মাহে রমযানে ‘মুত্তাকী’ জীবনের প্রত্যাশা

॥ মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান ॥

Ramadan _Islamইসলাম ধর্মের অনুসারী মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাময় ও গুরুত্বপূর্ণ রমযান মাস সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের সূরা আল বাকারায় (আয়াত ১৮৩-১৮৫) আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা বলেন: ‘‘রমযান মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে আল কুরআন। যা মানব জাতির জন্য সঠিক পথপ্রদর্শনকারী। সঠিক পথে চলার জন্য সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী, হক/সত্য ও বাতিল/মিথ্যাকে পরিষ্কারভাবে উপস্থাপনকারী। তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে সে পুরো মাসটিতে রোজা রাখবে।”
পবিত্র কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী: মানুষের মধ্যে ‘তাকওয়া’-এর গুণ সৃষ্টির লক্ষ্যে রোজা পালনকে ফরজ বা অবশ্য পালনীয় কর্তব্য হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘তাকওয়া’-এর অর্থ হলো আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলার প্রতি ভালোবাসা ও ভয়ের অনুভূতি। আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলার প্রতি ঈমান বা পূর্ণ বিশ্বাস এবং তার সীমাহীন অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাঁর প্রতি মানুষের ভালোবাসা জাগ্রত হয়। আর তাঁর অন্যান্য গুণাবলী, যেমন রাগ-ক্ষোভ ও শাস্তি দানের ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস লালনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি ভয়ের ও মান্যতার অনুভূতি সৃষ্টি হয়। ভালোবাসা ও ভয়ের এ মিলিত মানসিক অবস্থার নাম ‘তাকওয়া’। ‘তাকওয়া’ হলো সকল ভালো কাজের উৎস; সকল মন্দ কাজ থেকে বাঁচার সত্যিকার উপায়। ‘তাকওয়া’-এর গুণাবলী অর্জনকারী ‘মুত্তাকী’ নামে অভিহিত, যে নিজে সৎ কর্মশীল থেকে আপামর মানুষকে সৎ কাজের প্রতি আদেশ দিতে পারঙ্গম আর নিজে সর্ব প্রকার অসৎ থেকে বিরত থেকে তাবৎ মানব-প্রজন্মকে অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকবার কাজে নিষেধ প্রদান করতে সক্ষম। এবং তিনি মানুষকে আহবান জানাবেন কল্যাণের পথে। আর এ কথা তো সকলে জানা যে, প্রকৃত প্রস্তাবে মুসলমানদের সৃজন করাই হয়েছে মানব জাতিকে সকল প্রকার অকল্যাণ থেকে বিরত রেখে কল্যাণের পথ দেখানোর জন্য।
এ মহান কাজেই পুরোটা জীবন উৎসর্গ করে গেছেন রাহমাতাল্লিল ‘আলামীন নবী মুহাম্মদ মুস্তাফা আহমাদ মুজতাবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। জাগতিক ধন-সম্পদ আহরণ বা পদ-পদবী গ্রহণের বদলে তিনি জীবন উৎসর্গ করে গেছেন আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা কর্তৃক একমাত্র মনোনীত পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা ইসলামকে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণকামী কাঠামোতে উপস্থাপনের ঐশী দায়িত্ব পালনের কাজে। নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিষ্ঠাবান অনুসারী বা সাহাবা রাদি আল্লাহু আনহুমগণও একই কল্যাণব্রতী পথে চলে একবার অন্ধকারাচ্ছন্ন আরব ও আযমে শাস্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
এ কাজে তাদের সামনে ছিল মাত্র দু’টি অবলম্বন: ১. আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলার প্রেরিত কিতাব আল কুরআন; এবং ২. নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন-কর্ম-কথার সমষ্টিতে বিনির্মিত তাঁর অনুসৃত আদর্শ বা সুন্নাত।
