সিলেটে ২০ দলীয় জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে হাফিজ হারুন গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা

বিচার বিভাগের উপর বাকশালের কালো থাবা বিস্তারের হীন চেষ্টা জাতি প্রত্যাখ্যান করেছে
—- আলহাজ্ব এম.এ হক

20 Dolio Jut Sylhet City & Dist Photo 10-09-14সিলেট মহানগর ২০ দলীয় জোট-এর আহ্বায়ক ও সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এম.এ হক বলেছেন, ১/১১ এর ফখর-মঈন সরকারের সাথে গোপন চুক্তির মাধ্যমে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গিয়ে গনতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে তুলেছে। ৫ জানুয়ারীর প্রহসনের নির্বাচন জনগণ প্রত্যাখ্যান করায় তারা বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় গিয়ে একের পর এক গণবিরোধী আইন পাস করে তাদের অবৈধ ক্ষমতার মসনদ দীর্ঘায়িত করতে উঠে পরে লেগেছে। দেশবাসীর বিচারপ্রাপ্তি শেষ ভরসাস্থল হচ্ছে সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্ট। কিন্তু সরকার সেখানেও বাকশালের কালো থাবা বিস্তার করতেই বিচারপতিদের অবিশংসনের ক্ষমতা অবৈধ সংসদের হাতে ন্যস্ত করার কালো আইন পাস করতে যাচ্ছে। এই কালো আইনের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আইনজ্ঞ ও সিনিয়র আইনজীবিরা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এমনকি আওয়ামী সরকারের বিগত সময়ের আইন মন্ত্রীও এই আইনের বিরোধীতা করছেন। কিন্তু সরকার সর্বোচ্চ আদালতকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে নির্মূলের লক্ষ্যে এই কালো আইন পাস করার যে উদ্যোগ নিয়েছে দেশপ্রেমিক জনতা তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০ দলীয় জোট সিলেট মহানগরের সদস্য সচিব ও নগর জামায়াতের নায়েবে আমীর হাফিজ আব্দুল হাই হারুনকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এম.এ হক বলেন, সরকার দলের আভ্যন্তরিন সন্ত্রাসের শিকার হয়ে খুন হওয়া কর্মীর মিথ্যা মামলার দায় চাপিয়ে হাফিজ আব্দুল হাই হারুনের মতো নিরপরাধ মানুষকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারে সিলেটবাসী বিক্ষুব্ধ। অবিলম্বে হাফিজ হারুন সহ দেশব্যাপী আটককৃত ২০ দলীয় জোটভুক্ত দলসমূহের অঙ্গসংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় শান্তিপ্রিয় সিলেটবাসী কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী সরকারকে অবৈধ ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করেই ছাড়বে ইনশাআল্লাহ।
তিনি গতকাল বুধবার ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বিচারপতিদের অবিশংসনের ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত করার কালো আইনের প্রতিবাদে সিলেট জেলা ও মহানগর ২০ দলীয় জোট আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্যানেল মেয়র রেজাউল কয়েস লোদী ও নগর জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ আল মুনিমের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি শফি আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট মাওলানা আব্দুর রকিব, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি তারেক আহমদ চৌধুরী, মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী মাওলানা সোহেল আহমদ, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মো: শাহজাহান আলী, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট জিয়াউদ্দিন নাদের, লেবার পার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, মহানগর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন আহমদ মাসুক, ইসলামী ঐক্যজোট সিলেট জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা জহুরুল হক, এনডিপি সিলেট মহানগর সভাপতি জসিম উদ্দিন, জেলা বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিছবাহুল কাদির ফাহিম, মহানগর বিএনপি নেতা এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা এডভোকেট ফয়জুর রহমান জাহেদ, ডা: আশরাফ আলী, আব্দুল জব্বার তুতু, আজমল হোসেন, আব্দুল আহাদ হেলাল, আব্দুস শুকুর, মুফতি নেহাল উদ্দিন, লায়েছ আহমদ, শেখ ইলিয়াস আলী, জালাল উদ্দিন শামীম, মনতাজ হোসেন মুন্না, সিরাজ খান, সেলিম আহমদ, কয়েস আহমদ সাগর, মুকুল মুর্শেদ, এডভোকেট ফখরুল হক, উজ্জ্বল চন্দ্র, মহানগর জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল মুকিত, মাওলানা মুজিবুর রহমান, ক্বারী আলাউদ্দিন, মু. আজিজুল ইসলাম, চৌধুরী আব্দুল বাসিত নাহির, বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন, জাকির হোসেন মজুমদার, গাজী আশরাফ, রেজাউল করিম আলো, জহির হোসেন পীর, শরফরাজ আহমদ চৌধুরী, জেলা ও মহানগর ছাত্রদল নেতা আহমদ চৌধুরী ফয়েজ, রেজাউল করিম নাচন, অর্জুন ঘোষ, হানুর ইসলাম ইমন, আলাল আহমদ, কল্লোল জ্যোতি বিশ্বাস, জাহেদ আহমদ তালুকদার, আব্দুল মালেক, জয়নুল ইসলাম, জয়নুল হক, জহুরুল ইসলাম রাসেল, আবু সাদাত সায়েম, হারুনুর রশিদ, উজ্জ্বল রঞ্জন চন্দ, এখলাছুর রহমান মুন্না, রেজুওয়ান আহমদ, আলীম আহমদ, শাহজাহান আহমদ, সায়েম আহমদ, হৃদয় খান, মিজান আহমদ, জাহেদ হোসেন প্রমুখ।
সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম বলেন, গ্রেফতার নির্যাতন হামলা মামলা চালিয়ে দেশপ্রেমিক জনতার আন্দোলন দমিয়ে রাখা যায় না। মহানগর ২০ দলীয় জোটের সদস্য সচিব হাফিজ আব্দুল হারুনকে গ্রেফতার করে সরকার চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। প্রয়োজনে হাজার হাজার দেশপ্রেমিক জনতা স্বেচ্ছায় কারাবরণ করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবুও অবৈধ সরকারের সাথে কোন আপোষ করবে না। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করার হীন প্রচেষ্টা থেকে সরকারকে সরে আসার দাবী জানান তিনি।
মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিচার বিভাগের উপর বাকশালের কালো থাবা পড়তে যাচ্ছে। দেশ তথা বিশ্বের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় আইনজীবিগণ বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আওয়ামীলীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বিধায় জনমতের প্রতি তাদের কোন শ্রদ্ধাবোধ নেই। ৭২ থেকে ৭৫ মাত্র ৩ বছরে আওয়ামীলীগ ৪টি সংশোধনীর মাধ্যমে ক্ষমতার মসনদ চিরস্থায়ী করতে বাকশালী প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু তাদের সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। পুনরায় বাকশাল প্রতিষ্ঠায় যে ঘৃণ্য পথে আওয়ামীলীগ হাটছে এর জন্য তাদেরকে লজ্জাজনক পরিণতি ভোগ করতে হবে। চলমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন দমিয়ে রাখতে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় নিরীহ নগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ও মহানগর ২০ দলীয় জোটের সদস্য সচিব হাফিজ আব্দুল হাই হারুনকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ শান্ত নদীর কুল দেখেছে কিন্তু বঙ্গোপসাগরের উত্তাল তরঙ্গমালা দেখেনি। তারা মৃদুমন্দ বাতাস দেখেছে কিন্তু কাল বৈশাখীর উন্মত্ততা দেখেনি। গ্রেফতার নির্যাতন বন্ধ করে হাফিজ আব্দুল হাই হারুন সহ জোটের নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে দুর্বার গণরোষে আওয়ামী অবৈধ সরকারের মসনদ তছনছ হয়ে যাবে।

Pin It on Pinterest

Share This

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close