১৯৮১ সালে থেকে টানা ৩৫ বছরের সভাপতি

Sheikh-hasina20160225055337ডেস্ক রির্পোট :: দায়িত্ব পেয়েছেন সেই ১৯৮১ সালে। এর পর থেকে পদের কোনো পরিবর্তন হয়নি। টানা ৩৫ বছর সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী দল ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’কে। আসন্ন কাউন্সিলে আবারো তিনিই সভাপতি হচ্ছেন। যা নিশ্চিত বলেই সবার জানা। দলের সর্বস্তরের আস্থা আর বিশ্বাসে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দলের সভাপতি পদে এখন অদ্বিতীয়।

সাড়ে তিন দশকের রাজনীতির অভিজ্ঞতায় দলের কেন্দ্রে আপাতত শেখ হাসিনার আর কোনো বিকল্প নেই। সাংগঠনিক অন্য পদগুলোর হেরফের হলেও শেখ হাসিনার জন্য সভাপতির পদ ঠিকঠাক।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মনে করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সকলের আস্থা। তার সফল নেতৃত্বের কারণেই আওয়ামী লীগ আজ সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ সংগঠন। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী শেখ হাসিনার হাতেই নেতৃত্ব রাখতে চায়।

দীর্ঘ এই সময়ে দল ভেঙেছে। দুর্দিনে সতীর্থদের অনেকেই ছেড়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর হাতে যাদের রাজনীতির শিক্ষা তাদের অনেকেই দলের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন। বাধা এসেছে চারপাশ থেকে। হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন ১৯ বার। দেশ-বিদেশি ষড়যন্ত্র এখনও পোক্ত। তবুও হাল ছাড়েননি তিনি। অবিচল লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে  ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেন তিনি। তবে এর আগে ১৯৮১ সালে তার অনুপস্থিতিতেই সর্বসম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় শেখ হাসিনাকে। দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশের  গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে লিপ্ত হওয়ায় শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়েন তিনি। যার ফল হিসেবে  কারান্তরীণ হতে হয় বারবার। এছাড়া  হত্যার জন্য কমপক্ষে ১৯ বার সশস্ত্র হামলাও করা হয় তার উপর।

১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এরশাদ সরকার তাকে  ১৫ দিন কারা অন্তরীণ রাখে। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি এবং নভেম্বরে তাকে দুই বার গৃহবন্দী করা হয়। ১৯৮৫ সালের ২ মার্চ আবারো তাকে আটক করে প্রায় ৩ মাস গৃহবন্দী করে রাখা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে তিনি ১৫ দিন গৃহবন্দী ছিলেন। ১৯৮৭ সালে ১১ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করে একমাস অন্তরীণ রাখা হয়। ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা গ্রেফতার হয়ে গৃহবন্দী হন। ১৯৯০ সালে ২৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু ভবনে অন্তরীণ করা হয় শেখ হাসিনাকে। সর্বশেষ ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে গ্রেফতার করে সংসদ ভবন চত্বরে সাবজেলে পাঠায়। প্রায় এক বছর পর ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তিলাভ করেন তিনি।

রাজনীতির পথচলার এই সময়ে বহুবার তাকে হামলার শিকার হতে হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। ওইদিন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ-এ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য শেষের  পরপরই তাকে লক্ষ্য করে এক ডজনেরও বেশি আর্জেস গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। রোমহর্ষক সেই হামলায় শেখ হাসিনা প্রাণে রক্ষা পেলেও মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইভি রহমানসহ দলের ২৪ নেতাকর্মী নিহত এবং ৫শ’র বেশি মানুষ আহত হন। এসময় শেখ হাসিনা নিজেও কানে মারাত্মক আঘাত পান। তবে শত আঘাত সয়েও দলের জন্য নিবেদিত তিনি।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম। জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

জন্মের পর থেকেই একেকটি ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ একেকটি ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র নির্বাচন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচন এবং ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সর্বাধিক ভূমিকা পালন করে। মহান মুক্তিযুদ্ধে একক নেতৃত্ব গড়ে তোলে সংগঠনটি। এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনেও দলটির অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে।

জন্মের পর থেকেই ভাঙন, নানা ঘাত-প্রতিঘাত আর প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে আজ ৬৭ বছরে পা দিয়েছে দলটি। রাজনীতির এক ক্রান্তিকালে ১৯৬৬ সালে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিলে সভাপতি হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দলের সভাপতি নির্বাচিত হন তখন দুর্দিন যাচ্ছিল। তার দৃঢ় মনোবলের কারণে দল ঘুরে দাঁড়ায়। শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বের কারণেই আওয়ামী লীগ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল।

তিনি আরো বলেন, ‘শুধু দলেই নয়, সরকারের মধ্যেও এখন আস্থার প্রতীক শেখ হাসিনা। তার হাতেই দল বেশি সংগঠিত এবং শক্তিশালী। তার নেতৃত্বেই আমাদের ভবিষ্যৎ ভরসাও।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close