অগ্নিদগ্ধ বকুল দেবনাথ আইসিইউ সাপোর্টে ঢাকায়

SONY DSCসুরমা টাইমস রিপোর্টঃ কোনো উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে অগ্নিদগ্ধ ট্রাক চালক বকুল দেবনাথকে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট জেলা প্রশাসকের অর্থায়নে বকুলের আত্মীয় স্বজন অ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকা মেডিকেল এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বকুলের আত্মীয় তপন দেবনাথ। গত সোমবার মধ্য রাতে তামাবিল মহাসড়কে চলন্ত ট্রাকে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারলে ট্রাকে আগুন ধরে যায়। বকুল অগ্নিদগ্ধ ট্রাক থেকে দ্রুত বের হতে গিয়ে বাঁ পা ও উরুর হাড় ভেঙে যায়। আগুনে তার মুখ, চোখের একাংশ, কোমরের নিচ থেকে হাটুর নিচ পর্যন্ত বাঁ হাত পুড়ে গেছে। বকুলের বাড়ি গোয়ালাবাজারের শশারকান্দি গ্রামে। এক আত্মীয়র ট্রাক চালাতেন। আগুনে ট্রাকের ক্ষতির চেয়ে বকুলের ক্ষতিতে মুষড়ে পড়েছে তাঁর পরিবার। স্থানীয় লোকজন সোমবার রাতেই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন, হাসপাতালের সার্জারি ১১নং ইউনিটে বকুলের চিকিৎসা চলছিল। ঘটনার পর থেকে অবচেতন অবস্থায় রয়েছেন।
এ অবস্থায় প্রায় ৫৫ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর বকুলের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের প্রধানদের নিয়ে গঠিত বোর্ড গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার সভায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা.আব্দুস সালাম সুরমা টাইমসকে বলেন, বকুলের শরীরের অধিকাংশই আগুনে পোড়া। বাঁ পা ও উরুর হাড় ভেঙে যাওয়া ও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন না হলে চিকিৎসকদের বোর্ড সভার মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
সিলেট জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বকুলের পরিবার গরীব ও অসহায় আর জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব এদের পাশে দাড়ানো তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ও নির্দেশ যারা সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করতে। আমাদের এই সহযোগিতা বকুল পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ জানুয়ারি মধ্যরাতে বকুল সারীঘাট থেকে সিলেটগামী একটি বালুবাহী ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-৬৭৩৯) বাঘেশ্বর সড়ক নামক এলাকায় আসলে অবরোধ সমর্থকরা ব্যারিকেড সৃষ্টি করে ট্রাকে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এসময় গাড়ীতে থাকা চালক বকুল গুরুতর আহত হন। আর্ত চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিওমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close