বাংলাদেশে মেট্রোরেল এবং প্রয়োজন প্রসঙ্গ

ইঞ্জিনিয়ার মীর্জা শামীম হাসান

engr mirzaসেই গানটার সুর মনে পড়ে আমার , “ পিচ ঢালা এ পথটাতে আমি চলেছি সাথেসাথে মনটারে বেঁধে রেখেছি। “ গ্রামের সেই পথ ছেড়ে ঢাকার পাকা করা রাস্তায় চলবার এক স্বর্গীয় অনুভূতি। আজকে আমাদের রাজধানীতে কতো প্রস্স্ত রাস্তার আর মাঝেমাঝে ব্রিজ , বিশেস করে রামপুরার হাতিরঝিল প্রকল্প অস্বাধারণ দশর্নীয় স্থান। আমাদের ঢাকা শহর তথা সমগ্র বাংরাদেশ হয়তোবা আরও সুন্দর , ছন্দময় , আকষর্নীয় হতে পাড়তো যদি নির্মাণ দপ্তরের কোণেকোণে কিছুটা স্বজনপ্রীতি, আর ভাইরাস না থাকতো। যা হোক ঢাকা শহর তথা সমগ্র বাংলাদেশে যাতায়াত সুকিধার জন্য মেট্রেরেল নিয়ে বেশ কথা বলা যায়। কেননা জনসংখ্যা ‍বৃদ্ধিতে যতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নে দিনদিন আমাদের ফ্রাইওভার নির্মাণের প্রয়োজন হচ্ছে এং কাজ ও চলছে। আর তারই সূত্রপাতে মেট্রোরেলের উপড় কিছুটা আলোচনা বরা যায়। তবে বাংলাদেশে যেহেতু ঢাকায় জনসাধারণের ভীড় বেশী তাই প্রসঙ্গটা এখান থেকে শুরু করলে ভালো হয়। তবে আহে থেকেই একটি কথা বলে নেয়া ভালো বগুড়া থেকে ঢাকা সরাসরি কোন রেল নাই। এটা করা সব থেকে প্রয়োজন।

