সিলেটে ৬০ দিনে গাড়ি পুড়ছে ৬০ ॥ মামলা ৪৮ ॥ গ্রেপ্তার ৭২৫ ॥ আসামি কয়েক হাজার

60th-day-of-Oborudনুরুল হক শিপুঃ উদ্বিগ্ন সিলেটের মানুষ। একদিকে চলছে একেরপর এক নাশকতা অপরদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরপাকড়। গাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ট্রেন, পেট্রল ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাই নাশকতাকারীদের টার্গেটের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। একেরপর এক নাশকতায় মানুষের মাঝে বেড়েই চলছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। পেট্রলবোমা-ককটেল হামলার টার্গেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষও। পুড়ছে যানবাহন; দগ্ধ হচ্ছেন মানুষ। পেট্রলবোমায় দগ্ধ একজন চালক মারা গেছেন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন আরো ৬ জন। সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে আজ অতিবাহিত হচ্ছে ২০ দলের ডাকা হরতাল-অবরোধের ২ মাস। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যমতে, সিলেট জেলায় গত ২ মাসে ঘটেছে ৭৫ টি নাশকতার ঘটনা। বাস-ট্রাকসহ হরতাল-অবরোধের আগুনে পুড়েছে ৬০টি যানবাহন। এসব নাশকতার ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী, জালালাবাদ, এয়ারপোর্ট, দক্ষিণ সুরমা, শাহপরান ও মোগলাবাজা থানায় মামলা হয়েছে ৩৩টি। ওই ৩৩ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ৪৭৫ জনকে। আর জেলা পুলিশের ১১টি থানায় মামলা দায়ের হয় ১৫টি। ওই ১৫ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ২৫০ জনকে। সিলেট মহানগর ও জেলা পুলিশ মিলিয়ে গত ২ মাসে সিলেট জেলায় নাশকতার মামলা হয় ৪৮টি। এসব মামলায় গ্রেপ্তার মোট সংখ্যা ৭২৫ জন বলে সিলেট মহানগর ও জেলা পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত গত ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ও ২০ দলীয় জোটের দফায়-দফায় হরতালে সিলেটে চালানো হচ্ছে একেরপর এক নাশকতা। সিলেটে বেড়েছে পেট্রলবোমা ও ককটেল হামলার ঘটনা। এসব পেট্রলবোম-ককটেলের টার্গেটে পড়ছে সাধারণ মানুষ, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পেট্রল ও সিএনজি ফিলিং স্টেশন।
সিলেটে নাশকতা শুরু হয় গত ২ জানুয়ারি থেকে। ওইদিন নগরীর পাটানটুলা এলাকায় সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল হামলা করে দুর্বৃত্তরা। গত ৬ জানুয়ারি সকাল ৮টায় দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্ট থেকে অবরোধ সমর্থকরা একটি মিছিল নিয়ে ক্বীন ব্রিজের সামনে এসে ৫ থেকে ৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সকাল ১০ টায় তেতলী এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করে অবরোধ সমর্থকরা। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে অবরোধ সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে ২৯ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। ৯ জানুয়ারি রাতে তেতলী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। রাত সাড়ে ৮টায় রেলস্টেশনে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে অবরোধ সমর্থকরা। ১০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে পিরুজপুর এলাকার তারানা সিএনজি পাম্পের সামনে একটি চলন্ত ট্রাকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে অবরোধ সমর্থকরা। সাথে সাথে ট্রাকটিতে আগুন ধরে যায়। ১২ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লাউয়াই চৌধুরী ম্যানশনের সামনে একটি ট্রাক ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় অবরোধ সমর্থকরা। ১৩ জানুয়ারি আম্বরখানা এলাকার তারাদিন রেষ্টুরেন্ট ও আম্বরখানা পয়েন্টে পৃথকভাবে একটি মাইক্রবাস ও একটি সিএনজিতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ১৪ জানুয়ারি বন্দরবাজার এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। ওইদিন দক্ষিণ সুরমার বঙ্গবীর রোডের লাউয়াই নামক স্থানে রাত ৮টার দিকে একটি ট্রাকে আগুন দেয়া হয়। ওইদিন শাহী ঈদগাহ এলাকায় একটি ট্রাক, একটি লেগুনা ও একটি সিএনজি ভাঙচুর করা হয়। সকালে ওই এলাকায় শিবির কর্মীরা আরো ২টি সিএনজি আটোরিকশা ভাঙচুর করে। ১৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তেতলী এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ওই দিন নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় কোতোয়ালী থানার ওসি আসাদুজ্জামানের গাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ১৭ জানুয়ারি জিন্দাবাজার এলাকায় একটি অবিস্ফোরিত ককটেল শিশুকে দিয়ে সরান এক এএসআই। ১৮ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টায় দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বর এলাকার গ্রীণ লাইন কাউন্টারে মুখোশধারীরা ককটেল হামলা চালিয়ে ব্যাপক তান্ডব চালায়। হামলাকারীরা ভেঙে ফেলে কাউন্টারের গ্লাস। