জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ শীর্ষে : ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি ঢাকায় ইউএন পিস অপারেশনস’র সভা

United Nationনিউইয়র্ক থেকে এনা: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ ২০১৪ সালে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ৯ হাজার ৪০০ জন শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ১০টি শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত আছেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে মোমেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি রক্ষা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় প্রত্যয় এবং এ লক্ষ্যে জাতিসংঘের আহবানের প্রতি তার দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেয়ার কারণে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধানে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘকে সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। এরই আলোকে বর্তমান সরকার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে জোরদার করেছে। বাংলাদেশ বর্তমানে অন্যতম শীর্ষ পুলিশ ও নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশও। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত বিশ্বের ৩৯টি দেশের ৫৪টি শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়েছে। এসব মিশনে ১ লক্ষ ২৭ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষী অংশগ্রহণ করেছেন। বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে “ব্লু হেলমেট” হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানব কল্যাণে সাড়া দেয়ার পাশাপাশি শান্তিরক্ষীদের বিশ্ব সম্প্রদায়ে কাজ করার মতো দক্ষতা অর্জন করেছেন। তারা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশের রয়েছে বিশ্বমানের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। তাঁরা “মডেল শান্তিরক্ষী” হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সম্মেলনে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও রুয়ান্ডার সাথে যৌথভাবে “শান্তিরক্ষায় উচ্চ পর্যায়ের শীর্ষ সম্মেলন” আয়োজন করেছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকার প্রধানগণ অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ শান্তিরক্ষায় সকল অংশীদারীর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আগামী ২০-২২ জানুয়ারি ঢাকায় “সেক্রেটারী জেনারেল’স হাই-লেভেল ইনডিপেনডেন্ট প্যানেল অন ইউএন পিস অপারেশনস” এর এশীয় আঞ্চলিক কনসালটেশনের প্রথম সভার আয়োজন করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের হাই লেভেল প্যানেল সভাপতি, নোবেল বিজয়ী এবং তিমোর লেসবের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস হোরটা যৌথভাবে প্যানেল সদস্যদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ২০ জন প্যানেল সদস্যের পাশাপাশি ৩১টি দেশের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেবেন।
বাংলাদেশ শান্তিরক্ষায় নতুন প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি সামান্থা পাওয়ারের এক সাম্প্রতিক বক্তব্যে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রার কথা প্রতিধ্বনিত হয়েছে। বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করে সামান্থা বলেছেন, “বাংলাদেশ ইতিমধ্যে শান্তিরক্ষার ক্রম অগ্রসরমান কার্যক্রমকে স্বীকৃতি দিয়ে বিবদমান এলাকায় বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করে তা শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close