সুনামগঞ্জে জলমহালে পুলিশের গুলিতে নিহত ১ : গুলিবিদ্ধ দু’জন সহ আহত অর্ধশতাধিক

ইউএনও নিজেই জানেন না জলমহালটি কোন মৎসজীবী সমিতির নামে ইজারা দেয়া হয়েছে কিনা

SUNAMGANJ POLICE SHOT A FISHER MEN & DEAD BODYসুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের জলমহালে মাছ ধরায় বাঁধা দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে এক জেলে নিহত হয়েছে। পুলিশের গুলিবর্ষেণের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে জেলেরা পুলিশের ওপর পাল্টা হামলা চালালে শনিবার সংঘর্ষের ঘটনায় অপর দু’জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এছাড়াও সংঘর্ষে ৫ পুলিশ সহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক জেলে আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ নিহত জেলের নাম মো. মনসুর আলী । তিনি সুনামগঞ্জ জেলার পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের আঞ্জু মিয়ার ছেলে। পুলিশ জেলেদের জলমহাল থেকে উঠিয়ে দিতে ইউএনওর নির্দেশে জেলেদের লক্ষ করে কমপক্ষে ১০ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস সেল ও ১১ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে।
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ঘাগটিয়া জলমহালের পার্শ্ববর্তী বেশ ক’টি গ্রামের লোকজন জলমহালে সকালে মাছ ধরতে গেলে দুপুরে জলমহালে গিয়ে জেলেদের ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে এ নিয়ে জেলেদের সাথে দফায় দফায় পুলিশের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ঘাগটিয়া জলমহালে শনিবার সকালে স্থানীয় আশেপাশের গ্রামের সাধারন জেলে ও পার্শবর্তী হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জ’র বানিয়াচং ও নবীগঞ্জ উপজেলার কমপক্ষে ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার সাধারন জেলে ঘাগটিয়ার ২০ একরের একটি জলমহালে মাছ ধরতে নামে। মেঘনাপাড়া মৎসজীবি সমবায় সমিতির নামে জলমহালের কথিত প্রভাবশালী ইজারাদারদের আগাম প্রভাবে এসব সাধারন জেলেদের বিরুদ্ধে পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে অবাধে মাছ ধরতে এক সপ্তাহ পূবের্ই থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পুলিশের হয়রানী মুলক গ্রেফতার আতংকে পালিয়ে থেকে সাধারন জেলেরা ক্রমেই ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন। মামলা ও হয়রানীর শিকার জেলেরা আশে পাশের অন্যান্য গ্রামের জেলেদের সংগঠিত করে শনিবার ঐ জলমহালে মাছ ধরতে নামলে প্রভাবশালী ইজারাদারের মাধ্যমে খবর পেয়ে ওসি নিজেই ইউএনওকে সাথে নিয়ে একদল পুলিশ সহ জলমহালে ছুঁটে যান। পুলিশী উপস্থিতি দেখতে পেয়ে জেলেরা দিকবিধিক ছুঁটতে থাকলে পুলিশ ধারণা করে জেলেরা পুলিশের ওপর হামলা করতে এগিয়ে আসছে। এ সময় ইউএনওর নির্দেশনা পেয়ে পুলিশ জেলেদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। গুলিতে মনসুর আলী নামক এক জেলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এছাড়াও সাথে থাকা আরো দু’জেলে গুলিবিদ্ধ হতে দেখে জেলেরা তখন পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ দাওয়া পাল্টা ধাওয়া আরো জোরালো হয়ে উঠলে পুলিশ জেলেদের লক্ষ করে টিয়ারশেল ও গুলিবর্ষণ করে জেলেদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে নিজেদেরকে নিরাপদে স্থানে সরিয়ে আনেন। সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় আজমেরীগঞ্জের শিবপাশা গ্রামের দিলু মিয়া,পশ্চিমবাক গ্রামের বাবুল মিয়া এ দু’জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়া ছাড়্ওা আরো কমপক্ষে ৪৩ জেলে আহত হয়েছেন। অপরদিকে জেলেদের প্রতিরোধের মুখে ইটপাটকেলের আঘাতে থানার এসআই জিন্নাত, এএসআই ছামির, কনস্টেবল আলী হোসেন, সমিরণ ও ইসলাম হোসেন আহত হয়ে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অপরদিকে অন্যান্য আহত জেলেরা পুলিশী গ্রেফতার এড়িয়ে আজমেরীগঞ্জ ও শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও মৎসজীবি সমিতির সভাপতি কিংবা কার অভিযোগের ভিক্তিত্বে ঐ জলমহালে ইউএনওকে নিয়ে মাছ ধরতে বাঁধা প্রদান করতে গিয়েছিলেন সে ব্যাপারে কোন সদুক্তর দিতে পারেননি। তিনি আরো বলেন, জলমহাল লুটপাঠকারীরা যখন পুলিশের উপর হামলা চালায় তখন পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে টিয়ারসেল ও শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ,এইচ, এম আসিফ বিন ইকরামের বক্তব্য জানতে উনার মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন,পুলিশকে আত্বরক্ষার্থে আমিই গুলি করার নির্দেশ দিয়েছি। এতে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় ও দু’জেলে আহত হয় এবং ৫ পুলিশ সদস্যও আহত হয়। কোন মৎসজীবী সমিতির নামে জলমহাল ইজারা দেয়া হয়েছে কিনা কিংবা ও ইজারাদিলেও ঐ মৎসজীবী সমিতির সভাপতি কিংবা কার অভিযোগের ভিক্তিত্বে ঐ জলমহালে পুলিশ নিয়ে যাওয়া হল এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে উনাকে প্রশ্ন করা হলে ইউএনও বলেন, সব ওসি জানেন, তিনি আমাকে নিয়ে গেছেন, এটা জানি যে জলমহালটি ২০ একরের নীচে, এটি সরকারি জলমহাল, কোন মৎসজীবি সমবায় সমিতিকে ইজারা দেয়া হয়েছে কিনা তা তো জানিনা , ইজারা দেয়া হলেও ইজারাপ্রাপ্ত সমিতির নাম আমার জানা নেই ,ওসির নিকট থেকে জেনে পরে জানাতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যাক্তি জানান, নামেই মেঘনাপাড়া মৎসজীবী সমিতি আড়ালে সুবিধাভোগী রাঘববোয়ালরাই জলমহালটি মাছ লুঠে নিতে ওসিকে প্রভাবিত করে আগাম মামলা ও শনিবার জেলেদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছেন।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close