কমলগঞ্জের দুই ব্যবসায়ীকে অচেতন করে সর্বস্ব লুট : ৭ দিনেও কোন থানা মামলা নেয়নি

image_25938কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বাজারের দুই কাপড় ব্যবসায়ী ঢাকার নরসিংদীর বাবুর হাট থেকে ফেরার পথে প্রতারক চক্র অচেতন করে সর্বস্ব লুটে নিয়েছে। অজ্ঞান দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধারকৃত স্থানের সীমানা নিয়ে গত ৭ দিনেও বাহুবল ও নবীগঞ্জ থানা মামলা নেয়নি। গত ১২ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
শমশেরনগর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী বদরুল ইসলাম ও কুদ্দুছ মিয়া শুক্রবার বিকেলে এ প্রতিনিধিকে জানান, গত ১২ জুন বাবুরহাট থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা মুল্যের দুই বান্ডিল কাপড় কিনে ঢাকা-শমশেরনগর পথে চলাচলকারী বাস তাজ পরিবহন এর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় একটি পিকআপ (ঢাকা মেট্রা-১১-০০৬৫) এর চালক এসে কুলাউড়া যাবার কথা বলে এবং তাদেরকে শমশেরনগর নামিয়ে দিবে বলে পিকআপে তুলে। পরে হবিগঞ্জ জেলার জগদীশপুর মুক্তিযুদ্ধা চত্ত্বর এলাকায় আসার পর পিকআপের হেড লাইট মেরামতের নাম করে চালক ও হেলপার ঘন্টা খানেক সময় অতিবাহিত করে। পরে সময় নষ্ট করার অুজহাত দেখিয়ে প্রতারকরা ব্যবসায়ীদেরকে ফ্রুটো পানীয় ও সিগারেট পান করায়। কিছুক্ষণ পর তারা অজ্ঞান হয়ে পড়লে প্রতারক চালক ও হেলপার দুই বান্ডিল কাপড়, দু’টো মোবাইল ফোন ও নগদ ৪৫ হাজার টাকা লুটে নেয়। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানি উমদা এলাকায় তাদেরকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে ব্যবসায়ী বদরুলের ভাই নজরুল রোববার সকালে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আক্রান্ত দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ব্যবসায়ী বদরুল জানান, একদিন পর তারা সুস্থ্য হয়ে পিকআপের নম্বর নিয়ে প্রথমে হবিগঞ্জের বাহুবল থানায় গেলে থানা মামলা নেয়নি। বাহুবল থানা কর্তৃপক্ষ জানায় মামলাটি নবীগঞ্জ থানায় করতে হবে। আর নবীগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষ জানান এটি বাবুরহাট থানায় করতে হবে। দুই থানা কর্তৃপক্ষের টানা হেচড়ায় গত ৭ দিনেও মামলা নেয়নি কোন থানা পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে মোবাইল ফোনে বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশররফ হোসনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আক্রান্ত ব্যবসায়ীদের নবীগঞ্জ উপজেলার পানি উমদা ইউনিয়ন এলাকায় পাওয়া যায়। তাই এ মামলাটি নবীগঞ্জ থানায় করতে হবে। অপরদিকে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, আসলে দুই ব্যবসায়ী বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছিল তাই তাদেরকে বাহুবল থানায় মামলা করতে হবে।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close