ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রকে ফ্যানে ঝুলিয়ে নির্যাতন

eb8f585a0df86be6d866d907c52e1996-5713a9cb9fd3dডেস্ক রিপোর্টঃ ফেনীতে এক মাদ্রাসাছাত্রকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানোর পর ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে এক কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রের অভিযোগ, তালা খুলে পালিয়ে যাওয়ার অপবাদ দিয়ে মারধরের পর তাকে বাথরুমেও আটকে রাখা হয়েছিল।
শুক্রবার দুপুরে শহরের পাগলা মিয়া সড়কের মিছবাহুল কোরআন ওয়াস ছুন্নাহ মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহীনুজ্জামান জানান।
১২ বছর বয়সী আরিফুল ইসলাম শুভর বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গাংরা ইউনিয়নে। সে মার্চের শেষ সপ্তাহে ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে ভর্তি হয়।
নির্যাতিত শিশুর বাবা মো. দুলাল মিয়া জানান, শনিবার বিকালে শহরের পাগলা মিয়া সড়কের মিছবাহুল cdn.banglatribune.comcontentscacheimages777x0x1uploadsmedia201604178a334cc7b5b1202031da7bb8908b3240-5713a9cc8774b-0c55eef92d18894abdaa99047e79cd90724fb180কোরআন ওয়াস ছুন্নাহ মাদ্রাসায় তিনি তার ছেলেকে দেখতে যান। এই সময় শুভ তার পা ধরে কান্না শুরু করে এবং তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যেতে বলে। কিন্তু নির্যাতনকারী শিক্ষক মোশাররফ অন্য রুমে শুভকে ধরে নিয়ে যেতে চাইলে তাকে বাধা দিতে গিয়ে শুভর গোটা শরীরে নির্যাতনের ক্ষত দেখতে পান বাবা। বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়ে কোনও সদুত্তর পাননি তিনি।
তিনি আরও জানান, মাদ্রাসা থেকে শুভকে নিয়ে শনিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। একইদিন রাত ২টায় ফেনী মডেল থানায় এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করেন।
নির্যাতিত শিশু আরিফুল ইসলাম শুভ অভিযোগ করেন, শুক্রবার দুপুরে তাকে মারধরের ঘটনায় সারারাত ব্যথায় ঘুমাতে পারেনি। শনিবার তার বাবা আসায় ভয়ে কোনও অভিযোগ না করে বাড়িতে যেতে তার কাছে আবদার করে।
cdn.banglatribune.comcontentscacheimages777x0x1uploadsmedia20160417edb87786f88181fd86e61758af959519-5713a9cbd1d5d-075b512bf79d52f984f202a5b7a51d9de2c65787ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন, শুক্রবার দুপুরে গেটের তালা খুলে শিশুটি পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ওই কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক মোশারফ হোসেন তার ওপর নির্মম নির্যাতন করে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে নির্যাতনকারীর গ্রামের বাড়ি নাটোরেও তাকে গ্রেফতারের বার্তা পাঠানো হয়েছে।
নির্যাতনের চিহ্ন।
২৫০ শয্যার ফেনী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত মেডিক্যাল অফিসার মুহাম্মদ ফরহাদুল ইসলাম জানান, শিশুটির সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে।
এদিকে রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় শিশুটিকে হাসপাতালে দেখতে যান ফেনী সদর ইউএনও ডি কে এনামুল করিম। পরে তিনি শিশুটি যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্যাতিত হন সেই মাদ্রাসায় যান। সেখানকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ নিয়ে কথা শোনেন।
অন্যদিকে, রবিবার বিকালে সরেজমিনে শহরের পাগলা মিয়া সড়কের ওই মাদ্রাসায় গেলে গেটে তালা বন্ধ অবস্থা দেখতে পাওয়া যায়। পরে পরিচয় দেওয়ার পর এক ব্যক্তি তালা খুলে দিলে মাদ্রাসার ভেতর গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি রুমের ভেতর ৫ বছর হতে ১২ বছর বয়সী তিনজন ছাত্র একটি রুমে গাদাগাদি করে পড়াশোনা করছে।
এসময় উপস্থিত শিক্ষককেরা তাদের পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এছাড়া নির্যাতনের বিষয় কোনও কথা বলতে রাজি হননি তারা।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close