জৈন্তাপুরে শিশুর মুখে সেফটিপিন আটকিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন

child_picসুরমা টাইমস ডেস্কঃ সিলেটে পৈশাচিক নির্যাতন কোনভাবেই যেন থামছে না। সিলেট সদর উপজেলার কুমারগাঁও এলাকায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয় ১৩ বছরের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে। এবার সিলেটের জৈন্তাপুরে ১৪ বছরের এক শিশুকে নির্যাতনের সময় যাতে চিৎকার না করে সেজন্য তার মুখে সেফটিপিন আটকিয়ে চালানো হয় পৈশাচিকভাবে নির্যাতন। শুধু সেফটিপিন নয় পিটিয়ে তার হাত ভেঙে দেয়া হয়েছে। এমনকি নির্যাতনের সময় স্টিলের গ্লাস গরম করেও ছ্যাকা দেয়া হয় তার শরীরে। একজন কিংবা দু’জন নয় মহিলাসহ পাঁচজন মিলে একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন চালায় মানুষরূপী হিংস্ররা।
শিশু নির্যাতন নিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকায় তোলপাড় চলছে। ছেলের উপর লোমহর্ষক নির্যাতনের বিস্তারিত ঘটনা বলতে গিয়ে বার বার মূর্ছা যান তার পিতা। এ ঘটনাকে টাকার বিনিময়ে রফাদফার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী আসামি পক্ষ। এ ঘটনায় নির্যাতিত শিশুর পিতা বাদি হয়ে ৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে, এঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতা জৈন্তাপুর থানা পুলিশ মামলার এজহার নামীয় আসামি হানিফা বেগমকে শনিবার দুপুরে গ্রেফতার করে।
জানা যায়- জৈন্তাপুর থানার ঘাটেরছটি যাত্রাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন। পেশায় তিনি একজন মৎসজীবি। প্রায় সময় মামলার এজহার নামীয় আসামি আব্দুল হান্নান উরফে বেন্ডাই তার নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে যায়। এজন্য মৎসজীবি আবুল হোসেন ১৪ বছরের শিশু কামরুল তাদেরকে নৌকা নিয়ে যেতে নিষেধ করার পর করলে তার উপর ক্ষেপে যায় আব্দুল হান্নান গংরা।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার রাত ৮টার দিকে যাত্রপুর গ্রামের আজির উদ্দিনের বাড়ির সামন দিয়ে পিতার জন্য হাওরে খাবার নিয়ে যাচ্ছিল কামরুল। এসময় আব্দুল হান্নান ও হানিফা বেগম কামরুলকে আটক করে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। হাত-পা বেঁধে সেখানে ঘণ্টাব্যাপী তার উপর চলে মানুষরূপী হিংস্রদের অমানবিক নির্যাতন। সেসময় নির্যাতন সইতে না পেরে কামরুল চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকার বন্ধ করে রাখতে মুখে সেফটিপিন আটকিয়ে স্টিলের গ্লাস গরম করে পিঠের মধ্যে ছ্যাকা দেয়া শুরু হয়।
খবর পেয়ে কামরুলের পিতাসহ আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জৈন্তাপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা নিয়ে শনিবার দুপুরে তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার শিশুটির পিতা মো. আবুল হোসেন (৪৫) বাদি হয়ে গত বৃহস্পতিবার জৈন্তাপুর থানায় মামলা (নং-৫) দায়ের করেন। মামলার এজহার নামীয় আসামিরা হচ্ছে- আব্দুল হান্নান উরফে বেন্ডাই, হানিফা বেগম, আব্দুল আলী, হেলাল উদ্দিন, আজির উদ্দিন আসামিরা জৈন্তাপুর থানার ঘাটেরছটি যাত্রাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিউল কবীর বলেন- শিশু কামরুলকে নির্যাতনের ঘটনার মূল হুতা হানিফা বেগমকে পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে। আর অবশিষ্ট আসামিদেরকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাজী শাহেদুল ইসলাম জানান-হানিফার নেতৃত্বেই কামরুলকে নির্যাতন করা হয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে হানিফার ৩ ভাই ও স্বামী। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাদেরকে হন্য হয়ে খুঁজছে। আর ঘটনাটিও আমাদের কাছে পরিষ্কারও হয়েছে। নৌকা নিয়ে বিরোধের জের ধরেই কামরুলকে পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়েছে।
কামরুলের পিতা আবুল হোসেন জানান- আমার ছেলেকে নির্যাতন করে হাত ভেঙে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। মাথা, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ছেলের ইচ্ছার কারণে আমরা তাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। আজ সোমবার চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করবো।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close