বিয়ানীবাজারে মার্কিন সিটিজেন কন্যাকে ডিবি পুলিশ কতৃক অপহরণ নাটক

Munniবিয়ানীবাজার থেকে সংবাদদাতাঃ সিলেটের বিয়ানীবাজারে এক আমেরিকান সিটিজেন কন্যাকে বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে নির্জন স্থানে ফেলে চলে গেল ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এদিকে রাস্তায় ফেলে দেয়ার পর পুনরায় অপহরণের আশংকায় গাড়ি যোগে পাশ্ববর্তী গোলাপগঞ্জ থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয় ওই আমেরিকান কন্যা। পরে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদেরকে বিয়ানীবাজার থানায় প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় আফরোজা আক্তার মুন্নি বিয়ানীবাজার থানায় ডিবি পুলিশের একজন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
আমেরিকান সিটিজেন আফরোজা আক্তার মুন্নী জানান, রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে একজন কর্মকর্তা তার স্বামীর বাড়ী বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ার বাজার ইউনিয়নের আঙ্গারজুর গ্রামে আসেন। এ সময় তার সাথে থাকা মুখ বাঁধা একজন যুবকসহ কয়েকজন যুবক ও একজন মহিলা ছিলেন। মহিলা নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার রুমে প্রবেশ করে তাকে তাড়াতাড়ি পোশাক পরে তৈরী হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ সময় মুন্নী তাকে নেয়ার কারণ জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা তাকে ডিবি পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর গাজী মিজান পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে বলে জানান। এ সময় তারা জোরপূর্বক মুন্নী ও তার শাশুড়কে তুলে নিতে চাইলে বাঁধ সাধেন পরিবারের লোকজন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ শুরু করেন মুন্নীর শশুড় আজির উদ্দিন। বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, শিক্ষামন্ত্রীর এপিএসসহ বিভিন্ন মহল বিষয়টি অবগত হন এবং উপর মহলে কথা বলেন তারা। এরই এক পর্যায়ে আজির উদ্দিন বিয়ানীবাজার থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করেন। ওসি তার এলাকায় কোন কর্মকর্তা প্রবেশ করতে হলে তাকে জানানোর নিয়ম রয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তাকে ওসির সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তুু ওসির সাথে যোগাযোগ না করেই তাকে নিয়ে যেতে উধ্যোত হন এবং এক পর্যায়ে রওয়ানা দেন তারা। ওসি এ বিষয়ে অবগত হয়ে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। মিডিয়া কর্মীরাও বিষয়টির খবর পেয়ে আমেরিকান সিটিজেন কন্যার বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। কিন্তু তড়িঘড়ি করে ডিবি পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর গাজী মিজান আমেরিকান কন্যা আফরোজা আক্তার মুন্নী ও তার শশুড় আজির উদ্দিন ও ননদ লাবনীকে নিয়ে একটি গাড়ি যোগে সিলেটের উদ্যোশে রওয়ানা দেওয়ায় তাদের আর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সর্ব মহল থেকে পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করা শুরু হলে পুলিশ সুপার ওই কর্মকর্তাকে মুন্নীকে তার বাড়ীতে পৌছে দেয়ার নির্দেশ দেন। মুন্নীর শশুড় আজির উদ্দিন জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশের পর ডিবি কর্মকর্তা তাদেরকে গাড়ী থেকে নামিয়ে দেয়ার পায়তারা শুরু করেন। কিন্তুু তারা ওই কর্মকর্তাকে বলেন, তাদের বাড়ীতে পৌছে দেয়ার জন্য। এরই এক পর্যায়ে ডিবি কর্মকর্তারা বিয়ানীবাজার-সিলেট সড়কের শেওলা ব্রীজের উত্তরপারের নির্জনস্থানে তাদেরকে ফেলে দিয়ে দ্রুত গাড়ি নিয়ে চলে যান।
