়েকটি সড়কে নির্মিত রিকশা লেন। লেন তুলে ফলার বদলে বরং এনিয়ে সিটি করপোরেশন ও পুলিশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
বুধবার সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে বলেন, রিকশা লেন তুলে ফেলার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু এটি তো হঠ্যাৎ করে তুলে ফেলা যায় না। মেয়র সাহেব এটি তৈরি করেছিলেন। আমরা রিকশা লেনকে সচল করার চিন্তা করছি।
বুধবার সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, মঙ্গলবার জেলা প্রশসকের কার্যালয়ে বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমরা সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ করেছিলাম রিকশা লেন তুলে দিতে, তারা রাজী হননি। কিন্ত এটি পরিচলানার জন্য যথেষ্ট লোকবল আমাদের নেই। তাই সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ করেছি, তারা নিজস্ব লোকবল নিয়োগ দিয়ে এটি সচল রাখতে। রিকশা লেন থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করে দিতে তাদের বলেছি।
নগরীর রিকশা লেন নিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) ও সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এর এই মতবিরোধের ফলে অব্যবস্থাপনায় পোয়াবারো হয়ে উঠেছে হকারদের জন্য। রিকশা চলাচলের জন্য তৈরি রিকশা লেনের পুরোটা দখল করে ব্যবসা খুলে বসেছে ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীরা। ফলে রিকশা লেন দিয়ে রিকশা চলাচল করতে পারছে না। এতে সৃষ।টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। এই রমজানে যা অসহনীয় রুপ ধারন করেছে। দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের শুরুর দিকে ক্রিকেট বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রথমে নগরীর সুরমা পয়েন্ট থেকে সিটি পয়েন্ট পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে রিকশা লেন চালু করা হয়েছিল। দুই সপ্তাহ পর সেই লেন স্থায়ী রূপ পায়। এরপর পোস্ট অফিস থেকে সিটি পয়েন্ট ও সুরমা মার্কেট পয়েন্ট পর্যন্ত এবং সিটি পয়েন্ট থেকে কোর্ট পয়েন্ট পর্যন্ত রিকশা লেন সম্প্রসারিত করা হয়।
সে সময় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রিকশা লেন দিয়ে রিকশা চলাচল নির্বিঘ্ন করতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো নিরাপত্তারক্ষী। আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র পদ থেকে বহিস্কৃত ও কারান্তরীন হওয়ার পর তুলে নেওয়া হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। এরপর থেকেই বেহাল রুপ ধারন করে রিকশা লেন।
যা এখন রিকশা লেনের বদলে হকার পুণবার্সন লেন হয়ে উঠেছে। রমজান মাস শুরুর হওয়ার পর থেকে রিকশা লেনে আরো ঝেঁকে বসেছে হকাররা। এখন রিকশা চলাচল তো দূরের কথা, রিকশা লেন দিয়ে পথচারীদের হেঁটে চলাও দায় হয়ে উঠেছে।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close