লক্ষ্মীপুরে সন্তানের সামনে মাকে বিবস্ত্র, নির্যাতন মাথা ন্যাড়া করে উল্লাস

15ডেস্ক রিপোর্ট :: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সন্তানের সামনে মাকে বিবস্ত্র করে গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। পরে মাথা ন্যাড়া করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে উল্লাস করার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার নুর হোসেন, তার ছেলে আজিজ ও মেয়ে হাসিনা বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নির্যাতিত ওই নারী বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়,  লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বিগা এলাকার হতদরিদ্র আবদুল কাদেরের স্ত্রী খুরশিদা বেগম নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালান। গত কয়েকদিন ধরে কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তার মাটি কাটার কাজ করেন তিনি। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও রাস্তার মাটি কাটার কাজ করার জন্য সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি। বেলা বারোটার দিকে একই ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া গ্রামের মনা মিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগম তাকে ডেকে নেয় ব্রহ্মপাড়া এলাকায়। তার স্বামী মনা মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বার্তা বলে কেন জানতে চায়। এ সময় খুরশিদা তা অস্বীকার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে টানা-হেঁচড়া করে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে হাসিনা বেগমের বাবা নুর হোসেন ও ভাই আজিজসহ তিনজন ব্রহ্মপাড়া এলাকায় ১২ বছরের মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলের সামনে নারিকেল গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে বিবস্ত্র করে বর্বর নির্যাতন চালায়। পরে ব্লেড দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে আনন্দ-উল্লাস করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে খুরশিদাকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে ভেঙে পড়েছেন তিনি। রাতে খুরশিদা বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় নুর হোসেন, তার ছেলে আজিজ ও মেয়ে হাসিনা বেগমকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোতা মিয়া বলেন, এটি একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close