দিরাইয়ে গর্ভবতী মাকে পিটিয়ে হত্যা

nari nirjatonজুবের সরদার দিগন্ত, দিরাই প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সামান্য জলমহালকে কেন্দ্র করে এক গর্ভবতী মাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি ঘঠেছে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের খাজাউরা গ্রামে। গ্রামবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাওরে গ্রামের ডুবা লিজের টাকা পান্ডে রাখেকে কেন্দ্র করে গ্রামের সাবেক মেম্বার আনোয়রের লোকজন গত ৮-১০-১৫ ইং রোব বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিন (২৭) ও তার অন্তসত্তা স্ত্রী নিলুফা বেগম (২২) এর ওপর আক্রমন চালিয়ে তাদেরকে গ্ররুতর আহত করে। আহতাবস্থায় তাদেরকে প্রথমে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের অবস্থার অবনতি দেখে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। একদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার ভোর রাতে নিলুফা বেগম মারা যান। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিরাই থানা পুলিশের তৎপরতায় এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। দিরাই থানার এস আই মহাদেব বাছার নেতৃত্বে এক দল পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েক জনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, জলমহালের এ টাকা গ্রামের এক জন আস্থাভাজন লোকের কাছে রাখা হয় তিন থেকে চার সামের জন্য। পরে সে টাকা গ্রামের ও হাওরের উন্নয়নের জন্য খরচ করা হয়। সেই টাকা এর আগে দু’বছর গ্রামের সাবেক মেম্বার প্রভাবশালী আনোয়ারের কাছে ছিলো। আনোয়র মেম্বার গ্রামের মুরুব্বিদেরকে কয়েকবার অপমান অপদস্থ করার পর গ্রাম্য শালিস সিদ্ধান্ত নেয় মেম্বারকে বাদ দিয়ে এক জন নতুন ক্যাশিয়ার নিয়োগ করার। আর সে ব্যাপারে গিয়াস উদ্দিনের ভূমিকা বেশি থাকায় ক্ষিপ্ত আনোয়ার মেম্বার সুযোগ সন্ধানী হয়ে ওঠে। ঘটনার দিন গিয়াস উদ্দিন একই গ্রামে তার শশুর বাড়ীতে যাচ্ছিলেন নৌকা যোগে স্ত্রীকে নিয়ে। নৌকা ঘাটে বিরার সাথে সাথে আনোয়ার মেম্বারের লোকজন তাদের উপর হামলা চালিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে গুরুতর আহত করে। আহতাবস্থায় দু’জনকেই সিলেট ওসমনী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার ভোর রাতে স্ত্রী নিলুফা বেগম মারা যান এবং বর্তমানে গিয়াস উদ্দিনের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে সংকটাপন্ন হয়ে পরে।
দিরাই থনার অফিসার ইনর্চাজ মেঃ বায়েছ আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close