বিএনপি অফিসে চেয়ার দখল নিয়ে মারামারি! (ভিডিও)

BNP Office Naya Paltan videoডেস্ক রিপোর্টঃ পৌরসভা নির্বাচনের দিন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চেয়ার দখল আর মারামারি ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে টিভিতে চেহারা দেখানো এবং চেয়ার দখল নিয়ে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
আজ সকাল থেকেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। দলের পক্ষ থেকে যখন সংবাদ সম্মেলন করে বক্তব্য দেয়া হয় ঠিক তখনি টেলিভিশনে চেহারা দেখানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। এসময় চেয়ার দখলের হিড়িক পড়ে যায়। তখন শুরু হয় নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি। দায়িত্বপ্রাপ্তরা সবাইকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিলেও কেউ কর্ণপাত করেন না। তবে বিষয়টি নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক বিব্রত।
অভিযোগ রয়েছে, এ পর্যন্ত নয়াপল্টন কেন্দ্রিক যতগুলো মারামারির ঘটনা ঘটেছে তার নেতৃত্বে বিশেষ এলাকার নেতাকর্মীরা জড়িত। আজ নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনের সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ নাসিরের ওপর পল্টন থানা যুবদলের এক নেতা হামলা করেন।
অন্যান্য দিনের চেয়ে একটু আগেই নয়াপল্টনে আসেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বেশ কয়েকজন কর্মী। এদের কারোরই দলে কোন পদ নেই। নির্বাচন উপলক্ষে প্রথম দফার সংবাদ সম্মেলন করা হয় সকাল সাড়ে নয়টায়। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। সময় মতো সংবাদ সম্মেলনও করেছেন রুহুল কবির রিজভী। সংবাদ সম্মেলন শেষে রিজভী কক্ষ থেকে বের হওয়ার পরপরই শুরু হয় মারামারি। প্রথমে ছাত্রদল নেতা নাসিরের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় পল্টন থানা যুবদলের খলিলের। এরইমধ্যে হঠাৎ করে টেবিলে রাখা বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির মাইক্রোফোন নাসিরের দিকে ছুড়ে মারে। নাসির এর প্রতিবাদ করলে ছুটে গিয়ে তাকে ঘুষি মারে খলিল। এসময় পাশে দাঁড়ানো স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল ইসলাম পটুসহ বেশ কয়েকজন তাকে থামতে বললেও থামেননি খলিল। তবে মার খেলেও গোটা সময় চুপ ছিলেন ছাত্রদলের এই কেন্দ্রীয় নেতা।
পরে অবশ্য রিজভী আহমেদের আগমনের মধ্য দিয়ে মারমারি এই যাত্রায় শেষ হয়। এসময় সাংবাদিকরা মাইক্রোফোন দিয়ে মারামারির প্রতিবাদ করলে রিজভী জড়িতদের সাংবাদিকদের কাছে ‘সরি’ বলার জন্য বলে দিয়ে নিজের রুমে চলে যান।
গতকাল মঙ্গলবারও সংবাদ সম্মেলনের সময় সামনের দিকের চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে মহানগর বিএনপির ফিরোজের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, ফিরোজের ওপর হামলাকারী নজরুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী। তিনি পল্টন থানা যুবদলের সদস্য। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাইফুল ইসলাম পটু ফিরোজের ওপর হামলার সময়ও তিনি ছিলেন। পরে রুহুল কবির রিজভী এসে তাদের থামিয়ে দেন। প্রথমে থামলেও পরক্ষণে আবারও তারা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।
ছাত্রদলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘এদের বিরুদ্ধে কিছু বলার সুযোগ নেই। কারণ তারা বিশেষ এলাকার লোক। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, ছাত্রদলের কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েলের ওপর হামলার ঘটনায় এরাই জড়িত। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার ওপর হামলা করা হয়।
বিশেষ এলাকা কোনটি- জানতে চাইলে এই ছাত্রদল নেতা বলেন, ‘বৃহত্তর নোয়াখালী। এখানে তাদের একটা জোটও আছে। তাই এদের কোনো সমস্যা নেই।’

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close