পবিত্র দু’টি অবলম্বন নিয়েই ইসলাম তার প্রাথমিক যুগে সকল প্রকার আক্রমণ ও প্রতিকূলতাকে পরাভূত করতে সক্ষম হয়। ইসলামের আবির্ভাবের পর প্রথম যে রমযান মাস এসেছিল, তার ১৭ তারিখ আরবের ইসলামবিরোধী জোট হামলা চালায় নতুন ধর্মকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে। বদরের ময়দানে হাজার হাজার শত্রুর আগ্রাসী-আক্রমণকারী সুসজ্জিত বাহিনীকে মাত্র ৩১৩ জন মুসলমান সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করে ইসলামের শান্তি ও কল্যাণের ঝান্ডাকে সমুন্নত রেখেছিলেন এই ‘তাকওয়া’ বা খোদা প্রেম ও ভীতির মিলিত শক্তিতে। পরবর্তী মুসলিম শাসকগণ চিরায়ত আদর্শ তথা কুরআন ও সুন্নাহর পথ থেকে বিচ্যুৎ হয়ে ক্ষমতা ও জাগতিকতার নানা স্বার্থ-দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। ফলে তারা বংশ, রাজতন্ত্র, অঞ্চল, ভাষা, গোষ্ঠীসহ নানা ক্ষুদ্রতর স্বার্থ চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে সামগ্রিক মুসলিম জগত ও মানবতার কল্যাণকামীতা থেকে সরে আসেন। এ পর্যায়ে তাদের মধ্যে তীব্র অবক্ষয় ও পতন সূচিত হয়। নিজস্ব সীমাবদ্ধতা আরও প্রকট হয়, যখন মুসলমানদের ঐতিহাসিক শত্রু কখনও এককভাবে কিংবা কখনও সংঘবদ্ধভাবে শক্তি সঞ্চয় করে মুসলমানদের ওপর আক্রমণ শানাতে থাকে। কখনও ত্রুসেডের নামে, কখনও উপনিবেশিকতার নামে, কখনও সাম্রাজ্যবাদের নামে মুসলমানদের ওপর হামলে পড়ে একদার বিশ্বজয়ী শক্তিকে নাস্তানাবুদ করে ফেলা হয়। বর্তমান একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বায়নের এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থায় একক বিশ্বশক্তি ইঙ্গ-মার্কিন নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য খ্রিস্ট-ইহুদি বলয়ের হাতে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, নিপীড়িত ও নিগৃহীত অবস্থায় রয়েছে মুসলিম জগত। এই পরিস্থিতিতে মাহে রমযান সবাইকে আত্মশুদ্ধি, খোদাভীতি ও সুকর্মের মাধ্যমে আত্মজাগরণের পথ দেখাবে; কল্যাণ, মৈত্রী, ভালোবাসার বন্ধনে মানব জাতিকে মহীয়ান করবে; ত্যাগের ব্রতে পরহিতের চেতনায় সিক্ত করবে-এই হোক আমাদের সম্মিলিত প্রার্থনা।
স্মরণ রাখা দরকার যে, আগে যেমন ঔপনিবেশিক শক্তির অধীনে অনগ্রসর দেশ ও জাতিসমূহ এবং পরবর্তীতে পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের নামে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেশসমূহকে নানাভাবে শাসন-শোষণ ও নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো; বর্তমানে তা করা হচ্ছে পশ্চিমা আধুনিকতার নামে ইসলামের বিরুদ্ধে। আজকে পত্রিকা ও টিভি খুললেই বিশ্বের নানা প্রান্তে মুসলিম নিধনের খবর পাওয়া যায়। ক্রমে ক্রমে ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী এহেন আক্রমণাত্মক ধারা যেন বেড়েই চলেছে।
সংবাদপত্রের প্রাত্যহিক খবরের বাইরে গবেষকদের অনুসন্ধিৎসু কলমে ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী ইঙ্গ-মার্কিন-ইহুদি আগ্রাসনের চালচিত্র ধরা পড়েছে। বলা যায়, মুসলিম বিশ্বে আগ্রাসন নতুন কিংবা মৌলিক চিন্তার প্রসঙ্গ নয়। শাসনে-দুঃশাসনে ক্ষত-বিক্ষত পবিত্র কুরআনের শব্দ ‘মুসলিম’ চলমান বিশ্বে এক নিগৃহীত ও নিপীড়িত জাতিসত্তা। অনেকের কাছে এ শব্দটি অসহ্য। মুসলিম জনসংখ্যার গরিষ্ঠ অংশ বাস করে সংখ্যালঘু হয়ে বিশ্ব মাত্রচিত্রের নানা অংশে। পৃথিবীর তিনভাগ পানি আর একভাগ স্থল। পানি আর স্থলভাগের বিভাজনের মতো মুসলিম জনগোষ্ঠীও বিভাজিত। মুসলিম গরিষ্ঠ দেশে শাসক-শাসিতের দ্বনদ্বতো আছেই, অধিকাংশ শাসকই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। আবার অনেক শাসকই চিহ্নিত ইসলামবিরোধীদের দোসর-ক্রীড়নক। আবার গরিষ্ঠ মুসলমানরা বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীন জীবনের মাঝে সুবিধা ও অধিকার বঞ্চিত।
