টাকা খেয়েও’ উল্টো মারপিট করে : অভিযোগ এবার রিজভীর বিরুদ্ধে !

৪ বিএনপি নেতাকর্মীকে পিটিয়ে বিদায়

rizviসুরমা টাইমসঃ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে টাকা দেয়ার পরও তা না করে উল্টো চার নেতাকে পেটানোর নির্দেশ দেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। পরে তাদেরকে মারধর করে কার্যালয় ধেকে বের দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ময়মনসিংহ জেলা গৌরীপুরের বিএনপি নেতা সার্জেন্ট মকবুল।
মঙ্গলবার সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ ঘটনায় আহত বিএনপি নেতা সার্জেন্ট মকবুলসহ উত্তর জেলা তাঁতী দলের সম্পাদক শাহজাহান কবীর হিরা, স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি বাচ্চু মিয়া ও ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমানকে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দলীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সাজের্ন্ট মকবুল হোসেন গেলো উপজেলা নির্বাচনে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি পৌর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তাকে সমর্থন দেন স্থানীয় নেতা ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইকবালসহ যুবদল ও ছাত্রদল। কিন্তু দলের ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে আহম্মেদ তৈয়বুর রহমান হিরণকে।
দলীয় সিদ্ধান্তে বিদ্রোহ করে নির্বাচন ও সমর্থন দেয়ায় প্রার্থী সার্জেন্ট মকবুল ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক সামসুকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া সমর্থক ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেনকে পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়।
বিদ্রোহের পরও যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য দলীয় হাইকমান্ড নির্দেশ দেন। হাইকমান্ডের কাছে দরখাস্ত করার পর অনেকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারও করা হয়েছে।
এদিকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য সার্জেন্ট মকবুল ও ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল কেন্দ্রীয় বিএনপি বরাবর আবেদন করেন। দীর্ঘদিন পরও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হওয়ায় গতকাল সোমবার কয়েকশ নেতাকর্মী নিয়ে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান ইকবাল ও মকবুলের সমর্থকরা।
সুত্র মতে , মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে সার্জেন্ট মকবুল নয়াপল্টনের কার্যালয়ে যান। তারা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম-মহাসচিব রিজভী আহমেদের সাক্ষাৎ চান। পরে সার্জেন্ট মকবুলসহ ৪ থেকে ৫ জন রিজভী আহমেদের কাছে গিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ সময় রিজভী আহম্মেদ সার্জেন্ট মকবুলকে বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার ইকবালের কাগজ চেয়ারপারসনের কাছে। তার অব্যাহতিপত্র প্রত্যাহারের সঙ্গে আপনারটাও হবে।’
এ সময় মকবুল বলেন, ‘আমারটা তো চেয়ারপারসনের কাছে না, আপনার কাছে, আপনি ব্যবস্থা নেন।’ এ নিয়ে চেয়ারপারসনের সঙ্গে কথা বলতে হবে জানালে রিজভী আহমেদের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়ান মকবুল।
একপর্যায়ে মকবুল বলেন, ‘টাকা দিয়েছি, হয় বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করুন, নয় টাকা ফেরত দেন।’ এ দাবির পরই তাকে (মকবুল) গেট আউট বলে ধমক দেন রিজভী আহমেদ। তীব্র বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আগে থেকেই বসে থাকা প্রফেসর আতাউর রহমান সার্জেন্ট মকবুলকে চড়-থাপ্পর দিয়ে পাশের রুমে নিয়ে যান। পরে রিজভী আহমেদের কাছে ‘সরি’ বলেন মকবুল। এরই মধ্যে কার্যালয়ের উপস্থিত ৬ থেকে ৭ জন সাজের্ন্ট মকবুলকে মারপিট করে কার্যালয় থেকে বের করে দেয়।
এদিকে ঘটনার পর নিজ কক্ষে বসা দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে সার্জেন্ট মকবুলের লোকজন বিষয়টি জানান। পরে তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ চান মির্জা ফখরুল।
এ প্রসঙ্গে মকবুল বলেন, ‘বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য তিন মাস ধরে গুলশান ও নয়াপল্টন কার্যালয়ে ধর্ণা দিচ্ছি। বিএনপি চেয়ারপারসন আমাদের মাফ করে দিয়েছেন কিন্তু নেতারা আমাদের মাফ করছেন না। এরই মধ্যে জেলার আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হয়েছে। ওই আদেশ প্রত্যাহার না করায় কমিটিতে আমাদের স্থান দেয়া হচ্ছে না।’
ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল বলেন, ‘মারপিটে আমি নেই, রাজনৈতিকভাবে লড়ে যাবো। এতেও না পারলে আইনগত পদক্ষেপ নেব।’
এ প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক খুররম চৌধুরী এই সংবাদের সুত্রকে বলেন, ‘ঘটনার পরে আমি পার্টি অফিসে গেছি। তবে আমি জানি ম্যাডাম সবাইকে মাফ করে দিয়েছেন।’
টাকা-পয়সা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে রিজভী আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘তার অভিযোগ অসত্য ও ভিত্তিহীন। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমি যদি তার কাছ থেকে টাকা নিতাম তাহলে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দিতাম। আর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি আমার এখতিয়ারে নেই। এটি বিএনপি চেয়ারপারসন করবেন।’
তিনি বলেন, ‘দলের বিপক্ষে নির্বাচনে দাঁড়ানোর কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সে বর্তমানে দলের কেউ নয়। সার্জেন্ট মকবুলসহ কয়েকজন আমার দপ্তরে এসে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য উত্তপ্ত স্বরে কথা বলতে থাকলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা কার্যালয় থেকে বের করে দেয়। তাদের কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি।’

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close