জৈন্তাপুরে সাংবাদিককে আটকে রেখে আ’লীগের লিয়াকত বাহিনীর নির্যাতন

Journalist Sabbirসুরমা টাইমস ডেস্কঃ দৈনিক সবুজ সিলেট পত্রিকার জৈন্তাপুর প্রতিনিধি রেজোয়ান করিম সাব্বিরকে অফিস থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছে আওয়ামীলীগ নেতা লিয়াকত আলী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধায় লিয়াকত আলীর ভাতিজা যুবলীগকর্মী সোহেল মিয়ার নেতৃত্বে ৩০/৪০ জন যুবলীগ ও ছাত্রলীগকর্মী সাংবাদিক রেজোয়ানের অফিসে এসে বৃহস্পতিবার দৈনিক সবুজ সিলেট পত্রিকায় ‘জৈন্তায় খাসিয়াদের পানপুঞ্জি দখলে নিলেন আ’লীগ নেতা’ সংবাদের প্রকাশের কারণ জানতে চায়। এ সময় তাদের সাথে যাওয়ার কথা বলে। রেজোয়ান এ সময় অপারগতা প্রকাশ করলে অফিসের কম্পিউটার ভাংচুর ও আশেপাশের দোকানে হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা। বাইরে অবস্থানরত ছাত্রলীগ কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে রেজোয়ান ধরতে উদ্যত হয়।
পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে লিয়াকত আলীর অফিসে গেলে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। ‘এখন তোর কোন বাপ তোকে রক্ষা করবে’ বলে গালি দেন লিয়াকত। এ সময় তাকে আর সাংবাদিকতা না করার ও পত্রিকার লিয়াকত আলীর পক্ষে সংবাদ করার জন্য লিখিত চান। রেজোয়ান লিখিত দিতে না চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়। পরে প্রতিবাদ দেওয়া হবে মর্মে ছাড়া পান সাব্বির। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরর প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাব্বির।
তবে, তাৎক্ষনিক এ অফিস থেকে সিলেটের পুলিশ সুপার সুপার নুরে আলম মিনাসহ র‌্যাব কার্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনে জানানো হয়।
২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সামনে চলে আসেন লিয়াকত। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদের নাম ব্যবহার করে দখল, চাকরির তদবির, কমিশন বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেন। তার দাপটে আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা অতীষ্ট হলেও এমপির আস্থাভাজন হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পাননা। এর মধ্যে লিয়াকত একটি সন্ত্রাসী বাহিনি গড়ে তুলেন।
তবে, নাম প্রকাশে একাধিক আওয়ামীলীগ নেতা জানান- এমপিকে একটা অংশ দিয়েই লিয়াকত তার অপকর্ম করে যাচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিকরাও তার দখল, লুটপাট ও কমিশন বাণিজ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশে ভয় পান।
এ ব্যাপারে লিয়াকত আলীর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে কল করলে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ঘটনার সময় লিয়াকত আলীর সাথে থাকা তার সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুল ইসলাম সবুজ সিলেটকে জানান, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন। তবে সাব্বিরকে তুলে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, সাব্বিরকে ডেকে নিয়ে সংবাদ সম্পর্কে চাওয়া হয়েছে। লিখিত কোনো কিছুৃ নেয়া হয়নি। প্রমান করতে পারলে যত পারেন রিপোর্ট করবেন।

আরও পড়ূনঃ

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close