উজান থেকে নেমে আসা ঢলে, বন্যা আক্রান্ত কানাইঘাটের লক্ষাধিক মানুষ

গভাদি পশুর খাদ্য সংকট : বিশুদ্ধ পানীর অভাব

pic-01আলিম উদ্দিন আলিম, কানাইঘাট থেকে: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বন্যা আক্রান্ত কানাইঘাটের লক্ষাধিক মানুষ। গত মঙ্গলবার থেকে এ উপজেলার দেড় শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্ধি অবস্থায় রয়েছেন। এতে করে গভাদি পশুর খাদ্য সংকট ও বর্ন্যাত মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ খাবার পানী সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানী বিপদ সীমার ১.৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার কয়েক হাজার হেক্টর জমির আউশ ইরি ও সব্জি চাষ এর ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারনে গত ৪/৫ দিন থেকে কানাইঘাটের লোভাছড়া পাথর কোয়ারীসহ সকল প্রকার কার্যক্রম বন্দ থাকায় কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এতে শ্রমিক ও অসহায় মানুষ তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে রয়েছে বিপাকে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রোপা ও বোনা আমন, বীজতলা, এবং পাকা আউশ ও ইরি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া বাড়ীর পুকুর এবং ফিশারী গুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক কোটি টাকার মাছ বাসিয়ে গেছে। বুধবার লোভা ও কুশিয়ারা নদী দিয়ে আসা পাহাড়ী ঢলে pic-02উপজেলার দিঘীরপার পুর্ব, সাতবাক, লক্ষিপ্রসাদ পুর্ব ও পশ্চিম, কানাইঘাট সদর, বড়চতুল, দক্ষিন বানীগ্রাম, ঝিংগাবাড়ী ও রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন এবং কানাইঘাট পৌরসভাসহ উপজেলার সর্বত্র বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের চতুরদিকে পানি থাকায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্টানে যেতে পারেনি। অফিস পাড়ায় সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত থাকলেও সাধারন মানুষ এর উপস্থিতি খুবই কম ছিল। বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ গ্রামের চতুর পাশে পানি রয়েছে। তাই বাড়ী থেকে লোকজন বাহির হতে পারেনি। লোভাছড়া পাথর শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা কামাল জানান, ঢলের পানিতে লোভা কোয়ারী তলিয়ে যাওয়ায় শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ৪নং সাতবাক ইউপির সাবেক মেম্বার আব্দুল মন্নান জানান, বন্যায় সাতবাক ইউনিয়নের অনেক ক্ষতি হয়েছে, লোকজন অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারনে চলাচল করতে পারছেনা।
এরির্পোট লেখা পর্যন্ত কানাইঘাট উপজেলার নিচু এলাকায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে আরও পানি বৃদ্ধি হলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে ধারনা করছেন অনেকেই। কানাইঘাট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ তাজ উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে কানাইঘাট বাজার পানীতে তলিয়ে যাওয়ায় বাজারের ব্যবসা বানিজ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ২নং লক্ষিপ্রসাদ পশ্চিম ইউপি সদস্য দুদুমিয়া জানান, ২নং লক্ষিপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ পানি বন্ধি রয়েছে, রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্টানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া গরিপুরে সুরমা নদীর ডাইকে ফাটল দেখা দিয়েছে। সুরমা ডাইকে ফাটল দেখা দেওয়ায় এ ইউনিয়নের জনসাধারণ মারাক্তক আতংকের মধ্যে রয়েছেন।
কানাইঘাট উলামা মাসায়েখ পরিষদের সহসভাপতি মাওলানা এনামুল হক বলেন, কানাইঘাটের লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি রয়েছে। তিনি বন্যার্তদের অবিলম্বে ত্রান সামগ্রী প্রদানের জন্য এলাকার বিত্তবান সহ সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।
কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক মোঃ জাকারিয়া জানান, সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে অধ্যাবধি পর্যন্ত সরকারী ভাবে কোন ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্ধ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সরকারী হিসাব মতে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে প্রায় ১২শত হেক্টর ফসলী জমি। এছাড়া সার্বক্ষনিক বন্যার খোজ খবর নিচ্ছি এবং বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের খবর নিতে সকল ইউপি চেয়ারম্যানদের সাতে যোগাযোগ রাখছি।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close