মুসলিম বিশ্বের আগ্রাসন ও এর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রাযুক্তিক ও অন্যবিধ বহিঃপ্রকাশ বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রধান বিষয়বস্তু। পাশ্চাত্য, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী অবস্থানকে চিত্রিত করে মুসলিম বিশ্বের সামনে পুঞ্জিভূত চ্যালেঞ্জসমূহকে উপস্থাপন ও এ থেকে পরিত্রাণের দিক নিদের্শনা আজকে মুসলিম উম্মাহর সামনে একটি বড় কর্তব্য। একই সঙ্গে আফগানিস্তান, ইরাক, কাশ্মীর, কসোভো, চেচনিয়া, ফিলিস্তিন, আলজেরিয়া, ইরান, তুরস্ক, সুদান প্রভৃতি দেশে বিদ্যমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করাও জরুরি। মিসরের ইসলামপন্থীদের বিজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতন্ত্রের কাঠামোর মধ্যেই সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদের পরাজয় ঘটানোর পথ খুঁজে বের করাও একটি প্রয়োজনীয় কাজ। বিশেষ করে, মধ্যপ্রাচ্য ও উপমহাদেশের মুসলিম নির্যাতনের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার মাধ্যমে ইঙ্গ-মার্কিন-ইসরাইল-ভারতের ইসলামবিরোধী একই সূত্রবদ্ধ অবস্থানকেও সনাক্ত করা এবং এই চক্রকে নস্যাৎ করে ইসলামের বিজয়কে নিশ্চিত করাও একটি মহান কর্তব্য। এই জন্য নিরন্তন গবেষণা, অধ্যয়ন ও চর্চার মাধ্যমে ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব যেমন প্রতিপন্ন করতে হবে; তেমনি প্রতিপক্ষের অসারতাও প্রমাণ করতে হবে।
বিশ্ব একটি শান্তিপূর্ণ মানব বসতি ক্ষেত্র ও সকলের নিরাপদ জীবন ধারণের অঙ্গন হোক, এ প্রত্যাশা দৃশ্যত সকলেই করেন। কিন্তু এ শান্তিকামী প্রত্যাশার প্রতি সৎ আচরণ সকলেই করেন না। শক্তিমানরা তো করেনই না। আর করেন না বলেই আজ বিশ্বব্যাপী এতো বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি। এ দুরবস্থার আশু পরিবর্তন হওয়া দরকার। কিন্তু সে পরিবর্তন এমনিতেই চলে আসবে না। এর জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা। আগ্রাসনের হাত থেকে বাঁচার জন্যে মুসলমানদের সামনে অবিরাম প্রচেষ্টা চালানোর আজ আর কোন বিকল্প নেই।
প্রশ্ন উঠতে পারে যে, এ জন্য প্রচেষ্টার ধরন ও প্রকৃতি কি হবে? এ প্রচেষ্টা কি হবে জ্বিহাদ বা সশস্ত্র ধর্মযুদ্ধ; আক্রমণের প্রতি পাল্টা-আক্রমণ; হিংসা বা হত্যার বদলে হত্যার মধ্যে নিহিত? নাকি চিন্তা ও কর্মে সর্বক্ষেত্রে নিজেকে আগ্রাসনমুক্ত রাখার অভীক্ষা? সন্দেহ নেই, এ ক্ষেত্রে মুসলিম ধর্মবেত্তাদের সুচিন্তিত, হটকারীমুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মুসলমান ও ইসলামের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের মোকাবেলায় এমন পথ ও কর্মপন্থা বের করতে হবে, যাতে অশান্তি বৃদ্ধি না পায় এবং শান্তি সুনিশ্চিত হয়।
প্রাসঙ্গিকভাবে আমরা ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য থেকে বর্তমান সংকট মোকাবিলার উপায় খুঁজে বের করতে পারি। দেখা গেছে যে, ইসলামের আদি পর্বে যত যুদ্ধ হয়েছে, তার একটিরও প্রথম আক্রমণকারী মুসলমানরা ছিলেন না। মুসলমানদের উপর আক্রমণ করা হলেই কেবল আত্মরক্ষা ও প্রতিরোধস্বরূপ যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন তারা। ফলে কথায় কথায় জ্বিহাদে নেমে যাওয়ার খুব একটা সুযোগ ইসলামে নেই। ইসলাম ও মুসলমানরা নিজের এবং অপরের নিরাপত্তাকে সমান গুরুত্ব দেয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি দো‘য়া বা প্রার্থনা মুসলমানদের শিখিয়েছেন। এর বঙ্গানুবাদ হলো: ‘‘হে আল্লাহ্, আপনার নিকট আমি দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি, সর্বাঙ্গীন সুখ-শান্তি কামনা করি এবং দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা কামনা করি।”
দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তার অর্থ হলো: না কেহ আমার উপর জুলুম/নির্যাতন করে, না আমি কারো উপর জুলুম/নির্যাতন করি। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে যে, মুসলমানরা বিশ্বব্যাপী একতরফাভাবে জুলুম/নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য সবচেয়ে আগে এমন প্রচেষ্টা নিতে হবে, যা মুসলমানদে নানা দিক থেকে ঐক্যবদ্ধ, যোগ্য ও নিরাপদ করবে। আর এ সাফল্যের জন্য তাদের সামনে অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে মাত্র দু’টি অবলম্বন: ১. আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলার প্রেরিত কিতাব আল কুরআন; এবং ২. নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন-কর্ম-কথার সমষ্টিতে বিনির্মিত তাঁর অনুসৃত আদর্শ বা সুন্নাত।
এই দুই শাশ্বত অনুপ্রেরণা ও শক্তিস্থলের বাইরে অন্য কোথাও সমাধানসূত্র তালাশ করা হলে সাফল্য অসম্ভব হবে। বস্তুতপক্ষে, কুরআন ও সুন্নাহর বাইরে গিয়ে কুফরী-শেরেকি-বেদাতি পথে সমাধান খোঁজা ‘তাকওয়া’-এর খেলাপ এবং সেটা মুসলমানের আদর্শ হতে পারে না। পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার আর ইসলামের প্রথম জ্বিহাদের মাস রমযান আমাদের সামনে অনেক সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে। এ মাসে পবিত্র কুরআন অধ্যয়নের মাধ্যমে আর ইসলামের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন-কর্ম-কথায় অনুসৃত আদর্শ বা সুন্নাত পালনের মাধ্যমে মুসলমানরা আত্ম-উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালাতে পারে এবং আবার নিজেদের উজ্জ্বল আদর্শস্বরূপ উপস্থাপনের মাধ্যমে আগ্রাসনমুক্ত শাস্তির বিশ্ব গড়ার শপথ নিতে পারে। মাহে রমযান হলো প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের মাসও। রোজাব্রত পালনের কৃচ্ছতা সাধনের মাধ্যমে আমরা যেমন নিজের চিন্তা, চাহিদা ও চেতনার সকল অশুভ তাগিদকে পরাজিত করতে পারি, েেতমনি পারি বিশ্বের সকল অকল্যাণকে মিটিয়ে দিতে; আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, সাম্রাজ্যবাদের মত মানবতা-বিরোধী কাজের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে।
প্রসঙ্গত পবিত্র মাহে রমযান প্রতিটি মুসলমানকে প্রশিক্ষিত ও পরিশীলিত করার মধ্য দিয়ে আরও কতিপয় বিষয়ে পারঙ্গম করে তুলে। এর মধ্যে যেসব বিষয় রয়েছে, তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: ইতিহাস ও ঐতিহ্য সচেতনতা। একটি কথা কোনভাবেই ভুলে গেলে হবে না যে, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন: ‘‘তোমাদেরকে পাঠানো হয়েছে কল্যাণের জন্য। কারণ তোমরা মানুষকে কল্যাণের দিকে ডাকবে। সৎ কাজের আদেশ করবে আর অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে।”
অন্য আর এর স্থানে আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা বলেছেন: ‘‘তারচেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে যে মানুষকে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর দিকে, কল্যাণের দিকে ডাকে উত্তম ভাষা ও সদুপদেশের মাধ্যমে।”
অতএব, মুসলমান যদি তার উপর অর্পিত বিশ্বব্যাপী সর্বজনীন-কল্যাণকামীতার দায়িত্ব বিস্মৃত হয়, তাহলে পুরো বিশ্বের মতো তারাও অকল্যাণে নিপতিত হবে। আর যদি কল্যাণকামীতার প্রচার ও প্রসারে কুরআন ও সুন্নাহর প্রদর্শিত পথে চলে, তাহলে নিজেদের কল্যাণের সঙ্গে সঙ্গে সারা দুনিয়ার কল্যাণও নিশ্চিত করতে পারবে। পবিত্র মাহে রমযানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সর্বজনীন-কল্যাণের শাশ্বত চেতনায় সকল অকল্যাণ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মানবতাকে বিজয়ী করার পথে আমাদের এগিয়ে দিক। এই হোক আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও প্রার্থনা। খোশ আমদেদ মাহে রমযান। লেখক ঃ শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও কলামিষ্ট।

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান
পাঠানপাড়া (খানবাড়ি) কদমতলী, সদর, সিলেট-৩১১১
মোবাইলঃ ০১৯৬৩-৬৭১৯১৭

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close