আফরোজা আক্তার মুন্নী জানান, ডিবি অফিসার ফেলে যাওয়ার পর পিছন থেকে দু’টি গাড়ী আমাদের ধাওয়া করে। আমরা প্রাণ রক্ষার্থে আমাদের ড্রাইভারকে বলি দ্রুত গাড়ী চালিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে। এক পর্যায়ে আমরা গোলাপগঞ্জ থানায় গিয়ে আশ্রয় নিয়ে গোলাপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম ফজলুল হক শিবলীকে ঘটনা খুলে বলি। পরে ওসি আমাদের বিশেষ ব্যবস্থায় গোলাপগঞ্জ থেকে বিয়ানীবাজার থানায় পাঠিয়ে দেন। আফরোজা আক্তার মুন্নী বলেন, গোলাপগঞ্জ থানার ওসির সহযোগিতায় আমরা নিশ্চিত অপহরণ থেকে মুক্তি পেয়েছি।
এদিকে রোববার এ খবর শুনে মিডিয়া কর্মীরা চারিদিকে খোঁজ খবর নিতে শুরু করেন। পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার না করায় এ নিয়ে শুরু হয় সংশয় সন্দেহ। এরই এক পর্যায়ে বেলা ২টায় বিয়ানীবাজার থানায় এসে হাজির হন আমেরিকান সিটিজেন আফরোজা আক্তার মুন্নী, শশুড় আজির উদ্দিন ও ননদ লাবনী। বিয়ানীবাজার থানার ওসি’র জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মিডিয়ার সামনে হাজির হন মুন্নী। তিনি নিজেকে সাড়ে ২৬ বছর বয়সী উল্লেখ করে বলেন, ২০০৮ইং সনে ভালোবেসে কুড়ারবাজার ইউনিয়েনের আঙ্গারজুর গ্রামের আজির উদ্দিনের পুত্র সুহেল আহমদ এর সাথে বিয়ে হয়। সুহেল লন্ডন থাকার সুবাদে তার পিতা-মাতাসহ পরিবারের সকলের সাথে সম্প্রতি তারা দেশে আসেন। এরই মধ্যে তার পিতা জকিগঞ্জের এক পাত্রের সাথে ২০ লাখ টাকা রফাদফার মাধ্যমে তার বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করেন। বিষয়টি তিনি অবগত হয়ে বিয়ের আগের দিন তার স্বামীর বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেন এবং স্বামীকে দেশে আসার পরামর্শ দেন। স্বামীও সাথে সাথে দেশে এসে পৌছেন। পিতার এসব ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বিয়ানীবাজার থানায় সাধারণ ডায়রী করেছেন জানিয়ে মুন্নী বলেন, আমার স্বামী ও তার পরিবারের সকলকে নিয়ে যখন আমি সুখে শান্তিতে বসবাস করছি তখন আমার পিতা আমার সুখ সহ্য করতে না পেরে আমাকে ও আমার স্বামীর পরিবারকে নানা ভাবে হয়রানী শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অভিযোগ দায়ের করে এবং আমার শশুড়বাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলাসহ আমাদের শান্তিতে থাকতে দিচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে জানতে ডিবি পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর গাজী মিজানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আদালতের একটি আদেশ বলে তাদেরকে আদালতে হাজির করার জন্য নিয়ে যাই। পরবর্তীতে উপর মহলের নির্দেশে তাদের রেখে আসি।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার ওসি জুবের আহমদ বলেন, আমার এলাকায় কোন অফিসার প্রবেশ করতে হলে আমার সাথে যোগাযোগ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু আমার সাথে যোগাযোগ না করে প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবগত হয়ে পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করি। তাঁর নির্দেশে ডিবি পুলিশ শেওলা ব্রিজের কাছে তাদের ফেলে রেখে চলে যায়। পরে আত্মরক্ষার্থে তারা গোলাপগঞ্জ থানায় আশ্রয় নিয়ে গোলাপগঞ্জ থানার ওসি আমার সাথে যোগাযোগ করলে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদেরকে বিয়ানীবাজার নিয়ে আসা হয় এবং তাদের বাড়ীতে পৌছে দেয়া হয়। ওসি জানান, এ বিষয়ে আফরোজা আক্তার মুন্নী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close