মোদীর সাথে শেখ হাসিনার বৈঠক হবে আনুষ্ঠানিক

১০ মন্ত্রীসহ শতাধিক প্রতিনিধি আসছেন

বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের সংবাদ সম্মেলনে ড. এ কে মোমেন

প্রেসিডেন্ট ওবামা ও মিশেল ওবামার নৈশভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে মোমেন। ছবি- এনা।

সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে মোমেন। ছবি- এনা।

নিউইয়র্ক থেকে এনা: জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধি ড.এ.কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, এমডিজি’র সাফল্যের কারণে ‘২০১৫ উত্তর উন্নয়ন এজেন্ডা কার্যকরকরণ ও বাস্তবায়ন’ থিমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য বিশেষ দিক নির্দেশনা হিসাবে গুরুত্ব পাবে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখ থেকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতিবারের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। এই অধিবেশনে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সকালে জেএফকে এয়াপোর্টে পৌঁছবেন। নিউইয়র্কে তিনি ২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নিবেন। এবছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ৪০ বছর পূর্তি হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ মিশন। বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর। বৈঠকের সময় এবং বিষয়বস্ত নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের ঠিক আগে ভাষণ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শেষে জাতিসংঘের ভিতরেই দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক হতে। আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে শেখ হাসিনার বৈঠক হতে পারে ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হোটেল সুইটে। বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ভারত পৌঁছেছেন। সেখানই দুই দেশের বৈঠকে ঠিক করা হবে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে কি কি আলোচনা হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা এ পর্যন্ত যে তালিকা পেয়েছি সেই তালিকা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসাবে ১০ মন্ত্রীসহ ১১৮ জন রয়েছে। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গীর সংখ্যা হচ্ছে ১৯৩ জন।
ড.এ.কে আব্দুল মোমেন আরো বলেন, এ বছর ৬৯-তম অধিবেশনের জেনারেল ডিবেটের জন্য নির্ধারিত প্রতিপাদ্য বিষয় ‘এবারের মূল থিম ‘২০১৫ সাল উত্তর উন্নয়ন এজেন্ডা কার্যকরণ ও বাস্তবায়ন’। এছাড়া আইনের শাসন, শান্তির সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেয়া, শান্তি উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, মানুষের পুষ্টির নিশ্চয়তা, প্রতিবন্ধীদের মানসিক বিকাশসহ মানব সম্পদ উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণদানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অংশ নিবেন। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখবেন। প্রতিবারের মত এবারও প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তৃতা দেবেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকা, অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার আদায়, দারিদ্র্য দূরীকরণে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গৃহীত কার্যক্রমসমূহ, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি এবং অধিবেশনের প্রতিপাদ্য বিষয় ২০১৫-পরবর্তী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় বাংলাদেশের অবস্থান ও অবদানের কথা তুলে ধরবেন।
তিনি বলেন, এবারের অধিবেশনে ৯৫ জন প্রেসিডেন্ট, ৪৫ জন প্রধানমন্ত্রী, ২ জন ভাইস প্রেসিডেন্ট, ১ জন ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী এবং ৫০ জন মিনিস্টার অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে ১শ’ ৯৩টি সদস্য দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামার আমন্ত্রিত পার্টিতে যোগ দিবেন। তিনি তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের কন্ঠস্বর হিসাবে উন্নত বিশ্বের নজর কেড়েছেন বিশেষভাবে। তার বক্তব্য আগামীতে টেকসই উন্নয়ন (এসডিজি) প্রণয়নসহ বিভিন্নক্ষেত্রে দিক দর্শন হিসাবে গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর বিস্তারিত কর্মসূচী তুলে ধরে তিনি বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক আসবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন শুরু হবে। যদিও প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশেষ অধিবেশনে যোগ দেবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে জলবায়ূ পরিবর্তন বিষয়ক সেমিনারে অংশ নিবেন, বিকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এসএএম খামবা ফুটেসার সঙ্গে বৈঠক, সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও মিশেল ওবামার নৈশভোজে অংশ নিবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের রিসিপশনে যোগদান, সকালে জেনারেল এ্যাসেম্বলির জেনারেল ডিবেটের ওপেনিং সেশনে উপস্থিত থাকবেন, সকালে বেলারোশের প্রধানমন্ত্রী মিখাইল ভি মায়াসিনকোভিচের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, দুপুরে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিবেন, বিকালে ‘এডুকেশন ফাস্ট ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক হাই লেবেল বৈঠকে যোগদান করবেন। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এতে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যাহ্নে আমেরিকান চেম্বার ও আমেরিকান বিজনেস কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক, বিকালে কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, সন্ধ্যায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালার সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। সন্ধ্যায় ড. ফ্রেড আর ভলকমারের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে পিস কিপিং সামিটে কো-চেয়ার করবেন। এখানে বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশ, জাপান, রোয়ান্ডা, যুক্তরাষ্ট্র এ চারটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর কো-চেয়ার করার কথা রয়েছে। বিকালে বাংলাদেশের জাতিসংঘে সদস্যপদ লাভের ৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মিশন কর্তৃক প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করবেন। এতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনসহ ব্রিটেন, রাশিয়া ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। বিকাল ৫ টায় জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস ব্রিফিং। ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, মধ্যাহ্নে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্কে গ্লোবাল পোভার্টি প্রোজেক্ট আয়োজিত ‘গ্লোবাল সিটিজেন কনফারেন্সে দক্ষিন এশিয়ার হেলথ, সেনিটেশন এবং উইম্যান ইমপাওয়ারমেন্ট’র উপর বক্তব্য দিবেন। এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য সম্মানের এবং গুরুত্বের। এখানে বিশ্ব নেতাদের সামনে তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন তুলে ধরবেন। যদি এই বৈঠকের বিরোধীতা করে কেউ কেউ আয়োজকদের ই-মেইল দিচ্ছেন। সেন্ট্রালপার্কের এই অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী রাতে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সার্বজনীন নাগরিক সম্বর্ধনার যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন মিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মামুন-অর-রশিদ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপস্থায়ী প্রতিনিধি মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, ইকোনমিক এ্যাডভাইজার বরুন দেব মিত্র ও ডিফেন্স এ্যাডভাইজার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম আখতারুজ্জামান। স্থায়ী প্রতিনিধি ড.এ.কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close