রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় বিনিয়োগে মন্থরগতি

Raju Ahmedছোটবেলায় মা-বাবা এবং আত্মীয়-স্বজন আদর করে চকলেট জাতীয় দ্রব্য কিনে খাওয়ার জন্য অনেক পয়সা দিত । কম পরিমানে চকলেট কিনে অবশিষ্ট পয়সা জমাতাম । এক সময় অনেকগুলো খুচরো পয়সার মালিক হয়েছিলাম । সারাদিন সে পয়সাগুলো শব্দ করে গুনতাম এবং সমবয়সীদের মধ্যে কিছুটা বাহাদুরী দেখাতাম । পয়সার জ্বালাতনে অতিষ্ট হয়ে একজন অগ্রজ বুদ্ধি দিলেন, পয়সাগুলো এমনি এমনি ফেলে রাখলে তো বাড়বে না বরং যদি এগুলো মাটির তলায় পুঁতে রাখো তবে পয়সা বহুগুনে বেড়ে যাবে । অগ্রজের পরামর্শকে উত্তম ভেবে আমিও সেই মতে পয়সার চাষ করলাম ! পয়সা বুঁনেছিলাম ঠিক কিন্তু লাভ তো দূরের কথা আসলগুলোও ফিরে পাইনি । বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবস্থাও আমার পয়সার চাষের গল্পের মত । দিনে দিনে তার‌ল্যের পরিমান বাড়তে বাড়তে অলস টাকার পাহাড় হয়েছে । রিজার্ভের পরিমাণ সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে । ব্যাংকে তারল্যের মজুদ থাকা ভালো কিন্তু সেটা যখন প্রয়োজনের তুলনায় বহুগুন বেশি হয় তখন অতিরিক্ত অর্থ অনুৎপাদনশীল অর্থে পরিণত হয় । তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়শীল বাংলাদেশের জন্য বিশাল অঙ্কের টাকা ব্যাংকে অলস পড়ে থাকায় ইতিবাচক কোন ফল আসবে না বরং সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেংকারীর মত নতুন কোন কেলেংকারীর জন্ম দিতে পারে । মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের রিজার্ভ বহুগুন বেড়ে যাওয়ার অন্তরালে রাজনৈতিক অস্থিরতা দায়ী । গত তিন বছর ধরে ক্রমান্বয়ে ব্যাংকের তারল্য বেড়ে চলছে । এর প্রধান কারণ, দেশের মানুষ বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বৃহৎ অঙ্কের ঋণের আবেদন করছে না । শুধু সরকার ছাড়া উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ঋণ কেউ নিচ্ছে না । ব্যাংকগুলোর যে পরিমান সুদের হার তাতে কেউ ঋণ নিয়ে টাকা অলস রাখলে রাতের আঁধারে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া তার জন্য অন্য কোন রাস্তা থাকবে না । ঋণ না গ্রহনের কারণ হিসেবে শুধু রাজনৈতিক কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতায় দেশের মানুষ বিনিয়োগে ভরসা পাচ্ছে না । ব্যক্তিগত বিনিয়োগের পরিমাণ যেমন কমেছে তেমনি বিনিয়োগ বোর্ডে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিবন্ধন গত চারবছরের মধ্যে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে । একটি দেশের উন্নয়নের জন্য বেসরকারী বিনিয়োগ অপরিহার‌্য । অথচ বিনিয়োগের হার যেভাবে কমতে শুরু করেছে তাতে নিকট ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে অর্থনীতিবিদরা বারবার সতর্ক করছেন । ২০১২ সাল থেকে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরিতায় দিনের পর দিন বিনিয়োগ নিম্নগতি সাধন করছে । ব্যক্তিগত বিনিয়োগের সাথে কমছে যৌথ ও বিদেশী বিনিয়োগ । রাজনৈতিক অঙ্গনে যেভাবে নিত্য গোলক ধাঁধাঁর সৃষ্টি হচ্ছে তাতে যে কোন সময় আবারও নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয় । গত কয়েকমাসের সরকার বিরোধী আন্দোলনের পর তুলনামূলকভাবে দেশে একটি শান্তিময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অনৈতিকতা ও ক্ষমতাশীনদের উগ্রতায় যে সম্ভাবনা উঁবে গেছে । কাজেই আপাতত কিছুটা স্থিতিশীলতা চললেও সেটা কতদিন স্থায়ী হবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না । অন্যদিকে যেটুকু রাজনৈতিক স্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যেমন বিনিয়োগে ভরসা পাচ্ছে না তেমনি বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরও আস্থার সংকটও কাটেনি ।

বিদেশী বিনিয়োগকারীরা কোন দেশে বিনিয়োগের পূর্বে সে দেশের স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন । এরপর তারা যৌথভাবে অথবা সম্পূর্ণ এককভাবে বিনিয়োগ করেন । কিন্তু দেশের যা অবস্থা তাতে দেশীয় বিনিয়োগকারীরাই যেভাবে বিনিয়োগ করতে ভরসা পাচ্ছে না সেখানে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভরসা পাবে কিভাবে ? বিগত তিন বছরে অর্থ্যাৎ ২০১২ সাল থেকে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিনিয়োগ ব্যবস্থা ক্রমাগত নিম্নমুখী । পরিসংখ্যান বলছে, ২০১২ সালে ব্যক্তিগত খাতের বিনিয়োগ ছিল ২২ দশমিক ৫ শতাংশ, যা কমে ২০১৩ সালে দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৭ শতাংশে । এখান থেকে কমে ২০১৪ সালে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে । ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাস যেভাবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে দেশ অতিক্রম করেছে তাতে চলতি বছরে ব্যক্তিগত বিনিয়োগের পরিমান যে বহুলাংশে কমে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না । পত্রিকার মাধ্যমে দেশের ও বহিবির্শ্বের বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে অবগত হয়েছে, রাজনৈতিক দলাদলি ও হানাহানীতে সৃষ্ট অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে বহু ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেকে ব্যবসার প্রতিকূল অবস্থা দেখে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন । রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যেও আংশিক বেড়েছে সরকারি বিনিয়োগের পরিমান । ২০১২ সালে সরকারিভাবে বিনিয়োগ হয়েছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ যা ২০১৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ । সরকারী বিনিয়োগের পরিমান বাড়লেও তা প্রয়োজনের তুলনায় এতই অপ্রতুল যে যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ হৃাসের ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব । অর্থনীতিবিদরা হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছে, ২০১৫ সালে সরকার বিনিয়োগ না বাড়ালে সামগ্রিক বিনিয়োগ শঙ্কার মধ্যে পড়বে । চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেশের অর্থনেতিক ব্যবস্থাকে যে পঙ্গু করে দিতে চলেছে তার প্রমাণ মেলে বিনিয়োগ বোর্ডে বিনিয়োগকারীদের নিবন্ধন দেখে । বিওআই এর তথ্যমতে, ২০১১ সালে বিনিয়োগ বোর্ডে ৯৯ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছিল । ’’১২, ’১৩ সালে এটা কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৮৮ ও ৬৭ হাজার কোটি টাকায় । আশঙ্কাজনক অবনতির ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে মাত্র ৪৪ হাজার কোটি টাকা । চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুঃ-মার্চ) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিদেশী বিনিয়োগ নিবন্ধন কমেছে ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ । আর ২০১৪ সালের সালের শেষ ৩ মাসের (অক্টোঃ-ডিসেঃ) তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ৩ মাসে বিদেশী বিনিয়োগের নিবন্ধন হৃাসের হার ৭৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ । বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশসমূহের তুলনায় এটা খুব কম পরিমানের বিনিয়োগ । অতীতে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ না করলেও অন্তত বিনিয়োগ বোর্ডে তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম নিবন্ধন করে রাখত যাতে বিনিয়োগ করা মাত্রই বিদ্যুত-গ্যাস সংযোগসহ অন্যান্য সুবিধাদি পাওয়া যায় । কিন্তু বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের মধ্য থেকে এ উৎসাহও হারিয়ে যেতে বসেছে ।
বিনিয়োগ পরিস্থিতির এ ক্রমাগত অধপতনের ফলশ্রুতিতে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রাষ্ট্র । নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি না হওয়ার কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে । রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ছাড়াও বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের আগ্রহ হারাচ্ছে গ্যাস-বিদ্যুতের পর‌্যাপ্ত সরবারেরর অভাবে । এছাড়াও শিল্পবান্ধব অবকাঠামোর অভাব এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগকারীদেরকে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করছে । বিনিয়োগকারীদের মতে, গ্যাস-বিদ্যুতের যথার্থ সরবরাহ না পেলে ভিন্ন পন্থায় উৎপাদন করতে হলে উৎপাদন খরচ বহুগুনে বেড়ে যায় । যাতে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে লাভ তো দূরের কথা মূলধন ফিরে পাওয়াই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় । সুতরাং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হারানো অযৌক্তিক নয় । বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও বিগত বছরগুলোতে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও আর্থিক খাত মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল । তবে এ স্থিতিশীলতায় ভাটির টান শুরু হয়েছে । কেননা রাজনীতির সাথে অর্থনীতির সম্পর্ক খুব গভীর । বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন স্মরণকালের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যদিয়ে অতিক্রম করছে । অতীতের সময়গুলো বোধহয় ভালোই কেটেছে কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরমত সহিষ্ণুতার অভাব ও নীতি বিবর্জিত কর্মকান্ড যেভাবে শুরু হয়েছে তাতে রাষ্ট্রের ভবিষ্যত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা প্রশ্নবিদ্ধ । রাজনৈতিক অস্থিরতায় সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিবেশের আলামত প্রকাশিত হচ্ছে ঋণ খেলাপির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সাথে । ব্যবসায় লোকসানের কারণে খেলাপি ঋণের পরিমান ক্রমাগত বেড়ে চলছে । অন্যদিকে ব্যাংকিংখাতে তৈরি হচ্ছে নৈরাজ্য । এ নৈরাজ্যের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঋণগ্রহীতারা সুযোগ নিচ্ছেন । ব্যাংকের হিসাব মতে, ২০১৩ সালে খেলাপি ঋণের পরিমান ছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ । মাত্র এক বছরের ব্যবধানে যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে । অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি তথা তৈরি পোশাক শিল্প ছাড়া অন্য কোন খাতে প্রভূত কোন উন্নয়ণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না । তৈরি পোশাক শিল্পও নানামূখী জটিলতার মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হচ্ছে । সর্বশেষ জিএসপি সুবিধা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নতুন ধাক্কা । টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, কনসট্রাকশন এবং স্টিল শিল্প ছাড়া অন্যকোন শিল্পে তেমনভাবে বিনিয়োগ না হওয়ায় অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারী দেশীয় শিল্প বন্ধ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে । অন্যদিকে অতীতের তুলনায় প্রবাসী শ্রমিকদের প্রেরিত রেমিটেন্সের পরিমাণ কমেছে ১০ ভাগ । সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে যে মন্থরগতি চলছে তা প্রমাণিত । রাষ্ট্রের উন্নয়ণের অন্যতম ভরসা বিনিয়োগ খাতের দৈন্যদশার জন্য সরাসরি রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পর বিরুদ্ধাচারণ দায়ী । বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশের বেসরকারী বিনিয়োগ ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে যাওয়ায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা দূরুহ হবে ।
সরকারের প্রতিশ্রুত ভিশন রয়েছে, বাংলাদেশকে উন্নয়ণশীল থেকে উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত করার । অথচ তার জন্য যে পথ অনুসরণ করা দরকার তা পূর্ণভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বললে অত্যুক্তি করা হবে না । বিদ্যুতের স্বনির্ভরতা না হলে কোন দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ণ সম্ভব নয় । কেননা শিল্প-কারখানার চাকা ঘোরাতে বিদ্যুত অত্যাবশ্যক । বিদ্যুত উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জণের জন্য সরকার কাজ করলেও তাতে প্রকাশ পেয়েছে ‘ভানুমতির খেল’ । কুইক রেন্টালের মাধ্যমে সরকারের তোষামোদকারী এমন কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুত উৎপাদনের দায়িত্ব দেওয়া হেয়েছে যারা সরকারের আকাঙ্খার হিতে-বিপরীত ঘটিয়েছে । গত বছরে সারাদেশে সৃষ্ট একদিনের বিদ্যুতবিহীন অবস্থাই প্রমাণ করে, আমরা আজও বিদ্যুতের জন্য পরনির্ভরশীল । তবুও আমাদের সকল দৈণ্যতা আমাদেরকেই ঘোচাতে হবে । স্বপ্নে অঙ্কিত সোনার বাংলাদেশের চিত্রকে বাস্তবায়িত করতে হলে সর্বাগ্রে রাজনৈতিক স্থিরতা আনয়ণে উদ্যোগী হতে হবে । রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত সুষ্ঠু গণতন্ত্রের চর্চা । একমাত্র গণতন্ত্রই সকল প্রকার দলাদলি ‍মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার নিশ্চয়তা দিতে বদ্ধপরিকর । এজন্য প্রথমেই দরকার সহনশীলতা ও পরমত সহিষ্ণুতার পূর্ণ বাস্তবায়ণ । দেশের চলমান অবস্থায় দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যেখানে আস্থাহীনতায় ভূগছে সেখানে বিদেশীদের আস্থার সংকট দ্রুত করতে দেশকে অনেক ধরণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে । সুতরাং দায়িত্বশীল ও বিরোধীপক্ষ যদি আন্তরিক হয় তবে সকল প্রকার বিভেদ ঘুচিয়ে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মনযোগ আকর্ষণ করা অসম্ভব নয় । নিম্ন পারিশ্রমিকের কারণে চীন তার অভ্যন্তরে বিদেশী বিনিয়োগ গ্রহনের মাত্রা কমিয়ে দিয়েছে । বাংলাদেশের জন্য এটা সুবর্ণ সুযোগ । এজন্য সকলের সহযোগীতা ও আন্তরিকতা একান্ত কাম্য । এক্ষেত্রে প্রতিযোগীদের মধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অনেকটা ভালো এবং বিদেশীদেরও বাংলাদেশের প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে । সুতরাং এ সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো উচিত । গ্যাস-বিদ্যুত, অবকাঠামো, ব্যাংকের তারল্য, খেলাপি ঋণের পরিমান ও সুদের হারের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরকে আকৃষ্ট করার মাধ্যমে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ণ সম্ভব ।

রাজু আহমেদ । কলামিষ্ট ।
মঠবাড়ীয়, পিরোজপুর ।
০১৭২৮৪৬৫৪৫৫
raju69alive@gmail.com

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close