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। ১৯ জানুয়ারি তালতলা তেলিহাওর এলাকাস্থ পূবালী ব্যাংক শাখায় দুর্বৃত্তরা ঢিল মারে’ পরে তারা আতঙ্ক ছড়াতে রাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই দিন রাতে সিলেট-তামাবিল সড়কের বাগেশ্বর নামকস্থানে একটি চলন্ত ট্রাকে পট্রলবোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। দগ্ধ হন ট্রাক চালক বকুল দেবনাথ। পরে তিনি চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যান। ২১ জানুয়ারি রাতে দক্ষিণ সুরমার বদিকোনা এলাকায় একটি চলন্ত ট্রাকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করলে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে একটি সিএনজির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। মারা যান শ্রমিক লীগ নেতা শাহজাহান উদ্দিন। পেট্রলবোমায় দগ্ধ হন ট্রাক চালক কুমেশ দাশ ও সহকারী নিরঞ্জন সিং। ওইদিন দিনে নগরীর তাতিপাড়ার ৪১ নম্বর বাসায় কয়েকটি শিশু খেলতে গিয়ে পেট্রলবোমা পায়। পরে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ককটেল গুলো উদ্ধার করে। ২২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টায় শাহী ঈদগাহ এলাকায় রাস্তায় পেট্রল ঢেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এসময় তারা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টায় দক্ষিণ সুরমার শ্রীরামপুর বাইপাসে বাম থেকে যাত্রী নামিয়ে বাসে আগুনদেয় দুর্বৃত্তরা। একই সময় গোলাপগঞ্জের হিলালপুর এলাকায় বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে আগুন দেয়া হয় আরেকটি বাসে।
৩০ জানুয়ারি তেতলী লতিপুর নামক স্থানে একটি ট্রাকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এতে ট্রাকটি পুড়ে যায়। দগ্ধ হন ট্রাকের হেলপারও। ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যার সময় সোবহানীঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে হরতাল-অবরোধকারীরা। এতে গাড়িটি পুড়ে যায়। আহত হন ৩ যাত্রী। ১ ফেব্রুয়ারির সুবিদবাজর এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে মিছিলকারীরা। ২ ফেব্রুয়ারি ধোপাদিঘিরপাড় ও বরুথখানা এলাকায় ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। দিনে ধোপাদিঘিরপাড় এলাকায় পরপর ২টি ও সন্ধ্যার সময় বারুথখানা এলাকায় পরপর ৪ টি ককটেল ফুটায় দুর্বৃত্তরা। ৪ ফেব্রুয়ারি লামাবাজার এলাকায় পেট্রলবোমা হামলার শিকার হয় একটি পুলিশবাহী লেগুনা। ওইদিন দুপুরে দক্ষিণ সুরমার পারাইচক নামকস্থানে একটি কমলাবাহী ট্রাকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। সন্ধ্যায় জিন্দাবাজারের কাকলী শপিং সিটির সামনে পরপর ২টি ককটেল নিক্ষেপ করে আতঙ্ক ছড়ায় দুর্বৃত্তরা। ৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ সুরমার লালাবার এলাকার ফাঁসির গাছ নামকস্থানে একটি পণ্যবাহী ট্রাকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। সাথে সাথে ট্র্কটি পুড়ে যায়। ৭ ফেব্রুয়ারি আম্বরখানায় ককটেল বিস্ফোরন ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে একটি ট্রাকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শেখঘাট জিতু মিয়ার পয়েন্টে সুন্দরবন কোরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ডভ্যানে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর বাসা থেকে ২টি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। ধরণা করা হয় কেউ তার বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করেছে। তবে তা বিস্ফোরণ ঘটেনি। এরপর দিন ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বাড়ির ভেতরে ককটেল হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে