সিলেটে ১৩টিতে আ’লীগ, ৩টিতে বিএনপি’র প্রার্থী বিজয়ী : প্রভাব ছিলনা দলীয় প্রতীকের

Sylhet-Election resultডেস্ক রিপোর্টঃ প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৬টি পৌরসভার মধ্যে ১০টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ, ৩টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র ও ৩টিতে বিএনপি’র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এরমধ্যে হবিগঞ্জে কিবরিয়া হত্যা মামলার আসামি জি কে গউছসহ ৩টিতে বিএনপির ও দুটিতে আ’লীগের মেয়রপ্রার্থীর জয়ী হয়েছেন। জিকে গউছ এনিয়ে হ্যাট্রিক বিজয় অর্জন করে চমক দেখালেন। যদিও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সাময়িক বরখাস্ত হন তিনি।
এছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বিএনপির কোনো প্রার্থীই জয়ী হতে পারেননি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক ভাবে সিলেটের ১৬টি পৌর সভায় প্রার্থী দেয়। অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থীতা দেয় শরিকদের নিয়ে।
বুধবার সকাল ৮টায় সিলেটের ১৬ টিসহ দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে নানা ঘটনা, সংঘর্ষ, গুলি, ককটেল হামলাসহ অনিয়মের অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগে বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা। সিলেটের ১৬টি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক ভাবে প্রার্থী দেয়। অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থীতা দেয় শরিকদের নিয়ে।
তবে নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায় এবারের নির্বাচনে জনগন দলীয় প্রার্থীদের ভোট দেয়ার চাইতে প্রার্থীর যোগ্যতাকেই প্রধান্য দিয়েছে। বড় দুটি দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের প্রচারনায় মুগ্ধ না হয়ে ভোটাররা নিজ নিজ এলাকায় তুলনামূলক যোগ্য এবং জননন্দিত প্রার্থীকেই ভোট দিয়েছে। নৌকা বা ধানের শীষ স্থানীয় নির্বাচনে কোন প্রভাবই ফেলতে পারেনি।
সিলেট জেলার জকিগঞ্জে পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা খলিল উদ্দিন নৌকা প্রতীকে ১হাজার ৫২৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারুক আহমদ জগ প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়েছেন। ১২১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন খলিল।
গোলাপগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল জব্বার চৌধুরী মোবাইল ফোন প্রতীকে ৪হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আমিনুর রহমান লিপন নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ২হাজার ৯৮৯ পেয়েছেন। এখানে ১ হাজার ৫৯৩ ভোটের ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন জব্বার।
কানাইঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মো. নিজাম উদ্দিন আল মিজান নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ৩৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. লুৎফুর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৮৯৭ ভোট পেয়েছেন। ৪৮১ ভোটের ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন মিজান।
এদিকে, সুনামগঞ্জ জেলার ৪টি পৌরসভার মধ্যে ৪টিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর পৌরসভায় নৌকা প্রতীকের আয়ুব বখত জগলুল ১৪ হাজার ৫৩৩ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদিন মোবাইল প্রতীক পেয়েছেন ১০ হাজার ৪৩৪ ভোট। ৪ হাজার ৯৯ ভোটের ব্যবধানে জগলুল বিজয়ী হয়েছেন।
ছাতক পৌরসভায় নৌকা প্রতীকের আবুল কালাম চৌধুরী ১০হাজার ৮২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল ওয়াহিদ মজনু মোবাইল প্রতিক পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৫১ ভোট। এই পৌরসভায় ৫ হাজার ৭৮৩ ভোটের ব্যবধানে আবুল কালাম চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।
জগন্নাথপুরে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল মনাফ ৯ হাজার ৩২৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির রাজু আহমদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৫ হাজার ৬৯১ ভোট পেয়েছেন। এখানে ৩হাজার ৬৩৩ ভোটের বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন মনাফ।
