তাহিরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় ২৫৯ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা পাল্টি মামলা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সদরে দু’গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় উভয় গ্রামের পক্ষ্য থেকে ২৫৯ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা পাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার বীরনগর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র নুর হোসেন বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার ভোর রাতে হামলা ভাংচুর লুটপাঠ এবং জখমের ঘটনায় জয়নগর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের পুত্র মোহাম্মদ আলী সহ ১৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে শনিবার রাতে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে জয়নগর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের পুত্র মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরনগর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র নুর হোসেন সহ ১০২ জনের নাম উল্ল্যেখ করে গতকাল রবিবার দুপুরে থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে পুলিশী গ্রেফতার আতংকে মামলা দায়েরর পুর্ব থেকেই দু’গ্রাম পুরুষ শুণ্য হয়ে পড়েছে ।
উল্ল্যেখ যে, উপজেলা সদর ইউনিয়নের বীরনগর ও জয়নগর গ্রামের দু’পক্ষের প্রভাবশালী লোকজনের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার হামলা পাল্টা হামলা ও লুটপাঠের ঘটনা ঘটে। উপজেলা সদর ইউনিয়নের বীরনগর ও জয়নগর গ্রামের লোকজনের মধ্যে বেশকিছু দিন পুর্বে পার্শ্ববর্তী হাওরে ছাই দিয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে বীরনগর গ্রামের আলকু মিয়া, নুরহোসেন, ছালাম পক্ষদ্বয়ের আজিজ মিয়ার ধানের মিল ঘর , প্রবাসী সাজিদুর রহমান সহ বেশ কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়িতে গিয়ে প্রতিপক্ষের স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল, রবিউল্লাহ ও মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে গত বৃহস্পতিবার ভোরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাঠ চালায়। হামলা করে ধান চাল ও ঘরের স্বর্ণালংকার লুটপাঠ করে নিয়ে যাওয়া ছাড়াও ব্যাপক ভাংচুর ও তান্ডব চালায়। এ নিয়ে গোটা এলাকাজুড়ে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকায় চরম আতংক বিরাজ করছে। নিরাপক্তা জোরদার করতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধা থেকেই ঐ গ্রামে দু’প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উভয় পক্ষের লোকজন ফের সংঘর্ষ ঘটাতে নিজেদের বলয়ে বহিরাগত পেশাদার সন্ত্রাসীদের এনে জড়ো করছে।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, যে কোন ধরণের অপতৎপরতা, সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঠেকাতে দু’প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এছাড়া খারাপ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িতদের ধরিয়ে দিতে জনগণের সহযোগীতা চাওয়া হয়েছে।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close