ছোট দীঘি বড় হলো

dighi_bg_643442সুরমা টাইমসঃ দীঘির জলে পদ্ম ফোটে। সাদা-লাল শাপলাও আপন মনে হেলে দুলে হাসে। ভাসে প্রাচীন শ্যাওলা। দীঘির টলমলে জলে ভাসে মেঘের ছায়া। ‘দীঘি’ শব্দটি উচ্চারণ করলে এমন কিছু চিত্র ভেসে ওঠে আমাদের মানস পটে। কিন্ত ঢাকার রাজাবাজারে যে এখন আর রাজা খুঁজে পাওয়া যায় না এটা কিন্তু শতভাগ নিশ্চিতভাবে বলাই যায়। রাজার বাজারে রাজা না থাকলেও সেখানে এখন আছে দীঘি। বিষয়টি একটু ঘোলাটে লাগছে না? জল পরিষ্কার করা যাক। রাজারবাজারে যে দীঘি আছে তার পুরো নাম প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। তিনি এক ক্ষুদে অভিনেত্রী। আষাঢ়ে বৃষ্টি শুরুর আগের হিমেল হাওয়া গায়ে মেখে রোদ পালানো এক বিকেলে দীঘি বসলেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে।
দীঘির বাড়ির ছাদের মাঠে দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। গরমের লু হাওয়া ভোলানো এই ফুর্তির বাতাসে ছবি তুলতে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান দীঘি। ছাদের মাঠে বিশ্বকাপ ফুটবল জ্বরের মৌসুমে ক্রিকেট খেলছে দীঘির বন্ধু স্নেহা, হৃদি, অর্নি, অনিক, আফনান ও তার বড় ভাই অন্তর। দীঘির ফটোসেশনের কারিশমা দেখে তার খেলার বন্ধু অনিক বলে ওঠে, ‘কিরে দীঘি তুই নায়িকা হবি নাকি!’ দীঘির কানে কথাটা পৌঁছালেও মন পর্যন্ত পৌঁছায় না। কারণ তার পুরো মনোযোগ ফটোসেশনে। দক্ষ অভিনেত্রীর মতোই তিনি আলোকচিত্রীর সামনে দাঁড়িয়েছিলেন।
স্নেহা, হৃদি ও অর্নি কি যেন বলে নিজেরাই হাসাহাসি করছে। এরাই এখন দীঘির বন্ধু এবং খেলার সঙ্গী।
একটা সময় এই ক্ষুদে অভিনেত্রী মাসের ৩০ দিনই ব্যস্ত থাকতেন কাজে। লাইট, ক্যামেরা, শুটিং স্পট, সিনেমার সংলাপ, পান্ডুলিপি, মেকআপ এই ছিল তার জীবনের অংশ। আর এমনটা হবেই বা না কেন? বাবা সুব্রত আর মা dighi_5_3629দোয়েল দু’জনই ছিলেন চলচ্চিত্রের মানুষ। ফলে রূপালি পর্দার আবহেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। কিন্তু নিজেই অভিনেত্রী হয়ে উঠবেন এমনটি ভাবেননি কখনও। পাঁচ থেকে ছয় বছরের মধ্যে ৩৬টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অধিকাংশ ছবিই ব্যবসাসফল। এর মধ্যে ৩৪টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। ২০০৬ সালে ‘কাবুলিওয়ালা’, ২০১০-এ ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’ এবং ২০১২ সালে ‘এক টাকার বউ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শিশুশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন দীঘি। তবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তিনটি ট্রফির একটি চুরি হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কোনো শিশুশিল্পী এতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি। আর এত বেশি জনপ্রিয়তাও পাননি। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সমানতালে সে সময় বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হিসেবেও পর্দায় তার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
