সরকারের নীরব সম্মতিতেই বাংলাদেশ থেকে মানবপাচার চলছে

অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী

অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ বারবার সতর্ক করার পর সরকার মানবপাচারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। শুধু রেমিট্যান্স আসবে এই স্বার্থে সরকারের নীরব সম্মতিতেই বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে মানবপাচার চলছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিবাসন বিষয়ক গবেষণা সংস্থা রামরুর পরিচালক প্রফেসর ড. তাসনিম সিদ্দিকী।
রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশিজ’ আয়োজিত হিউম্যান ট্রাফিকিং- বাংলাদেশিজ প্রিপারেন্ডস শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘সরকারকে এ বিষয়ে আমরা আগেই বলেছিলাম, এমনকি গণমাধ্যমেও এসব আগে এসেছিল। আসলে সবাই দায়িত্ব পালন করেছে, কেবল সরকার তার জায়গায় নেই। আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে কথা বলেছি। তারা বলেই ফেলেছেন- যাক না, রেমিট্যান্স তো আসবে! কিছু মরলেও কিছু তো বাঁচবে, তারা রেমিট্যান্স পাঠাবে। এটা তাদের (সরকারের) নীরব সম্মতি।’
তিনি আরো বলেন, ‘স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ বিদেশ যাচ্ছে না। তাদের লোভ দেখিয়ে, ব্রেইনওয়াশ করে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু তারা আর ফিরছে না। এর সাথে জড়িত পুলিশ, জনপ্রতিনিধিরা। এদের নামও চলে এসেছে। এরা রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিচ্ছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও এদের তালিকা এসেছে, কিন্তু সরকারই আবার তাদের রক্ষা করছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে গণকবর আবিষ্কার এবং গভীর সমুদ্রে নৌকা আটকা পড়া শত শত মানুষ উদ্ধার ঘটনার পর সরকার তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে ক্রসফায়ারে দিয়েছে। বেশ ক’জন আটকও হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে অধ্যাপক তাসনিম বলেন, ‘মানবপাচারের জন্য থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া ব্যবস্থা নিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রসফায়ার করছে নিম্নপর্যায়ের দালালদের। তারা দালালদের ধরছে না, কারণ তাতে উপরের ব্যক্তি চলে আসবে।’
মানবপাচার রোধে আইনের দুর্বতা ও অপব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের আইনেও ঝামেলা রয়েছে। কথা হচ্ছে, কোন আইনে ব্যবস্থা নিবেন? এক আইনে ধরা হচ্ছে আবার অন্য আইনে তাদের ছেড়ে দিচ্ছি। আবার ইচ্ছে করেই এসব অপরাধ অজামিনযোগ্য করা হচ্ছে না। এসবের সাথে সরকারের নীতি নির্ধারকরাও জড়িত। তারা রোহিঙ্গাকে দায়ী করছে, কিন্তু জড়িত জনপ্রতিনিধিদের করছে না।’
সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব প্রতিরোধে সরকারের সমাধান অনেকটা ইগোয়েস্টিক। এটা প্রকৃত সমাধান না। বুঝতে হবে, ক্লাইমেট চেঞ্জের জন্য মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। তাদের কর্মসংস্থান নেই। আবার তাদের ঢাকায়ও ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না, কারণ তারা নাকি চুরি করবে। দ্রুত আন্তঃকর্মসংস্থানের সমন্বয় করতে না পারলে বিদেশিরা সুযোগ নিবে। কারণ দেশে কাজ না থাকলেও তো তাদের ফাঁদ পাতার সুবিধা বাড়বেই।’
গোলটেবিল বৈঠকে লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের সাবেক কাউন্সিল চেয়ারপারসন শাহজাহান খাদেম বলেন, ‘মানবপাচার রোধে লোকাল লেভেলে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এছাড়া পাসপোর্ট ছাড়া কেউ যেন দেশে যাওয়া-আসা না করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাপাশি যে বিদেশিরা এসব অপরাধে জড়িত তাদের শাস্তি নিশ্চিত সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।’
বৈঠকে আরো বক্তব্য দেন আয়োজক সংগঠনের চেয়ারপারসন শেকিল চৌধুরী, মো. জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close