বড়লেখায় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

বিশ্বজিৎ রায়, কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখার যৌতুকের দাবীতে এক গৃহবধূকে স্বামী কর্তৃক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সুবিচার চেয়ে সিলেট মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত আসামীকে বাদীর সমস্ত মালামাল, অন্যান্য খরচ, মোহরানা ফেরতের নির্দেশ প্রদান করলেও বিবাদী শামীম আহমদ আদালতের এ আদেশে কর্ণপাত করছে না। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বোবারথল ইসলাম নগর গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে চামেলী বেগমের সাথে ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিয়ানীবাজার উপজেলার পাহাড়িয়াবহর গ্রামের মৃত নূর মিয়ার ছেলে অটোরিকশা চালক শামীম আহমদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে শামীম সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়। বিয়ের কিছুদিন পর ১৫ জুন তার চিকিৎসার জন্য স্ত্রী চামেলী বেগমকে পিত্রালয় থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এনে দেয়ার চাপ প্রয়োগ করে। পিতা অতি দরিদ্র হওয়ায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শামীম স্ত্রীর ওপর নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। শামীমের সাথে যোগ দেয় চামেলীর ভাসুর মনাই মিয়া, ননদ জাহানারা বেগম ও শ^াশুড়ী ছদরুন নেছা। একপর্যায়ে যৌতুকের টাকা এনে দিতে পরিবারের সবাই মিলে গর্ভবতী চামেলীর ওপর নির্যাতন ও মারপিট চালায়। এ ঘটনায় প্রথমে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এর শরণাপন্ন হয় চামেলী। পরবর্তীতে সিলেট মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন। মামলা চলমান অবস্থায় বিবাহের সময় প্রদানকৃত উপহার সামগ্রি ও আসবাবপত্র উদ্ধারের জন্য মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইনে গত ৮ আগস্ট সি-আর মামলা (নং-৮০৭/১৪) দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে সিলেটস্থ ঊর্ধ্বতন সহকারী জজ আদালত (সদর) সমস্ত মালামাল, অন্যান্য খরচ, মোহরানা ফেরতের নির্দেশ দেন। কিন্তু আসামী শামীম আহমদ আদালতের এ আদেশের কর্ণপাত করছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close