ডা. জোবাইদা রাজনীতিতে আসছেন না, তবে…

444_104416ডেস্ক রিপোর্ট :: বিএনপির রাজনীতিতে আসছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান! বেশ কয়েক বছর ধরে এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও এখনো তা বাস্তব রূপ পায়নি। বিভিন্ন সময় এ-সংক্রান্ত নানা খবর গণমাধ্যমেও ফলাও হয়েছে। বিএনপির আসন্ন কাউন্সিল ঘিরে আবারও সামনে এসেছে ডা. জোবায়দার রাজনীতিতে আসার গুঞ্জন!

তবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, বিশেষ পরিস্থিতির মুখে না পড়লে ডা. জোবায়দা রাজনীতিতে নামবেন না। আর খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানও চান না এখনই দলে সক্রিয় হোন তিনি। জিয়া পরিবার ও দলের ঐক্য ধরে রাখতে যদি কখনো প্রয়োজন হয়, তাহলেই কেবল শাশুড়ি ও স্বামীর পরামর্শে সাময়িকভাবে দলের হাল ধরতে পারেন।

এই মুহূর্তে তারেকপত্নীর রাজনীতিতে আসার পক্ষে যারা বলছেন, তাদের যুক্তি হলো- খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের হাল ধরবেন তার বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি অসংখ্য মামলা কাঁধে নিয়ে দেশে ফিরতে না পারলে তখন কী হবে দলের। এমন অবস্থার সৃষ্টি হলে ডা. জোবায়দা রহমানকে হাল ধরতে হবে। সে ক্ষেত্রে তিনি আগে এলে ভালো।

আবার জোবায়দার এখনই রাজনীতিতে না আসার কথা যারা বলছেন তাদের যুক্তি, বিএনপিতে এখন নেতৃত্বের সংকট নেই। তাই এখনই নয়, পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে আসা হবে যুক্তিযুক্ত।

আগামী ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল। ইতিমধ্যে দলের চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ শেষ হয়েছে। এই দুই পদে খালেদা ও তারেক ছাড়া আর কেউ মনোনয়নপত্র নেননি। ফলে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। তার পরও কাউন্সিল ঘিরে জুবায়দার বিষয়টি আলোচনায় আসছে।

এক-এগারো সরকারের জরুরি অবস্থার সময় গ্রেপ্তার হওয়া তারেক রহমান ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তির পর স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকে তারা লন্ডনেই অবস্থান করছেন। স্বামীর সঙ্গে লন্ডন যাওয়ার সময় সরকারি চাকুরে জোবাইদা শিক্ষা ছুটি নিয়েছিলেন। পরে তা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়।  লন্ডন যাওয়ার পর কয়েক দফায় ছুটি বাড়ান জোবাইদা। তবে তার সর্বশেষ আবেদনটি আর গ্রহণ করেনি মন্ত্রণালয়। প্রায় ছয় বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ২০১৪ সালে তাকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর সংসদকে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম।

এমন অবস্থার মধ্যে ডা. জুবাইদার রাজনীতিতে আসা দূরের কথা, শিগগির দেশে ফিরবেন কি না তার সিদ্ধান্ত হয়নি। লন্ডনে যাতায়াত আছে বিএনপির এমন একজন মধ্যম সারির নেতার সঙ্গে কথা বললে এমনটাই জানা যায়।

তবে দলের কারও কারও মতে,  বিএনপির ক্রান্তিকালে ডা. জোবায়দা দলের হাল ধরলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।  জিয়াউর রহমানের জীবিতকালে খালেদা জিয়াও রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।  গৃহিণী হিসেবে স্বামীর পাশে ছিলেন তিনি।  বিশেষ পরিস্থিতির কারণেই ঘর থেকে বেরিয়ে দলের হাল ধরেন খালেদা জিয়া।

এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ড. এমাজউদ্দীন আহমদ।

ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন,  “জোবায়দার রাজনীতিতে আসার পরিস্থিতি এখনো হয়নি। চেয়ারপারসন এখনো কাজ করতে পারছেন। তিনি অসুস্থ হলে বা অন্য কোনো পরিস্থিতির তৈরি হলে আসতে পারেন, এটা স্বাভাবিক। তবে তিনি আসছেন বলে যারা গুঞ্জন করছেন, তাদের মুখ তো বন্ধ করা যাবে না।”

সম্প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলাপে ডা. জোবায়দার প্রসঙ্গ এলে তিনি (খালেদা জিয়া) মৃদু হাসেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা।

এদিকে লন্ডনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে আসা একজন নেতার সঙ্গে আলাপে জানা যায়, তাদের সঙ্গে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে মতবিনিময় করেন তারেক। একপর‌্যায়ে তারেক রহমানের কাছে জোবায়দা রহমানের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এই মুহূর্তে সেই সম্ভাবনা কম বলে তাদের নিশ্চিত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,“আমরা পরস্পর তো পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন না। কখনো আলাপেও এমন কথা ওঠেনি। আমি আপাতত সম্ভাবনা দেখছি না।”

আর তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ও দলের যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জোবায়দা রহমান কেন এই মুহূর্তে রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন? বিএনপিতে কি নেতৃত্ব সংকট চলছে? যারা এসব কথা ছড়াচ্ছে, তাদের অন্য কোনো এজেন্ডা থাকতে পারে।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close