স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে জকিগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

জকিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ যোগদানের কয়েক মাসের মাথায় আলোচিত-সমালোচিত হয়ে উঠেছেন জকিগঞ্জ থানার ওসি মোঃ জামশেদ আলম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্তঃনেই। গত ১০ আগষ্ট স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বরাবরে তার বিভিন্ন অপকর্মের বর্ণনা উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফারুক আহমদ। অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে তিনি জামায়াত-শিবিরের কাছ থেকে বড় অংকের উৎকোচ নিয়ে আওয়ামীলীগ নিধনে হরদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন রকমের মিথ্যা মামলায় সাংবাদিক, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের জড়িয়ে মামলা দিতে জামায়াত-শিবিরকে উৎসাহিত করছেন। মামলার কয়েক দিনের মধ্যে তদন্ত ছাড়াই চার্জশীট দিয়েছেন সাংবাদিক, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের জড়িয়ে। তার এ মিশন বাস্তবায়নে সহযোগিতায় রয়েছেন বহুল আলোচিত জকিগঞ্জ থানার দুই এস.আই আবুল বাশার ও শরীফ আহমদ। ওসি মোঃ জামশেদ আলম বিগত বিএনপি জোট সরকারের ক্ষমতা আমলে জকিগঞ্জ থানায় সেকেন্ড অফিসার ছিলেন, সে সময় বিএনপি চেয়ারর্পাসনের রাজনৈতিক সচিব আবুল হারিছ চৌধুরীর একান্ত মানুষ হিসেবে ধাপট দেখিয়েছেন। তার ধাপটে জকিগঞ্জের রাজপথে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামীলীগের কোন কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হতো না। গত ২ জুন একটি মামলায় জকিগঞ্জ থানার হাজত খানায় আটক দক্ষিণ সুরমা ডিগ্রি কলেজের ইংলিশ অনার্সের ছাত্র আনোয়ার হোসেনের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন। দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় হাতে পায়ে কড়া পরিয়ে হাজত খানার গ্রীলের সাথে ঝুলিয়ে রাতভর বেধড়ক লাঠি পেটা করে মারাত্মক জখম করেন আনোয়ারকে। ২২ এপ্রিল দুপুরে জকিগঞ্জের শাহবাগ ষ্টেশন থেকে যুবলীগ কর্মী আমানকে আটক করে থানায় এনে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপন দাবী করেন। আটককৃত আমান ১০ হাজার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অযথা জুয়া খেলার অভিযোগে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে ০১ মাসের সাজা ভোগ করান আমানকে। আটগ্রামের চারিগ্রামে ভূমি নিয়ে সংর্ঘষের সময় জোড়া খুনের ঘটনায় চার্জশীটের পূর্বে পার্শ্ববর্তী গ্রামের উপজেলা কৃষকলীগের সহ.সভাপতি আতাউর রহমান আলতার কাছে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। চাঁদার টাকা না পেয়ে কৃষকলীগের সহ.সভাপতি আলতাকে জড়িয়ে জোড়া খুনের চার্জশীট দাখিল করেন। তিনি ৫ জানুয়ারীর পূর্বে জামায়াত-শিবিরের নাশকতা বিরোধী একটি মামলায় উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ফুয়াদ আল আমিনকে জড়িয়েছেন এবং গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠিয়েছেন। জকিগঞ্জের আলোচিত ঘটনা শিক্ষক করিম হত্যাকান্ড নিয়ে তিনি বিভিন্নভাবে ধামাচাপার চেষ্টা করেন। উক্ত ঘটনাটি প্রকৃতপক্ষে হত্যাকান্ড জেনেও ময়না তদন্ত ছাড়া দাফনের সুযোগ দিয়েছেন ওসি মোঃ জামশেদ আলম। কিন্তু বিভিন্ন পেপার-পত্রিকায় নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ হলে হত্যাকান্ডের ১৩ দিন পর শিক্ষক করিমের লাশ উত্তোলন করে মর্গে প্রেরণ করা হয়। হত্যাকান্ডটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য এবং মামলার বাদীকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে হত্যা মামলার বাদীনির স্বামীকে আটক করেন। জকিগঞ্জ থানায় ইফতার পার্টি ও ঈদের বকশিসের নামে গোটা উপজেলা থেকে ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করেছেন। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ উল্লেখ রয়েছে তিনি গত ৩ আগষ্ট উপজেলার সুলতানপুরের ছামাদ বাগান বাড়ীতে ওসি মোঃ জামশেদ আলম বিএনপির কয়েকজন নেতাকে নিয়ে গোপন বৈঠক করেছেন। ঐ বৈঠকে কামিল আহমদ নামের ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামী ছিল। গত ২ আগষ্ট রাত ৯:৪৫ মিনিটে পৌর শহরের আনসার ভিডিপি অফিসের বারান্দায় জকিগঞ্জ থানার ওসি জামশেদ আলম ও এসআই আবুল বাশার জামায়াত নেতাদের নিয়ে একান্ত বৈঠক করেন। এসআই আবুল বাশার ও এসআই শরীফের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ১৭ জুলাই রাতে বারহাল ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আব্দুল আহাদ বাবরকে শাহগলি বাজার হতে বাড়ি যাওয়ার পথে বাবুর খালের উপর থেকে আটক করে ডাকাতি মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন নতুবা তাদেরকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে দিতে বলেন। পরে এলাকার মানুষ ৫ হাজার টাকা দিয়ে দুই এসআই’র খপ্পড় থেকে আব্দুল আহাদ বাবরকে রক্ষা করেন। এত অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সিলেটের ডিআইজি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনকে এ ব্যাপারে তদন্ত করে ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ডিআইজি মকবুল হোসেন সিলেটের এডিশনাল ডিআইজি শাখাওয়াত হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
এদিকে গত ১২ আগষ্ট মঙ্গলবার উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় উপজেলায় সম্প্রতি আইন-শৃংখলার অবনতি নিয়ে ওসি জামশেদ আলমের সমালোচনা করে উত্তপ্ত আলোচনা হয়।
মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর রায়হান বলেন- জকিগঞ্জ থানার ওসি জামশেদ আলম “পকেট চোরা” সে ভালো মানুষকে ধরে অকারণে কারা ভোগ করায়। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত জুয়ার আসর বসিয়ে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেন। অনেক সম্মানী ব্যক্তির নিকট বড় অংকের চাঁদা দাবী করে চাঁদা না দিলে ভালো মানুষকে খারাপ মামলায় চালান দেয়। দালালদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে তার অফিস। উপজেলার আইন-শৃংখলার উন্নতি করতে তিনি ওসি মোঃ জামশেদ আলমকে জকিগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার করতে সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close