আজ প্রতিমা বিসর্জনের সমাপ্তি : শান্তি ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহবান

শারদীয় দূর্গোৎসবের প্রতিমা নিরঞ্জন শুরু

devi_durgaসনাতন হিন্দু ধর্মের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব ধর্মীয় ভাব গম্ভির্যের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ন হয়েছে। বোধন থেকে বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ভক্ত ও পূণ্যর্থীদের উৎসব মোখর অংশগ্রহনে সারা দেশের মত সিলেটেও দুর্গোৎসব উপলক্ষে মিলন মেলায় পরিনত হয়েছিল। সিলেট জেলার ৫৮৪টি পূজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হয় শারদীয় দূর্গা পূজা। প্রতিটি মন্ডপে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় এবং সমাজ থেকে অশুভ অশুর শক্তির পরিত্রানের জন্য প্রার্থনা করা হয়। ধর্ম যার যার-উৎসব সবার এই উপলব্ধিতে সকলের অংশগ্রহনে দুর্গোৎসব রূপ নেয় বাঙ্গালীর সম্প্রীতির উৎসবে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এই উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর করতে আন্তরিক ভাবে এগিয়ে এসেছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার মহাদশমী বিহীত পুজা শেষে দশমী তিথীতে মন্দিরগুলোতে করা হয় দর্পন বিসর্জন। বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী চাঁদনীঘাটে সুরমা নদীতে মহানগরীর বেশিরভাগ পারিবারিক পুজা মন্ডপ, কিছু সংখ্যক সার্বজনীন পূজা মন্ডপ এবং সদর ও দক্ষিন সুরমার বেশকটি পূজা মন্ডপ প্রথম পর্বে প্রতিমা নিরঞ্জন করেন। ঢাক-ঢুল, বাদ্য-বাজনা আর আরতির মধ্য দিয়ে উৎসব মোখর পরিবেশে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দেয়া হয়। সর্বশেষ অশ্রুসিক্ত নয়নে মা কে বিদায় জানিয়ে তার কাছ থেকে আশির্বাদ নেন ভক্তজনেরা।
প্রতিমা নিরঞ্জন উপলক্ষে বাংলাদেশ পুজা উদ্যাপন পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে সুবোধমঞ্চ থেকে পরিচালিত হয় পুরো অনুষ্ঠানটি। পূজা পরিষদ জেলা কমিটির সভাপতি এড. নিরঞ্জন কুমার দে এর সভাপতিত্বে ও জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক রজত কান্তি ভট্টাচার্য এবং মহানগর যুগ্ম সম্পাদক চন্দন দাসের পরিচালনায় প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা করেন, পুজা পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য শিক্ষাবীদ বিরাজ মাধব চক্রবর্তী মানস। প্রতিমা নিরঞ্জনের অনুষ্ঠানে সন্ধ্যায় সস্ত্রিক উপস্থিত হন সিলেট মেট্রোপলিট পুলিশ কমিশনার কামরুল হাসান। তিনি দীর্ঘক্ষন নিরঞ্জন অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা অশিত ভট্টাচার্য, পূজা পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক এড. মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, মহানগর প্রধান উপদেষ্টা এড. প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য, মহানগর সভাপতি এড. বিমান চন্দ দাশ, বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ ও পূজা পরিষদের সদস্য বিজিত চৌধুরী, জগদিশ চন্দ্র দাস, মহানগর সহ সভাপতি সুব্রত দেব, শ্যামল ধর, মলয় পুরকায়স্থ, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক রতজ কান্তি গুপ্ত। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পূজা পরিষদের জেলা ও মহানগর নেতা শ্যামল চন্দ, কৃতেশ পাল, এড. বিভাবষু গোস্মামী বাপ্পা, ধনঞ্জয় দাস ধনু, নন্দন পাল, রতিন্দ্র দাস ভক্ত, লিটন পাল, স্বপন বর্মন প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যখনি অধর্মের সৃষ্টি হয় এবং অশুভ শক্তির অত্যাচার বেরে যায় তখনি যুগে যুগে, কালে কালে মানুষকে রক্ষার জন্য সত্য ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য শুভ শক্তির উদয় হয়। দেবী দুর্গা অসুর শক্তিকে নিধন করে দেবকুলকে রক্ষা করেছিলেন। বক্তারা আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। এদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি বজায় রাখতে সম্মিলিত ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিছু সংখ্যক অধার্মীক ও কুচক্রি মহল এই সম্পৃতিকে নষ্ট করার জন্য এবং দেশের ভাবমূর্তিকে নর্সাৎ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। বক্তারা ধর্মের অনুশাসনের মধ্য থেকে শান্তি ও সম্পৃতির মধ্য দিয়ে প্রিয় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার কথা বলেন। তারা শারদীয় দুর্গোৎসবকে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পরিচালিত করতে বর্তমান সরকার, রাজনীতিবীদ, সুশীল সমাজ সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এবং দেশবাসীকে শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলের মঙ্গল কামনা করেন। ২দিন ব্যাপী বিসর্জন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজও বিকেল ৪টা থেকে ঐতিহ্যবাহী চাঁদনী ঘাটে রাত ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ডপের পূজারীবৃন্দ দেবী প্রতিমা নিয়ে অংশ নিবেন।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close