একরাতে বিশ্বনাথ ও ছাতকে তিন প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি

savar_dakatiসুরমা টাইমস রিপোর্টঃ সিলেটে হটাৎ করে ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে ৭টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে একদিনের ব্যবধানে বিশ্বনাথ এক প্রবাসীর বাড়িতে ও ছাতকের পল্লীতে একই রাতে দুই প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ছাতকে ডাকাতদের হামলায় শিশু, মহিলাসহ ৭জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে সংগটিত পৃথক তিনটি ডাকাতির ঘটনায় প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ লুট হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলাগুলোতে ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
আমাদের বিশ্বনাথ অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার দিনগত রাত আড়াইটায় উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের দশদল গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবদুল গণির বাড়িতে এঘটনা ঘটে। ডাকাতদল পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার নগদ ৭ হাজার টাকা, জনতা ব্যাংকে ৪৮ হাজার ৫শত টাকার এক চেক, দুটি মোবাইল সেট ও আসবাবপত্র নিয়ে যায়।এতে প্রবাসী পরিবারের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার য়তি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দাবি করেন। তবে প্রবাসী আবদুল গণি দেশে ছিল না। তার স্ত্রী রয়ফুল বিবি ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন।
খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় বিশ্বনাথ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানাযায়। বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন থানার এসআই আবদুস সালাম। এদিকে, তিগ্রস্থ পরিবার ঘটনাটি ডাকাতি হয়েছে বলে দাবি করলেও বিশ্বনাথ থানা পুলিশ বলছে এটি একটি চুরির ঘটনা।
প্রবাসীর স্ত্রী রয়ফুল বিবি জানান, শুক্রবার রাত আড়াইটায় ১৩/১৫ জন ডাকাতদল ঘরের বারান্দার গ্রীল কেটে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ভিতরে প্রবেশ করে। ডাকাতদল ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মূখে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা-মূখে বেঁধে ফেলে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার য়তি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিশ্বনাথ থানার ওসি মো. রফিকুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রবাসীর বাড়িতে কোন পুরুষ লোক থাকেন না। শুধু প্রবাসীর মা থাকেন। এটি ডাকাতির কোন ঘটনা নয়। রাতের অন্ধকারে হয়ত চুরি হতে পারে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে আমাদের ছাতক প্রতিনিধি জানান, ছাতকের পল্লীতে একই রাতে প্রবাসীর বাড়িসহ পৃথক দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা নগদ টাকা স্বর্ণালংকারসহ সাড়ে ১০লাধিক টাকা মুল্যের মালামাল লুট করে নেয়। ডাকাতদের হামলায় শিশু, মহিলাসহ ৭ব্যক্তি আহত হয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এসব ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঘন-ঘন ডাকাতির ঘটনায় গ্রাম্য জনগোষ্ঠির মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। জানা যায়, দণি খুরমা ইউনিয়নের ভূঁইগাঁও গ্রামের মৃত মফিজ আলীর পুত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল মছব্বিরের বাড়িতে ১৫-২০জনের সশস্ত্র মুখোশধারী ডাকাতদল হানা দেয়।
ডাকাতরা দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে নগদ সাড়ে ৪ল টাকা, ৭ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, ২টি মোবাইল সেটসহ সাড়ে ৮লাধিক টাকা মুল্যের মালামাল লুট করে নেয়। এ সময় ডাকাতদের হামলায় আব্দুল মছব্বির (৭০), আমির আলী (৪৫), শেফালী বেগম (৩২) ও মাহিদা বেগম (২) আহত হয়। একই রাতে গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের ধারন গ্রামের মুসলিম আলীর বাড়িতে ডাকাতি সংঘটিত হয়। ১৫-২০জনের ডাকাতদল বসতঘরের গ্রিল ভেঙ্গে প্রবেশ করে নগদ সাড়ে ৭হাজার টাকা, ৩ভরি ওজনের স্বর্ণালংকারসহ ২লাধিক টাকার মালামাল লুট করে নেয়। ডাকাতদের প্রহারে গৃহকর্তা মুসলিম আলী (৪৫), রানী বেগম (৩৫), ফয়ছল আহমদ জুয়েল (১৭), আমেনা বেগম (১৪) গুরুতর আহত হয়। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে ছাতক থানার অফিসার্স ইনচার্জ শাহজালাল মুন্সি উভয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর আগে সোমবার গভীর রাতে উপজেলার চরমহলা ইউনিয়নের চরচৌরাই-আসাকাচর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী নজরুল ইসলামের বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাতরা নগদ টাকা, পাউন্ড, স্বর্ণালংকারসহ ২০লাধিক টাকার মালামাল লুট করে নেয়। পরদিন মঙ্গলবার রাতে গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বদিরগাঁও গ্রামের লন্ডন প্রবাসী সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ ১৫লাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। গত ৪দিনে পৃথক ৪টি ডাকাতির ঘটনায় গ্রামীণ জনপদে বিরাজ করছে ডাকাত আতংক। ডাকাতের ফেলে যাওয়া মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে এ পর্যন্ত ৩ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সম হয়েছে পুলিশ।
ছাতক থানার অফিসার্স ইনচার্জ শাহজালাল মুন্সি জানান, ডাকাত গ্রেফতারে প্রতিদিন বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close