সুনামগঞ্জ জেলার ৪৯৩ বিদ্যালয়ের টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী : নিরব কর্তৃপক্ষ

4ডেস্ক রিপোর্ট :: সুনামগঞ্জ জেলার ৪৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টয়লেট শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। নানা অযত্নে ও অবহেলায় এসব টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত এসব টয়লেট ব্যবহার করতে পারছেন না শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এতে ভুক্তভোগীদের স্কুলের পাশের বাড়িতে গিয়ে প্রাকৃতিক কার্য সারতে হয়। কিন্তু দুর্গম ও গ্রাম এলাকার অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েই অনুপযোগী এসব টয়লেট ব্যবহার করছেন। সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জরুরি ভিত্তিতে এসব বিদ্যালয়ের টয়লেট সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হযরত আলী বলেন, ‘সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলার ৪৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ওই টয়লেটগুলো ব্যবহার করতে পারছেন না। দুর্গম এলাকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েই নোংরা ও ব্যবহারের অনুপযোগী বাথরুম ব্যবহার করছেন। আমরা টয়লেটগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছি। আশা করি শিগগিরই এ ব্যাপারে সাড়া পাওয়া যাবে।’

সংশ্লিস্টরা জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই আবেদনে টি১১ উপজেলার ৪৯৩ বিদ্যালয়ের অনুপযোগী টয়লেটের তালিকা দেওয়া হয়। অধিদপ্তরে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সদর উপজেলার ৬৭টি, দোয়ারাবাজারে ৫৩টি, বিশ্বম্ভরপুরে ২৫টি, ছাতকে ৩২টি, জামালগঞ্জে ২০টি, তাহিরপুরে ৩০টি, ধর্মপাশায় ১৫৬টি, শাল্লায় ২২টি, দিরাইয়ে ৩২টি, জগন্নাথপুরে ৩১টি এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ২৫টি সরকারি বিদ্যালয়ের টয়লেট ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। পিডিইপি-৩-এর আওতায় চলতি অর্থবছরেই এসব বিদ্যালয়ের টয়লেট জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন।

এ ছাড়া সাধারণ এসব টয়লেটের একটিতেও ফ্ল্যাশবক্স নেই। ফলে টয়লেট ভালোভাবে পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। এতে দুর্গন্ধে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে সদর উপজেলার মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভ (ছদ্মনাম) জানায়, বিদ্যালয়ে আসার পর প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে সে খোলা জায়গায় বসে। বিদ্যালয়ের বাথরুম ব্যবহার করা যায় না। সে খোলা জায়গায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে পারলেও মেয়ে শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে সমস্যায় রয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার চিকসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু নাছের বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ে সাতজন শিক্ষক ও ৪০০ শিক্ষার্থী।

বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ও নোংরা টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। কারণ দুর্গম এলাকার কারণে লোকালয় দূরে থাকায় আমাদের সামনে বিকল্প পথ নেই। জরুরি ভিত্তিতে আমাদের টয়লেট সংস্কার করে দেয়ার জন্য সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close