নগরীর শেখঘাট এলাকায় পুলিশবাহী দুটি গাড়িতে হামলা চালায় শিবির নেতাকর্মীরা। এ সময় গাড়ির গাস ভেঙ্গে এক পুলিশ সদস্যসহ ২ জন আহত হন। বেলা আড়াইটায় নগরীর দক্ষিণ সুরমা মোমিনখলা এলাকায় ও কদমতলী মুক্তিযুদ্ধ চত্ত্বর এলাকায় দুটি ট্রাকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি বড় শপিং মল আড়ংয়ে ভর দুপুরে হামলা হয়। পেট্রলঢেলে একটি নোয়া গাড়িতে আগুন ও একটি কার এবং সিএনজি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার আধাঘন্টার মাথায় মিরেরময়দান এলাকায় ককটেল নিক্ষেপ করা হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। যাত্রী ছিল কোলের শিশু। ওই ঘটনায় ২ শিশু ও চালক আহত হন। ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ৩টি ট্রাকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। রাত পৌণে ১০ টার দিকে লালাবাজার সাতমাইল নামকস্থানে একটি পাথর বুঝাই ট্রাকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। সাথে সাথে ট্রাকটি পুড়ে যায়। দগ্ধ হন ট্রাক চালক মো. মিলন হোসেন। ওই রাত সাড়ে ৮টায় সুবিদবাজার একটি মালবাহী ট্রাকে, রাত সাড়ে ৮টায় উপশহর একটি বাসায় পার্কিং করা একটি ট্রাকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর মিরাবাজার এলাকার বিরতি পেট্রলপাম্প, বিমানবন্দর সড়কের লেচুবাগান এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানে পেট্রলবোমা হামলা চালানো হয়।
১ মার্চ রাত সাড়ে ৯টায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাইস্থরাইল এলাকায় একটি চলন্ত ট্রাকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। দগ্ধহন ট্রাক হেলপার সাবুল মিয়া। ওই রাতে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নওয়াপাড়া চলন্ত ট্রেনে পেট্রলবোমা হামলায় আহত হন ৩ যাত্রী। আহত মা মায়া বেগম ও মে আমিনা খাতুন এখন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দগ্ধ অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। ওইদিন বিয়ানীবাজার উপজেলায় একটি যাত্রীবাহি বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে পেট্রলবোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ওইদিন পৃথক আরেক জায়গায় বিয়ানীবাজারে একটি ট্রাকে আগুন দেয়া হয়।
২ মার্চ দিনে দরগা গেইট এলাকা ৫ থেকে ৭টি গাড়ি ভাঙচুর করে শিবিরকর্মীরা। রাত সাড়ে ৯টায় দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকার সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের খানবাড়ি এলাকায় নাঈম সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ৪ থেকে ৫টি মোটরসাইকেলে ৮ থেকে ১০ জন যুবক পেট্রলবোমা ও ককটেল হামলা চালায়। এসময় ফিলিং স্টেশনে আগুন ধরে যায়। ক্ষতি হয় প্রায় ২০ লাখ টাকার। ৩ মার্চ দক্ষিণ সুরমার রেলওয়ে স্টেশনের টিকেট কাউন্টারে ও দক্ষিণ সুরমার বাবনা মোড়ে ককটেল হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। রাত সোয়া ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ হামলাকারীদের লক্ষ্য করে ২ রাউন্ড গুলি ছুড়ে ও একজনকে আটক করে। তবে ককটেল হামলার ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। সকালে নগরীর সোবহানীঘাটের এমএ হকের মালিকাধিন পেট্রলপাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে ককটেল হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. রহমত উল্লাহ জানান, নাশকতার ঘটনায় মামলা হয়েছে ৩৩টি। গ্রেপ্তারও করা হয়েছে অনেককে। নাশকতার নামে নিরীহ মানুষ গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যতেষ্ট তথ্য প্রমান হাতে নিয়েই গ্রেপ্তার অভিযান চালাই। সেক্ষেত্রে নিরীহ কোনো মানুষ গ্রেপ্তারের শিকারা হওয়ার সুযোগ নেই।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) সুজ্ঞান চাকমা সবুজ সিলেটকে জানান, গত ২ মাসে নাশকতার ঘটনায় জেলার ১১ থানায় ১৫টি মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় ২৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মুক্তিযুদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিক জানান, গত ২ মাসে বাস-ট্রাক মিলিয়ে মোট ৬০ যানবাহনে আগুন দেয়া হয়। তিনি বলেন, কিছু গাড়ির ক্ষতিপূরণ পেলেও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিক এখনও ক্ষতিপূরন পাননি।