বিলীন হওয়ার পথে কানাইঘাট মুলাগুল বাজার

অবৈধ ভাবে নদীর পার খুঁড়ে পাথর উত্তোলন

NEWS PIC (1)কানাইঘাট প্রতিনিধি: লোভাছড়া পাথর কোয়ারীর পাশে অবস্থিত মারাত্মক নদী ভাঙ্গন কবলিত কানাইঘাট মুলাগুল বাজার ও তার আশপাশ এলাকা থেকে শক্তিশালী শেলো মেশিনের সাহায্যে মাটি খুঁড়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এলাকার পাথর ব্যবসায়ী নামধারী একটি চক্র বারকী শ্রমিকদের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে লোভা নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে মুলাগুল বাজার ও সাউদগ্রাম এলাকা থেকে শেলো মেশিনের সাহায্যে মাটি খুঁড়ে গভীর গর্ত সৃষ্টি করে দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার ঘনফুট পাথর উত্তোলন করে আসলেও এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ােভের সৃষ্টি হয়েছে। সরজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, মুলাগুল বাজারটি এমনিতেই প্রতিবছর লোভার ভাঙ্গনে অধিকাংশ দোকানপাট ও পার্শ্ববর্তী সাউদগ্রামের বেশির ভাগ বাড়িঘর ও ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মুলাগুল বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী নদী ভাঙ্গনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে বরাবরে বহু আবেদন-নিবেদন করার পর এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। সম্প্রতি পানি উন্নয়নবোর্ডের উদ্যোগে মুলাগুল বাজারকে রা করার জন্য ব্লক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ যখন প্রক্রিয়াধীন ঠিক তখনই পাথর খেঁকো নামধারী ব্যবসায়ীরা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা থেকে বড় বড় গর্ত তৈরি করে শেলো মেশিনের সাহায্যে পাথর উত্তোলন করায় জনমনে ােভের সৃষ্টি হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, অদ্যবধি অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের প থেকে কোন ধরণের পদপে গ্রহণ না করায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পাথর খেঁকো চক্রটি। ভাঙ্গন কবলিত মুলাগুল বাজার এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনরত কয়েকজন বারকী শ্রমিকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, পাথর ব্যবসায়ী আব্বাস উদ্দিন, কামাল হাজী সহ কয়েকজনের নির্দেশে তারা মেশিনের সাহায্যে পাথর উত্তোলন করছেন। বিনিময়ে তারা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। এ ব্যাপারে পাথর ব্যবসায়ী কামাল হাজীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, গত বছর তিনি ভাঙ্গন কবলিত মুলাগুল বাজারের পাশে ৩০ হাজার ফুট পাথর মজুদ করে রেখেছিলেন। বন্যার কারণে সে বছর পাথর সরাতে না পারায় বর্তমানে মাটি খুঁড়ে পাথর সরিয়ে নিচ্ছেন। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তিনি নিজেও মুলাগুল বাজারটি মারাত্মক নদী ভাঙ্গন কবলিত বলে স্বীকার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছক কয়েকজন পাথর ব্যবসায়ী ও বারকী শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তমিজ উদ্দিন মেম্বারসহ মূলত কয়েকজন পাথর ব্যবসায়ী কোয়ারী এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বারকী শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছে মর্মে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এদিকে লোভাছড়া পাথর কোয়ারীর নির্ধারিত রয়েলটি আদায়ের ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, রয়েলটি সংগ্রহের কাজে কোন সরকারী কর্মচারী নেই। স্থানীয় আহমদ হোসেন রয়েলটি আদায় করছেন। এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, রয়েলটি আদায়ের টাকাগুলো তিনি তমিজ উদ্দিন মেম্বারের কাছে দিয়ে থাকেন। ভাঙ্গন কবল এলাকা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি জানতে চাইলে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন-এ ব্যাপারে পূর্বে তিনি কোন অভিযোগ পাননি। তিনি বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close