মেট্রোরেল কেনো প্রয়োজন এবং কিভাবে তা স্থাপনা করলে মানুষের উপকার হবে তা নিয়ে বলা প্রথম কাজ। প্রথম, উত্তরে বলবো ব্যস্ততায় যাতায়াত আরো দ্রূত ও স্বাচ্ছন্দ হবে আর এধরনের কিছু দেশের মাঝে থাকলে সৌন্দর্যের ও একটা আলাদা আকষণ থাকে। কেনো আর কিভাবে স্থাপনা করলে যুক্তিযুক্ত হবে তা উল্লেথ করতে বেশ বড়ো ধরনের একটি কেস স্ট্যাডির প্রয়োজন হবে। বানিজ্য প্রয়োজন, আত্মীয় স্বজনের স্যাখ্যাৎ , হাতপাতাল , দাপ্তরিক কাজ , উদ্দেশ্যহীন ভ্রমন, মালামাল বহন ইত্যাদি নানান কাজে মানুষ প্রতি নিয়ত এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটছে। এর সীমানা কখনো একটি এলাকা, শুধু ঢাকা বা সমগ্র দেশ হতে পারে। এখানে এ যাতায়াতটা সমস্ত ঢাকা এবং আশেপাশের এলাকা হিসেব করতে হবে।
প্রথমে , সমগ্র এলাকাকে আংশিক ভাবে কিছু কিছু এলাকাতে ভাগ করে নেয়া যাক। ঢাকার ভেতরে যদি স্টপিস বাগ করি তাহলে গেনডারিয়া, সুত্রাপুর, কতোয়ালী, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ী, বংশাল থেকে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, আদাবর, দারুস্সালাম, শাহারাস্তী, মিরপুর, পল্লবী হয়ে তুরাগ। এদিকে উত্তরা, এয়ারর্পোট, ক্যান্টমেন্ট, গুলশান দিয়ে সুজবাগ ও ঢেমরা। এ নাম গুলোর মাঝে আরো গুরুত্বর্পূণ স্টপিস আছে। প্রতিদিন মার্কেট , চিকিৎসা, আড্ডা, ব্যবসা কাজে মানুষ আসা যওয়া করে। এদিনে রাস্তার আছে ভালো, লোকাল বাস আছে। তবে যে রাস্তার আছে তার মাঝে মেট্রোরেল বসিয়ে দিয়ে লাভ নাই ভালো ফল পাওয়া যাবে না। সঠিক ট্রাফিক আইন এবং নিয়ন্ত্রণই এসব এলাকার চলাচলের স্বাচ্ছন্দ্য আসবে। তবে এখান থেকে আকাশপথে দিয়ে কিছু কিছু ট্রাফিক স্টপিজে থেকে বেশ কিছুটা দূরে সংযোগ করে দিলে একটা ভালো ফল আশা করা যায়। সে প্রসঙ্গে পরে আসছি।
দ্বিথীয়ত , ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার কথা বরা যাক। ঢাকা জেলা থেকে মানিকগঞ্জ, গাজীপুর জেলায় সাভার উপজেলা থেকে ধামসোনা ইউনিয়ন, সিমুলিয়া ইউনিয়ন, কোনাবাড়ী ইউনিয়ন। এদিকে যোগাযোগে 180 ফিট ঢাকা বাইপাশ রোড আছে যা দিয়ে গাজীপুর সদর ইউনিয়ন , নরসিংদি জেলায় পলাশ উপজেলা, রূপগঞ্জ, থেকে কাঁচপুর। তারপরে আশে নারায়নগঞ্জ জেলা থেকে রিজিওনাল হাইওয়ে, মুনসিগঞ্জ জেলা, ঢাকা-মাওয়া-খুলনা হাইওয়ে।
এসব রাস্তায় প্রতিদিন ট্রাক, বাস , কার, ট্যাস্কি ব্যপক আসা যাওয়া চলে । তরিতরকারী, চাল, আলু এবং বিভিন্ন কম্পানির খাদ্য দ্রব্য পরিবহন করা হয়।
এসব এলাকার সাথে যদি সাত, দশ, বিশ কিলোমিটার পরপর স্টেশন দিয়ে বৃহদাকার তিন বা পাঁচটি বগি দিয়ে মেট্রোরেল করা যায় তাহলে যারা শুধুমাত্র দাপ্তরিক কাজ , কেনাকাটা এবং চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা সহজ হবে। তাহলে প্রায় আনুমানিক এদিকের 60 শতাংশ মানুষ দ্রূত এবং ঝামেলা বিহীন যাতায়াত করা যাবে। আর এটা যদি 11 মিটার উচ্চতায় একটি উর্ধ্বমুখী সিঁড়ি করে দেয়া যায় তাহলে সরাসরি চোখের পলকে দূরদূরান্ত থেকে চরে আশা যাবে। থাকবে না কোন জ্যাম , সময় নস্ট হবার আশংকা। আমাদের দেশের জন্য এগুলো মাত্র চারটি থেকে ছটি যদি উক্ত এলাকার জন্য স্থাপনা করা হয় তাহলে জোর গলায় বলা যায় অনেক সুন্দর এবং দ্রূত যোগাযোগের একটি মাধ্যম হবে। আর বাংলাদেশের সৌন্দয বধর্নে এটি শে ভালো একটি নির্মাণ হবে।
এগুরো যদি বাস থেকে হালকা আর বৃহৎ করা যায় তাহলে তো আরো ভালো । নির্মাণ ব্যয় যা হোক না কেনো সব থেকে আনন্দের কথা এগুলো বিদ্যুৎ দিয়ে চালানো যায়। কোন কালো ধূঁয়া তো হবেইনা এবং কম খরচে লম্বা যার্নি করা যাবে চিন্তা মুক্ত ভাবে।
অসুবিধার কথা যদি লা হয় তাহলে প্রথমে বরতে হয়, যেকোন কিছু ভালো বা উপকারী কাজ করার পেচনে হাজার হাজার সমস্যা লুকিয়ে থাক্ কেননা, একটি সাধারন ও সত্য কথা হলো , মানুষের মনেই বসবাস করে শয়তান যারা প্রতিনিয়ত মানুষকে বিপথগামী করতে চেস্টা করে। এটা একটি সমস্যা। আর সমস্যা হলো আমাদের দেশে এর নির্মাণ ব্যয় ও নির্মাণ শ্রমিক। অবশ্যই এ জন্য সুজন এবং ভালো প্রকৌশলী প্রয়োজন। কাজে যাবার আগে সব থেকে বেশী প্রয়োজন সমগ্র প্রজেক্টটা মনের মাঝে আয়ত্ব করা। নির্ভূল নকশা, ব্যয় ভার, শ্রমিক এবং প্রয়োজনে অত্যধুনিক বৈঞ্জানিক পদ্ধতিক বৈদেশিক সহমর্মিতা নেয়া যেতে পারে। আমি জোর করে বলতে পারি ঢাকা থেকে গাজীপুর সদর ইউনিয়ন , নরসিংদি জেলায় পলাশ উপজেলা, রূপগঞ্জ, থেকে কাঁচপুর। তারপরে আশে নারায়নগঞ্জ জেলা থেকে রিজিওনাল হাইওয়ে, মুনসিগঞ্জ জেলা, ঢাকা-মাওয়া-খুলনা হাইওয়ে তে ফ্লাইওভার না করে যদি এমন ধরনের মেট্রোরেল করা যায় তবে অসুবিধার থেকে সুবিধা বেশী । তবে ব্যবহার অভ্যসে কিছুটা সময় তো প্রয়োজন হবে। আমাদের বাংলাদেশ হবে অনেক সুন্দর, বিপদ ও ঝামেলা মুক্ত তে আশা কাজ করতে হবে অন্তরে দেশ প্রেম রেখে। যাতে কোন স্বজনপ্রীতি বা মিথ্যাচার থাকবে না। ভালো প্রকৌশলীএবং স্থপতিদের কাজের সুযোগ দিতে হবে কোনধরনের নাটকীয় অবস্থাছাড়া।

ইঞ্জিনিয়ার মীর্জা শামীম হাসান।
(বি.এস.সি. সিভিল, স্ট্রাকচার ও ট্রান্সপোর্ট)
প্রকৌশলী নম্বর আই.ই.বি ১৪৮৪৫

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close