প্রধানমন্ত্রীর “বকুনি”তে হুঁশ ফিরলো ছাত্রলীগের

syl-pic-_81576সুরমা টাইমস ডেস্কঃ সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞানও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর হামলার শুরু থেকেই নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে আসছিল ছাত্রলীগ। অথচ দুদিন তিন দিন পর এই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তিন কর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ।
প্রথমে অস্বীকার করেও এমন সিদ্ধান্ত কেন? ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, দলীয় পরিচয়ে সন্ত্রাস দমনে সরকারের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত এবং সবশেষ আগাছা নির্মূলে ছাত্রলীগের প্রতি শেখ হাসিনার নির্দেশের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেতারা।
বহিষ্কারের আগে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শিক্ষকরা সব সময় আমাদের কাছে পূজনীয়। ছাত্রলীগ কখনোই কোনো শিক্ষককে লাঞ্ছিত তো দূরের কথা, স্যারদের অসম্মান হয় এমন কিছু করেনি। সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়েও রবিবারের অপ্রীতিকর ঘটনায় ছাত্রলীগের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নন।’
অথচ সোমবার রাতে শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি অঞ্জন রায়, আবু সাঈদ আকন্দ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের পর জাকির হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নেত্রীর নির্দেশের পরই আমরা আগাছা মুলোৎপাটনে শুরু করেছি। সংগঠন কার্যকলাপ বিরোধী কর্মকান্ড যেই করবে তাদের কোন ছাড় দেয়া হবে না’।
আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, কেবল ছাত্রলীগ নয়, দলের পরিচয়ে সন্ত্রাস করলে কেউ পার পাবে না, এই বার্তা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ দলের সব সহযোগী সংগঠনের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক কালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক নামধারী কিছু ব্যক্তির কর্মকা-ে সরকারের বদনাম হওয়ার কারণে এখন কঠোর অবস্থানে সরকার। গত এক মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে যুবলীগ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের চার নেতা-কর্মী নিহতের পর পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে মনে করে আওয়ামী লীগ।
তবে আগের তুলনায় স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে সরকার আবার সমালোচনায় পড়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মকা-ে। উপাচার্য এবং তার বিরোধী শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে ছাত্রলীগ কেন জড়ালো, সংগঠনের নেতাদের কাছে সে কৈফিয়তও চেয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। ছাত্রলীগের কারণে সরকার অস্বস্তিতে পড়বে, সেটা মেনে নেয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেয়া হয় সংগঠনের নেতাদেরকে।
ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অপরাধ যে করবে কোন ছাড় দেয়া হবে না। আমরা যেখানে অপরাধ দেখবো সেখানে ব্যবস্থা নেবো’। তিনি বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আসার পরই তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরই সাথে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদেরকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে’।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close