সৌদি আরবে যৌনদাসী সাপ্লাইয়ের বিজ্ঞাপনে চিত্রনায়িকা মৌসুমী! (ভিডিও)

moushumiসুরমা টাইমস ডেস্কঃ বিজ্ঞাপন জগতে নতুন নন চিত্রনায়িকা মৌসুমী, তবে অর্থের লোভে বড় মাপের একটি অঘটন তিনি এবার ঘটিয়েই বসলেন। বাংলা সিনেমার বিশেষ শ্রেণীর দর্শকদের এককালের ‘হার্টথ্রুব’ এই নায়িকা অতি সম্প্রতি অভিনয় করেছেন সৌদি আরবে ‘গৃহকর্মী’ মোড়কে যৌনদাসী সাপ্লাইয়ের সরকারী বিজ্ঞাপনচিত্রে। ঢাকার জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম কর্তৃক যৌথভাবে প্রচারিত বিজ্ঞাপনটি ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে চরম হাস্যরসের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভেরও কারণ হয়েছে। সরকারের কান্ডজ্ঞানহীন বিবেকবর্জিত সিদ্ধান্তেরও কঠোর সমালোচনা হচ্ছে দেশে-বিদেশে।
বাংলাদেশের অশিক্ষিত-অল্পশিক্ষিত অবলা নারীদের জীবন নিয়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নেক্কারজনক ছিনিমিনি খেলার বিজ্ঞাপনচিত্রটিতে মৌসুমীকে দিয়ে বলানো হয় – “আমি আপনাদের ভালোবাসায় ধন্য মৌসুমী। বিদেশে চাকরী করতে আগ্রহী বোনদের জন্য সুখবর। আপনারা নিশ্চয়ই শুনেছেন সৌদি আরব সরকার বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসে দশ হাজার নারী কর্মী নেবে। সরকারী ব্যবস্থাপনায় হওয়ায় চাকরী এবং নিরাপত্তা নিয়ে আপনাকে ভাবতেই হবে না”। গ্রাম বাংলার নিরীহ নারীদেরকে ধোকা দিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমন এক সময় চটকদার বিজ্ঞাপনে নায়িকাকে মাঠে নামালেন যখন সৌদি গৃহবধুরা ‘না’ বলছেন সুশ্রী-সুন্দরী গৃহকর্মীদের।
“নিরাপত্তা নিয়ে আপনাকে ভাবতেই হবে না”- বাস্তবতা বিবর্জিত একশ’ ভাগ মিথ্যা এই আশ্বাসবাণী প্রচার করাতে একটুও বিবেকে বাঁধেনি বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের। নিজ দেশের নারীদের ভয়াবহ নির্যাতন থেকে বাঁচাতে ইন্দোনেশিয়া ফিলিপাইন ও শ্রীলংকা যেখানে সৌদি আরবে ‘হাউজ মেইড’ প্রেরণ বন্ধ করে দিয়েছে, কেনিয়া ও ইথিওপিয়ার নারী গৃহকর্মীরা যেখানে বছরের পর বছর ভয়ংকর রকম নির্যাতিতা সৌদি আরবে, সেখানে মন্ত্রীতো দূরের কথা, খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেও কোনভাবেই সম্ভব নয় ঢাকায় বসে আরবের মরুপ্রান্তরে বাংলার মা-বোনদের চোখের জল মুছে দেয়া। উল্টো তাদের ইজ্জত-সম্ভ্রম নিলামে তোলার ভিডিও বিজ্ঞাপনটি রিলিজ দেয়া হলো স্বাধীনতার মাসে। প্রসঙ্গতঃ সৌদি আরবে গৃহকর্মী (হাউজ মেইড) হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পর বিদেশী নারীদেরকে নিজ নিজ বাসা-বাড়িতে নিয়ে গিয়ে যৌনদাসী তথা ‘সেক্স-স্লেভস’ বানিয়ে থাকে অধিকাংশ সৌদি মালিকরা – বিভিন্ন দেশের সংবাদ মাধ্যমে এমন খবর ফলাও করে বহুবার প্রকাশিত ও প্রচারিত হলেও কানে পানি যায়নি বাংলাদেশ সরকারের। অত্যন্ত গুরুত্ববহ এই ইস্যুতে ঢাকার ‘পেইড’ নারীবাদীরা যখন কৃত্তিম ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন চিত্রনায়িকার মিষ্টি কথায় বাংলাদেশের অবুঝ নারীরা হয়তো ৮শ’ রিয়ালে ঠিকই বিক্রি হবে। ক্ষুধার্ত সৌদি পুরুষরা যার যার চাহিদা মোতাবেক তাদের ঘরে নিয়ে যাবে। অন্যদিকে ঢাকায় বসে মৌসুমীরা হয়তো আরো মুটিয়ে গেলেও ‘প্রাইভেট আওয়ার’ বিক্রি করে ভালোই কামাতে থাকবেন। আরবের ঘরে ঘরে বাংলাদেশী নারীদের কান্না এফডিসিতে শোনা যাবে কোন্ দুঃখে ? নামে ‘হাউজ মেইড’ কাজে যৌন দাস-দাসীদেরকে সৌদি আরবের ঘরে ঘরে অস্বাভাবিক অনিয়ন্ত্রিত বিকৃত সব যৌনাচারে বাধ্য করার পাশাপাশি উঠতে বসতে মারধর সহ ভয়ানক সব টর্চার চলবে দিবানিশি। অথচ যে দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন গর্বিত নারী, যে দেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সহ সংসদে বিরোধী নেত্রী এমনকি পার্লামেন্টের স্পিকারও নারী, যে দেশে রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধান বিচারপতির আসনও অলংকৃত করা নারীদের জন্য অনেকটাই সময়ের ব্যাপার, বেগম রোকেয়ার ঠিক সেই বাংলাদেশের দরিদ্র নারীদের ‘যৌনদাসী’ হিসেবে চালান করতে এখন সরকারী তোড়জোড় ! স্বাধীনতার মাসে তাই সাফ সাফ কথা, চেতনা-ব্যবসা বাদ দিন ! যে নারীদের ইজ্জতের বিনিময়ে একাত্তরে স্বাধীনতা, তাদেরকে সসম্মানে দেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে না পারলে কীসের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ?

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close