নবীগঞ্জে দিনদুপুরে নিরীহ ললিত সম্প্রদায়ের বসত ঘরে আগুন

agun 12উত্তম কুমার পাল হিমেল, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নবীগঞ্জ পৌর এলাকার রাজাবাদ কান্দিপাড়া নদীর পাড়ের বাসিন্দা নিরীহ ললিত সম্প্রদায়ের লক্ষন রবি দাসের (মুছি সম্প্রদায়) বসত ঘরে গতকাল মঙ্গলবার দিন দুপুরে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। এতে সম্পূর্ন ঘর ভুস্মিভুত হয়ে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে এ ঘটনায় লক্ষন রবি দাস তার সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে এবং বিলাপ করে ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবী জানান লক্ষন রবি দাস।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, পৌর এলাকার রাজাবাদ কান্দিপাড়াস্থ শাখাবরাক নদীর পাশের একখন্ড ভুমি খরিদ করে দীর্ঘদিন ধরে মৃত রাজচরন রবি দাসের ছেলে লক্ষন রবি দাস বসবাস করে আসছে। দারিদ্রতার সীমার নীচে বসবাস করে কোন রকম স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে জীবন যাপন করে লক্ষন। পেশায় মানুষের জুতা সেলাই ও রং লাগানোই একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড়শত টাকা আয় হয়। এ দিয়েই চলে তার সংসার। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার সকালে সে তার কর্মস্থল নবীগঞ্জ শহরে আসে। স্ত্রীকে পাঠিয়ে দেয় মৃত বড় ভাই রামলাল রবি দাসের বাড়ি দত্তগ্রামে একটি অনুষ্টানে। বাচ্চারা স্থানীয় একটি স্কুলে চলে যায় বসত ঘরে তালা দিয়ে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লক্ষন রবি দাসের বসত ঘরে আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখে পথচারীরা। স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার আগেই সম্পন্ন ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে হাঁস মুরগী, ধান, মুল্যমান জিনিস পত্রসহ নগদ ২/৩ হাজার টাকাও রক্ষা পায়নি। খবর পেয়ে ছুটে এসে লক্ষন রবি দাস ও তার পরিবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। অগ্নিকান্ডের কোন কারন জানা না গেলেও লক্ষন রবি দাস অভিযোগ করেন প্রতি সুদিন মিয়া ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। সীমানা নিয়ে তাদের সাথে বিরোধ চলছে বেশ ক’দিন ধরে। মুছি পরিবার উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র করে আসছে সুদিন। লক্ষন জানায়, ইতিমধ্যে উক্ত সুদিন প্রভাবশালী হওয়ায় তার দখলীয় প্রায় ২ হাত ভুমি জবর দখলে রেখেছে। স্থানীয় সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে বিচার দিয়েও বিচার পায়নি। তার অভিযোগ সুদিন এবং তার পরিবারই ঘরে আগুন লাগিয়েছে। এ ঘটনাটি তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close