বড়লেখায় শিক্ষিকা হত্যাকারী মূল আসামি গ্রেফতার

abu-rickmonসুরমা টাইমস ডেস্কঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মঙ্গলবার নিউ সমনবাগ চা বাগানের ১৪ নম্বরের ব্র্যাক প্রি-প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা মিনতি মুন্ডা খুনের ঘটনার মূল আসামি আবু রিকমন (১৮) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে বুধবার সকালে জুড়ী উপজেলার ধামাই চা বাগানের নলডরি এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
বুধবার বিকেলের দিকে বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গাজী দেলোয়ার হোসেনের আদালতে রিকমন মিনতি মুন্ডা হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
সুত্র জানিয়েছে, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মিনতি মুন্ডাকে খুন করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিতে জানায় আবু রিকমন। রিকমনের বাম হাতে জলসনো অবস্থায় নিহত প্রেমিকা মিনতির নাম লেখা থাকতে দেখা গেছে।
বড়লেখা থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার উপজেলার নিউ সমনবাগ চা বাগানের ১৪ নম্বরের ব্র্যাক প্রি-প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা মিনতি মুন্ডাকে গলায় ছুরি পুচিয়ে খুন করে তার সাবেক প্রেমিক আবু রিকমন। মিনতি মুন্ডা বাগানের টিলার শ্রী প্রসাদ মুন্ডার মেয়ে ও আবু রিকমন একই বাগানের রামজনম রিকমনের পুত্র। ঘটনার পর খুনি আবু রিকমন পালিয়ে যায়। মিনতি মুন্ডা শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং এবার জুড়ী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।
জানা গেছে, দীর্ঘ ৩ বছর থেকে রিকমন ও মিনতির প্রেম চলছিল। হঠাৎ করে মিনতি রিকমনকে ছেড়ে সিলেটের জনৈক শ্রীবাস নামের একটি ছেলের সাথে প্রেমে জড়ায়। এ বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি রিকমন। তাই সে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ঘটনার দিন দুপুর দেড়টার দিকে স্কুল ছুটি দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মিনতি মুন্ডার গতিরোধ করে। মিনতির সাথে থাকা এক বান্ধবী এতে বাধা দিলে বান্ধবীকে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে পরিত্যাক্ত একটি ঘরে নিয়ে গলায় ছুরি পুচিয়ে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে মিনতি মুন্ডাকে খুন করে পালিয়ে যায়।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মনিরুজ্জামান মিনতি মুন্ডা খুনের ঘটনায় মূল হত্যাকারী গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রিকমন বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যার দায় স্বীকার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সে মিনতিকে খুন করেছে বলে আদালতে জানায়।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close