ইমন অপহরন ও হত্যার ঘটনায় ঘাতক ইমামসহ ৩জনকে ৪দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

Emonমিজানুর রহমান ফজলু, ছাতক  প্রতিনিধি: ছাতকে স্কুল ছাত্র শিশু ইমন অপহরন ও হত্যাকান্ডের ঘটনায় বাতিরকান্দি শাহ জালাল জামে মসজিদের ইমামসহ তিন জনকে ৪দিনের রিমান্ডে এনেছে পুলিশ। শিশু ইমনের মৃতদেহ উদ্ধারসহ হত্যাকান্ডের তথ্য উদঘাটন করতে ইমন অপহরন ও হত্যাকান্ডের মুল ঘাতক বাতিরকান্দি গ্রামের শাহ জালাল জামে মসজিদের ইমাম, উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের ব্রাহ্মনজুলিয়া গ্রামের মৃত মখলিছ মিয়ার পুত্র সুয়েবুর রহমান সুজনসহ তার সহযোগী বাতিরকান্দি গ্রামের আবদুর রহমানের পুত্র রফিকুল ইসলাম এবং একই গ্রামের আবদুস সালামের পুত্র জাহেদকে বুধবার সুনামগঞ্জের চীফ জ্যুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শ্যাম কান্তি সিনহার আদালতে হাজির করে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ৮এপ্রিল একই ঘটনায় বাতিরকান্দি গ্রামের নুরুল আমিন ও আবদুল বাহারকে ৩দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এদিকে ইমন অপহরনের ২১দিন ও ঘটনার মুল ঘাতক সুজন গ্রেফতারের ১০দিন অতিবাহিত হলেও ইমনের মৃতদেহ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ইমনের লাশ উদ্ধারে পুলিশ সব ধরনের কৌশল অবলম্বন করলেও ঘাতকদের দেয়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারনে লাশ উদ্ধারে বিলম্বিত হচ্ছে। ঘাতক ইমামকে ৮এপ্রিল দক্ষিণ সরমার কদমতলী বাসষ্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তি মতে সুজনকে সাথে নিয়ে পুলিশ অপহৃত ইমনের মৃতদেহ উদ্ধারে ওইদিন বাতিরকান্দি গ্রামের দু’টি খালসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশী চালায়। পানির পাম্প বসিয়ে খালের পানি নিষ্কাশন করে দিনভর ব্যাপক তলাশী চালিয়ে ব্যর্থ হলেও ইমনের বসতঘর সংলগ্ন মসজিদের সিড়িঁর পাশের একটি গর্ত থেকে রক্তমাখা লুঙ্গির অংশ, তোয়ালে, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বিষের বোতল, একটি ছুরি ও সুজনের কাছ থেকে তার ব্যবহৃত বিভিন্ন কোম্পানীর ১৯টি সীম উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এসময় তার সহযোগীরা খাল থেকে ইমনের বস্তাবন্দি লাশ অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে বলে ঘাতক ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজন পুলিশকে জানায়। এদিকে ইমনের পরিবারে বইছে শোকের মাতম। পুত্র শোকে কাতর ইমনের মার নির্বাক চোখ দু’টি শুধুই ইমনকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। প্রবাসী জহুর আলী শিশুপুত্রকে হারিয়ে ভেঙ্গে পড়েছেন। তার প্রশ্নই একটা-কোন অপরাধে তার শিশু পুত্র ইমনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এসব ঘাতকরা। তিনি ঘাতকদের আরো নির্মম শাস্তি দাবি করেন। ইমন অপহরন ও হত্যাকান্ডের ঘটনায় ইমাম সুজনসহ এ পর্যন্ত ৫জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে দ্বিতীয় দফা।

প্রসঙ্গত, গেলো ২৭ মার্চ নোয়ারাই-দোয়ারাবাজার সড়কের বাতিরকান্দি গ্রামের নিজ বাড়ির সামন থেকে ইমন অপহৃত হয়। ওইদিন মোবাইল ফোনে ২লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরনকারিরা। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন-অর রশীদ চৌধুরী আসামিদের রিমান্ডে আনার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গুরুত্বপূর্ন তথ্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।