এতিম শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা : অতঃপর চরিত্রহীনা অপবাদ দিয়ে মারপিট

rapedসুরমা টাইমস ডেস্কঃ ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া এক এতিম শিশু শিক্ষার্থী (১২) কে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর উল্টো শিশুটিকে নষ্টা অপবাদ দিয়ে মারপিটও করা হয়েছে। এছাড়াও অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে শিশুটি ও তার মাকে বাড়ি ছাড়া করতে তৎপরতা চালাচ্ছে এলাকার কতিপয় মাতব্বর। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর জেলার বদরগঞ্জে।
এ ঘটনায় গতকাল বিকালে ওই শিশুর খালা বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় ধর্ষণ চেষ্টা ও মারপিট করার অভিযোগে আজমল হোসেন (৩৫) ও গোলাপ (২৫) নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসী, শিশুটির পরিবার ও থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, বদরগঞ্জ উপজেলার শেখেরহাট এলাকার তালুক দামোদরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ওই শিশুটি। প্রায় ৯ বছর আগে তার বাবা মারা যান। বাড়িভিটা না থাকায় শিশুটিকে নিয়ে তার মা থাকতেন ওই এলাকার জনৈক এক ব্যক্তির বাড়িতে। অসুস্থ মা ভিক্ষা করেই সংসার চালান। বাড়ির মালিক সপরিবারে থাকেন ঢাকায়।
শিশুটির অভিযোগ শুক্রবার রাত ১২টার দিকে তার মা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে যান। এ সুযোগে প্রতিবেশী ইটভাটা শ্রমিক আজমল হোসেন ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে আজমল পালিয়ে যায়। এরপর শিশুটিকে নষ্টা অপবাদ দিয়ে প্রতিবেশী গোলাপ নামে এক ব্যক্তি উল্টো তাকে মারপিট করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে শিশুটির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বিছানাপত্র, জামাকাপড় ও থালাবাসন ঘরের বাইরে রাখা হয়েছে। শিশুটির মা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী লিলি বেগমসহ এলাকার কয়েকজন অভিযুক্ত আজমলের পক্ষ নিয়েছেন। এ কারণে গ্রামছাড়া করতে ওই বাড়ি থেকে তার ঘরের জিনিসপত্র সব বের করে ফেলা হয়েছে।
অভিযোগ সম্পর্কে লিলি বেগম বলেন- ওরা খুব গরিব মানুষ, ওর মা ভিক্ষা করে খায়। বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ থাকে না। একটার পর আরেকটা ঘটনাও ঘটাতে পারে। এসব ঝামেলা এড়াতে বাড়িওয়ালার সঙ্গে পরামর্শ করে তাদেরকে বাড়ি ছাড়তে বলা হয়েছে।
প্রতিবেশী মজিদা বেগম ও উম্মে কুলসুম জানান, মেয়েটির মা ভিক্ষা করে সংসার চালায়, ওরা খুব অসহায়। ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাও সত্য। অভিযুক্ত আজমল হোসেন খুব খারাপ মানুষ।
বদরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মামুন অর রশিদ বলেন, ওই ঘটনায় আজমল হোসেন ও গোলাপ নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি গুরুত্বসহ দেখা হচ্ছে।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close