অল্প বয়সে স্বল্প সময়ে দীঘি এতটা জনপ্রিয় হবে কেইবা ভেবেছিল! আর সেই মেয়েটাই যে হঠাৎ চলচ্চিত্র থেকে উধাও হয়ে যাবে তা-ও তো কারও ভাবনায় ছিল না।
দীঘির চাচা পিন্টুর সঙ্গে এসব গল্প করতে করতেই দূরের বৃষ্টি চলে এলো ছাদে। এবার চলে আসতে হলো দীঘির ঘরে। সেখানেই বসে শোনা হলো দীঘির বর্তমান গল্প।
dighi_2_957দীঘি বললেন, ‘স্কুল, টিচার, হোমওয়ার্ক, কোচিং এসব নিয়েই এখন আমার দুনিয়া। সময় পেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছাদে গিয়ে খেলায় মেতে থাকি।’
মান্না, ডিপজল, শাকিব খান, মৌসুমী, অপু বিশ্বাসসহ বাংলাদেশের সব জনপ্রিয় তারকার সঙ্গে আপনি কাজ করেছেন। শুটিং, তারকা খ্যাতি এসব মিস করেন না? ‘একটা সময় ছিল যখন আমি শুটিং না থাকলে কান্না করতাম। কারণ তখন আমার কাছে শুটিং ছিল একটা খেলা। শুটিংয়ে গেলে মজার মজার চকলেট পেতাম। খেলনা পেতাম। আরও কত জায়গায় ঘুরতে পারতাম। এখন মিস করি ওসব।’
দীঘি জানান, একসময় দিন কাটতো তার এফডিসি, সাভার, পূবাইল, হোতাপাড়া আর উত্তরার বিভিন্ন শুটিংস্পটে। আর এখন? ‘সকাল ৮টায় একজন মিসের কাছে পড়তে বসতে হয়। সকাল ১০টা থেকে ১২টা কোচিং। দুপুর ১টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ক্লাস। ঘরে ফিরে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আরেকজন মিসের কাছে পড়তে বসি’- একটানে নিজের প্রতিদিনের রুটিনটা বলে দিলেন স্কলার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্লাস ফাইভের এই ছাত্রী।
ছুটির দিনে আত্মীয়ের ঘরে বেড়াতে যান আর কোথাও না গেলে চাচ্চু পিন্টুকে নিয়ে কেনাকাটা করতে বের হন দীঘি।
শোনা যাচ্ছে, দীঘি আবার চলচ্চিত্রে ফিরছেন। এ প্রশ্ন শুনে যেন একটু সতর্ক হলেন তিনি। কৌশলী উত্তর এলো তার কাছ থেকে, ‘আমি এখনই ছবিতে কাজ করছি না। এখন করছি না বলে যে আর করবো না তা-ও না। আমি এখন নিজেকে প্রস্তুত করছি। আপাতত পড়াশোর্নায় মন দিতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’
নিজের জীবনে যেমন অল্প সময়েই অনেক জনপ্রিয়তা আর ভালোবাসা পেয়েছেন মানুষের, তেমনি অল্প বয়সেই মাকে হারান এই ক্ষুদে তারকা। আর মায়ের মৃত্যু তাকে পুরোপরি একা করে দিয়েছিল। বাবা সুব্রত, ভাই অন্তর আর চাচা পিন্টুকে নিয়েই এখন দীঘির দুনিয়া। তারাই তার সব।
২০১১ সালে দীঘির পরিবার থেকেই সিদ্বান্ত নেওয়া হয় তাকে আর অভিনয় করতে দেওয়া হবে না। তবে দীঘির পড়াশোনা শেষ হলে তার ইচ্ছে থাকলে তাকে আবারো চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে দিতে চান তার পরিবার। এ কথা সে কথা। নানা কথায় সময় পার হয়ে যায় অনেক। দীঘির গল্প অল্পতেই শেষ হওয়ার কথা নয়। দীঘির গল্প কেবলই বেড়ে চলে…
সুরমা টাইমস পাঠকদের জন্য দীঘির শুভেচ্ছা বার্তা (ভিডিও) :

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close