দিরাই পৌরসভায় নৌকা প্রতীকের মোশারফ মিয়া ৭ হাজার ৪৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি’ প্রার্থী মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৫২৫ ভোট। ৯১৭ ভোটের ব্যবধানে মোশারফ বিজয়ী হয়েছেন।
অন্যদিকে, মৌলভীবাজার জেলার ৩টি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। একটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন।
মৌলভীবাজার পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী মো. ফজলুর রহমান নৌকা প্রতীকে ১৩ হাজার ৬৩৮ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপি প্রার্থী অলিউর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭ হাজার ৫৫০ ভোট।
কমলগঞ্জে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. জুয়েল আহমদ নৌকা প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ৯৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া হাবিব পেয়েছেন ২ হাজার ৭৫৯ ভোট। বিএনপি প্রার্থী আবু ইব্রাহিম জমসেদ পেয়েছেন ২ হাজার ১৬৯ ভোট ।
কুলাউড়া পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শফি আলম ইউনুস নারিকেল গাছ প্রতীকে ৪ হাজার ২৩৪ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বি এন পি প্রার্থী কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ পেয়েছেন ৪ হাজার ১৭৪ ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী একেএম সফি আহমদ সলমান পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৮৬ ভোট ।
বড়লেখা পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী আবুল ইমাম মো. কামরান আহমদ চৌধুরী নৌকা প্রতীকে ৪ হাজার ৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম (জামাত সমর্থীত) স্বতন্ত্র প্রার্থী খিজির আহমদ মোবাইল ফোন প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭৭ ভোট। বিএনপি প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৫৮২ ভোট ।
এছাড়া হবিগঞ্জ পৌরসভায় কিবরিয়া হত্যা মামলায় জেলে থাকা বিএনপি প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জি কে গউছ নির্বাচিত হয়ে চমক দেখালেন। এ নিয়ে তিনি হ্যাট্রিক বিজয় অর্জন করলেন। গউছ ১০ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী মিজানুর রহমান মিজান নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯ হাজার ২৬৪ ভোট। আওয়ামীলীগের আতাউর রহমান সেলিম ৭ হাজার ৪০৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। জেলার মাধবপুর পৌরসভায় আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র হীরেন্দ্র লাল সাহা টানা দ্বিতীয় বারের ন্যায় নির্বাচিত হয়েছেন । নির্বাচনে তিনি ৫ হাজার ৭৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান মানিক পান ৪ হাজার ৯৪৮ ভোট।
চুনারুঘাট পৌরসভায় নাজিম উদ্দিন সামছু বিজয়ী : হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌরসভায় তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতার পর বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র নাজিম উদ্দিন সামছু টানা দ্বিতীয় বারের ন্যায় নির্বাচিত হয়েছেন । নির্বাচনে তিনি ৪ হাজার ৭৩৫ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামীলীগ প্রার্থী সাইফুল ইসলাম পান ৪ হাজার ৭২১ভোট।
শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় টানা দুই বারের সাবেক মেয়র বিএনপি প্রার্থী ফরিদ আহমেদ অলিকে পরাজিত করেছেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী ছালেক মিয়া। নির্বাচনে ছালেক মিয়া ৩ হাজার ৯৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি বিএনপি প্রার্থী ফরিদ আহমেদ অলি পান পান ৩ হাজার ৮৯০ ভোট।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভায় তিন বারের সাবেক মেয়ার আওয়ামীলীগ প্রার্থী অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেনকে পরাজিত করেছেন বিএনপির প্রার্থী ছাবির আহমেদ। তিন বারের কাউন্সিলার ও প্যানেল মেয়র ছাবির আহমেদ প্রথমবার নির্বাচন করেই জয়লাভ করে চমক দেখিয়েছেন। নির্বাচনে ছাবির আহমেদ ৫ হাজার ৬২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামীলীগ প্রার্থী অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন পান ৩ হাজার ৭৭৩ ভোট।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close