সম্পর্ক-বিচ্ছেদ : রাজু আহমেদ

Raju Ahmedনারী-পুরুষের জৈবিক সম্পর্ক এবং মানব সৃষ্টির সূচনা প্রায় সমসাময়িক । নৃ-গোষ্ঠীগত ইতিহাস আদিম মানুষ থেকেই নারী-পুরুষের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের স্বাক্ষী দেয় । ক্ষুধাবৃত্তির মতই মানষের জৈববৃত্তি অপরিহার্য । মানব সভ্যতার শুরুতে বৈবাহিক সম্পর্ক বর্তমান সময়ের মত গোছানো না থাকলেও বংশবৃদ্ধি কেন্দ্রিক মজবুঁত সম্পর্ক গড়ে উঠত । সেই আদি অবস্থান থেকে কালক্রমে নারী-পুরুষের মধ্যে সুষ্ঠুধারার সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে এক সময় পূর্ণতা পেয়েছিল বটে তবে পূর্ণতার ধর্মই আবার ক্ষয় হতে শুরু করা । মনোঃবিকৃতি হোক কিংবা অন্যকোন কারণেই হোক এখন সভ্যতার ধ্বজাধারীদের মধ্যে জৈবিক চাহিদা পূরণের পদ্ধতিতে বিকৃত রুচির পরিচয় মিলছে । যে পদ্ধতি সংক্রামক হয়ে গোটা বিশ্বে দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে ।
বৈবাহিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নারী-পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরণ তবে এটা মূখ্য উদ্দেশ্য নয় । একটি বৈবাহিক সম্পর্ক শুধু দু’জন নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে না বরং এ সম্পর্ক দু’টো পরিবারের মধ্যে নতুন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে । বংশবৃদ্ধি ঘটায় এবং সন্তান-সন্ততিকে পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় শিক্ষা-মূল্যবোধে মানুষ করে তোলে । জৈবিকবৃত্তিকে অস্বীকার করলে আর বৈবাহিক সম্পর্ক টিকে না ঠিক তবে আনুষঙ্গিক উদ্দেশ্যগুলোও কোন অবস্থাতেই কম গুরুত্ববহ নয় ।
অতীতের সকল সময়ের ‍তুলনায় বর্তমান সময়ে বাংলাদেশেসহ গোটা বিশ্বব্যাপী বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছেদের ঘটনা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে । বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য অবশ্য বহু কারণ চিহ্নিত করা যায় । তবে আমার মনে হয়, বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছেদের সবচেয়ে বড় কারণ জৈবিক চাহিদা পূরণের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া । নারী-পুরুষের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের পর কিছুদিন তাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক দেখা যায় এবং একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রায় জঞ্ঝাটবিহীন সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায় । এমন মধুর সম্পর্কের পিছনে হয়ত আবেগ কিংবা সক্ষমতার সংক্রিয়তা কাজ করে । যদি তাই না হয়; তবে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই সম্পর্কের শিথীলতা এবং দ’জনের মধ্যে দূরত্ব কেন সৃষ্টি হবে ? বিবাহিত নারী-পুরুষগণ হয়ত এর অন্যকোন কারণ উদ্ধৃত করবেন কিন্তু আমি পশ্চিমা বিশ্বকে উপমা হিসেবে টেনে আমার আশঙ্কার কথা বলেছি মাত্র ।
গোটা বিশ্বের মধ্যে জৈবিক সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করে পশ্চিমারা । অথচ তাদের মধ্যেই বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি । যদিও তাদের দেশগুলোতে নারী-পুরুষ জৈবিক চাহিদা পুরণের সম্পর্ক স্থাপনে প্রতিবন্ধকতাহীন স্বাধীনতা পায় তবুও তাদের মধ্যে যারা বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয় তাদের খুব সামান্য সংখ্যকের দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে যারা বৈবাহিক সম্পর্ককে আমৃত্যু ধারাবাহিক করতে পেরেছে । আমরা যেহেতু প্রায় সকল ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের অন্ধ অনুকরণ করি তাই বৈবাহিক সম্পর্ক ভাঙনে জৈবিকবৃত্তির উত্থাণতা-শিথীলতায় যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তা বোধকরি অস্বীকার করার সাধ্য নাই । অবশ্য এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞরা তর্কের অবতারণা করতে পারেন বটে কিন্তু আসল সত্যকে দূরে রাখার চেষ্টা করলে সেটা অপচেষ্টাই হবে বৈকি । সবাই চাই, বৈবাহিক সম্পর্কগুলো জীবনভর স্থায়ী হোক । অবশ্যই এটা অসম্ভব কোন চাওয়া নয় । কাজেই বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জৈবিকবৃত্তির সাথে আনুষাঙ্গিক দায়িত্বগুলো পালন করলে তবেই বিবাহ-বিচ্ছেদের মত জঘন্য অন্যায়গুলোর কবল থেকে সংসার-সমাজ থেকে রক্ষা পাবে । কাজেই সকল মধুর সম্পর্কগুলো চিরকাল যে অম্লান থাকে সে চেষ্টাই আমাদের মধ্যে অনিঃশেষ হোক ।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close