রাজনগরে যাত্রার নামে নগ্ন নৃত্য ও রমরমা জুয়ার আসর

আয়োজকরা বললেন মন্ত্রীর অনুমতি থাকলে জেলা প্রশাসকের লাগেনা!!!

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ইসলামপুরে গত ক,দিন ধরে জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া যাত্রার নামে নগ্ন নৃত্য ও রমরমা জুয়ার আসর অব্যাহত থাকায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ধর্মপ্রান মুসল্লি সহ স্থানীয় এলাকার হাজার-হাজার মানুস প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্নস্থানে সভা-সমাবেশ সহ জেলা প্রশাসনের সর্বস্থরে এসব বন্ধের দাবীতে স্বারক লিপি প্রদানের পরও প্রশাসন থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন না করায় ক্ষমতাসীন সরকারের ভাবমুর্তি মারান্তক ক্ষুন্ন হচ্ছে। গত ১৩ নভেম্বর ফতেপুর ইউপি অফিস প্রাঙ্ঘন সহ ১৬ নভেম্বর আব্দুল্লাপুর বাজারে এসবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ-মিছিল ও সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। পত্র/পত্রিকায় প্রতিদিন লেখালেখি হচ্ছে কিন্তু কিছুতেই টনক নড়ছেনা স্থানীয় প্রশাসনের। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর ভাই লিয়াকত আলীকে ম্যানেজ করে স্থানীয় আওয়ামীলিগ নেতা-কর্মীদের মতামতকে অপেক্ষা করে আয়োজকরা এসব অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করে আসলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। এ নিয়ে খোদ স্থানীয় আওয়ামীলিগ সহ উপজেলা আওয়ামীলিগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। আয়োজক কমিঠি সাংবাদিক সহ এলাকাবাসীর সাথে একরকম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ক্রমান্বয়ে অশ্লীলতার মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।বিষয়টি সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ সহ মোবাইল ফোনে প্রশাসনের সকলস্থরে অবগত করলেও প্রশাসন থেকে বলা হয় তাদের হাত-পা বাধা কিছুই করার নেই। রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নাজিম উদ্দিন সাংবাদিকদের তার কাছে ফোন না দিয়ে পত্রিকায় লেখার অনুরুধ করেন।এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়,উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের চিহ্নিত জুয়াড়ী সুফিয়ান মিয়া প্রতিবছর একইস্থানে যাত্রা ও জুয়ার আসর সাজিয়ে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছেন।এলাকার কেউ এর প্রতিবাদ করলে তাকে জড়িয়ে দেয়া হয় বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমায়।তাই গ্রামের সবাই তার বিরুদ্ধে টু-শব্দ করার সাহস করেনা। গত সোমবার রাত জেলার কয়েকজন সাংবাদিক সরেজমিন ইসলামপুর যাত্রা প্যান্ডেলে গেলে নগ্ন নৃত্যের দৃশ্য দেখে চোখ বন্ধ করে সাংবাদিকদের বেরিয়ে আসতে হয়।প্যান্ডেলের বাহিরে এসে কথা হয় আয়োজক কমিঠির সভাপতি সুফিয়ান মিয়ার সাথে।তিনি বীরদর্পে সাংবাদিকদের জানালেন,প্রতিরাতে মন্ত্রীর ভাইয়ের কাছে দেড় লক্ষ টাকা যায়।তিনি ডি আই ও ওয়ান সহ জেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেন,আর থানা ম্যানেজ করেন তিনি নিজেই।মুসল্লিদের মিছিল-সমাবেশ ও স্বারক লিপিতে তাদের কিছু অতিরিক্ত টাকা খরছ হয়েছে।তার এ আসর বন্ধ করার ক্ষমতা কারো নাই। জেলা প্রশাসকের অনুমতি আছেকিনা সাংবাদকরা সুফিয়ান মিয়াকে প্রশ্ন করলে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি পালটা প্রশ্ন করে বলেন ,মন্ত্রীর অনুমতি থাকলে সেখানে জেলা প্রশাসক কে?সাংবাদিকরা তার এসব কথাবার্তা মোবাইলে ধারন করে সেখান থেকে চলে আসেন। এ ব্যাপারে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর মোবাইলে কয়েকদফা ফোন দিয়েও মন্ত্রীর সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।ফতেপুর ইউপি আওয়ামীলিগের সভাপতি হাজী কাপ্তান মিয়া জানান, যাত্রার আয়জক সুফিয়ান মিয়া মন্ত্রীর ভাইকে টাকা দেওয়ার তথ্যটি বানোয়াট হবে।তিনি বলেন আমি নিজে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর ছোট ভাই মোস্তাক মিয়াকে দিয়ে রাজনগর থানার ওসিকে এসব বন্ধের সুপারিশ করেছি,কিন্তু ওসি অজ্ঞাত কারনে তা করছেননা।তিনি সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে ও বিষয়টি অবগত করেছেন বলে জানান।রাজনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আওয়ামীলিগ নেতা ফারুক আহমদ জানান,ক,দিন ধরে আমরা মিছিল-মিঠিং করে এসবের প্রতিবাদ করে আসছি,কিন্তু প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।তাই আজকালের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব বন্ধ করা না হলে এলাকাবাসী কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।রাজনগর উপজেলা আওয়ামীলিগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিছবাহুদ্দোজ্জা ভেলাই জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় এলাকাবাসীর কাছে সরকারের ভাবমুর্তি মারান্তক ক্ষুন্ন হচ্ছে।ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান লয়লুছ জানান,মন্ত্রী অনুমতি দিলে সেখানে আমাদের কিছুই করার নাই।তিনি যাত্রার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন,এলাকার যুবসমাজ লক্ষ-লক্ষ টাকা ব্যায়ে এসবের আয়োজন করেছে,তাই কয়েকদিন করে বন্ধ করে দেবে।তিনি এসব নিয়ে পত্রিকায় না লেখার জন্য সাংবাদিকদের অনুরুধ করেন। মৌলভীবাজার অনলাইন সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি বিডি নিউজ একাত্তরের প্রধান সম্পাদক এম,এ,হাকিম জানান,আমার এলাকায় এসব অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে জেনে জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চান,কিন্তু কি করব যারা এসব বন্ধের দায়ত্বে আছে তারা নাকে তৈল দিয়ে ঘুমে।কিছু লিখতে গেলে রাতে ঘুমাতে পারবনা।বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে,

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close