শিরোপা জিতবে কে, ইংল্যান্ড না ওয়েস্ট ইন্ডিজ?

1ক্রীড়া প্রতিবেদক :: ১৯৭৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরের ফাইনালেই মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ড। সেবার ক্লাইভ লয়েডের দলের কাছে ৯২ রানে হেরে স্বপ্ন ভঙ হয়েছিল ইংলিশদের। ওয়ানডেতে না হলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে ৩৭ বছর পর আবারও আইসিসির কোন ইভেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি এ দু’দল। তাই ইংল্যান্ডের জন্য ইডেন গার্ডেন একটি প্রতিশোধের মঞ্চও।

শুধু তাই নয়, এবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। তাই প্রতিশোধের আগুনটা তৈরি হয়েছে দ্বিগুণ। অপরদিকে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ চায় তার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শিরোপা জিততে। এমন সমীকরণ নিয়েই কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স স্টেডিয়ামে আগামীকাল রোববার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় স্বপ্নের ফাইনালে মুখোমুখি দল দুটি।

এর আগে একবার করে এ সংস্করণের শিরোপার স্বাদ পেয়েছে ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১০ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় আসরের শিরোপা জিতেছিলো ইংল্যান্ড। আর পরের আসরের শিরোপা জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া আগের পাঁচ আসরের বাকি তিনটি জিতেছে উপমহাদেশের তিন শক্তিধর দেশ ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকা।

2তাই এবার জিতলে প্রথমবারের মত দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের ইতিহাস গড়ার সুযোগ পাচ্ছে দল দুটি। ইতিহাস গড়তে বদ্ধপরিকর দুই দলই। তবে এ সংস্করণে দু’দলের অতীত লড়াই অবশ্য এগিয়ে রাখছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩ ম্যাচের ৯টিই জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ৪টি জিতেছে ইংল্যান্ড।

সুপার টেনে একই গ্রুপে ছিলো ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গ্রুপ-১-এর প্রথম ম্যাচেই লড়াইয়ে নামে দল দুটি। সেখানে ইংলিশদের অসহায় আত্মসমর্পন করতে বাধ্য করেছিলো ক্যারিবিয়ানরা। অবশ্য ওই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পুরো দলের কাছে নয় ক্রিস গেইলের কাছেই হেরেছিল ইংলিশরা। অথচ ওই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৮৩ রানের বড় লক্ষ্যই দিয়েছিলো ইংল্যান্ড। কিন্তু ড্যাশিং ওপেনার ক্রিস গেইল দিন শেষে ১৮২ রানের স্কোরকে একাই মামুলী বানিয়ে দেন। তার ৪৮ বলে করা ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংসে ১১ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় পায় ক্যারিবীয়রা।

তবে সে ম্যাচে হারের পর টানা চারটি ম্যাচ জিতে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ড। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার করা ২২৯ রানের বিশাল স্কোরও টপকে যায় ইয়ন মরগ্যানের দল। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হেরে চমক পর ভারতের বিপক্ষে দারুণ জয় তুলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে ক্যারিবীয়রাও। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই শিরোপা জয়ের সংখ্যা দ্বিগুন করার লক্ষ্য তাদের।

3দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্নও দেখছে শুরু করে দিয়েছে ইংল্যান্ড। ফাইনাল জয়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন জানালেন দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় জো রুট। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ আসরে দুর্দান্ত ক্রিকেটই খেলছি আমরা। ধারাবাহিক জয়ের ধারাতে আছি। সেমিফাইনাল ম্যাচটি আমাদের সাহস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। শিরোপা জয়ের ইচ্ছাও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ফাইনালে কি হবে, তা নিয়ে ভাবছি না। খেলার দিকেই আমরা সবচেয়ে বেশি মনযোগী। শিরোপা জয়ের জন্য সেরা খেলাটাই খেলবো আমরা।’

রুট আত্মবিশ্বাসী হলেও অধিনায়ক মরগ্যান ভয় পাচ্ছেন ক্যারিবিয়ানদের বর্তমান ফর্ম নিয়ে। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ক্যারিবীয়দের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর দলকে সাবধান করে দিয়েছেন তিনি। গ্রুপ পর্বে গেইলের কাছে হারলেও এবার যে কেউ ভয়ংকর হতে পারেন বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গ্রুপ পর্বে গেইল আমাদের বিপক্ষে ভালো খেলেছে, কিন্তু ম্যাচের আগেও আমি বলেছিলাম তাদের দল শুধু গেইল নির্ভর নয়। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যখন আপনি একটি ভালো দলকে মোকাবেলা করবেন তখন তাদের একজন দুইজন নয় প্রত্যেককে সমান গুরুত্ব দিবেন। কারণ যে কেউ আপনাকে আঘাত করতে পারে। আমার মনে হয় সেমিফাইনালে ভারতের ম্যাচেই আপনারা তা দেখেছেন।’

সেমিফাইনাল জয়ের পর থেকে ক্যালিপসো নাচ দিয়ে উৎসব করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এমনকি মুম্বাই থেকে কলকাতা আসার বিমানেও সে নাচ অব্যাহত ছিল। এই আনন্দ ধরে রেখেই ফাইনালে জয় তুলে নিতে চান দলের অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে হারাতেই পারেন তারাই এমন আত্মবিশ্বাস রয়েছে তার দলে বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা ইংল্যান্ড দল নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা তাদের সবাইকে দেখেছি। তাদের অনেক ম্যাচ উইনার আছে। আমরা এটা হালকাভাবে নিব না। টিম মিটিংয়ে সিনিয়র ক্রিকেটাররা কথা বলেছে। মনে হয় ব্র্যাভো বলেছিল, আমাদের হারাতে পারি শুধু আমরাই। আমরা এটাই বিশ্বাস করি। একমাত্র আমরাই নিজেদের হারাতে পারি। আমাদের ভালো করতে হবে। এই মানসিকতাই আমাদের ফাইনালে এনেছে।’

এ ম্যাচটাকে অন্য হিসাবে বলা যায় পাওয়ার হিটারদের লড়াই। টুর্নামেন্টে সে প্রমাণ তারা রেখেছেন। দুদলেই রয়েছেন বেশ কয়েকজন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান। ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, লেন্ডল সিমন্সদের যে কেউ ক্যারিবিয়ানদের পক্ষে তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন। তেমনি জ্যাসন রয়, জো রুট ও জস বাটলররাও কম যাননা। তাই শেষ পর্যন্ত শিরোপাটি কার হাতে উঠবে তা বলা খুব কঠিন। শক্তি ও পারফরমেন্সের বিচারে দুই দলই সমানে-সমান। তাই জমজমাট এক ফাইনালের প্রত্যাশায় রয়েছে ক্রিকেটভক্তরা।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close